আমার নাম ''হরতাল'' । ভারতের গূজরাটি ভাষায় আমার নামকরন করা হয়েছে । আমি মানূষ নই, কোন প্রানী ও নই । কারো খাদ্য দ্রব্য বা কোন জড়পদার্থ ও নই ।আমি তোমাদেরই আবিস্কৃত একটি শব্দ মাত্র । প্রথমে আমার জন্ম কাহিনী শূনাচ্ছি । তোমরা হয়তো ভারতের অবিস্মরনীয় নেতা মোহন দাস করমচাঁদ গান্ধীকে চিনবে ? বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একদা সত্য ও অহিংসার সাধনা,মানব প্রেম ও সমাজসেবার জন্য তাকে 'মহাত্মা' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন । সেই মহাত্মা গান্ধী ; কর্মময় জীবনের প্রাক্কালে দক্ষিন আফ্রিকায় আইন ব্যাবসায় লিপ্ত ছিলেন । সেখানে তিনি অনিবার্য কারনে প্রবাসী ভারতীয়দের পক্ষে শ্বেতাঙ শাসকদের বিরোদ্্বে প্রথম হরতাল ঘোষণা করেন । এর পর 1919-সালের 9-ই এপ্রিল ইংরেজ বেনিয়াদের দুঃশাসন,জুলুম-অত্যাচারের প্রতিবাদে আরেকটি হরতাল পালিত হয় । মহাত্মা গান্ধী ছিলেন গূজরাটি ব্রাক্ষণ এবং তাহার মুখ নিঃসৃত ''হরতাল''কথাটি একটি গূজরাটি শব্দ । সে থেকেই আমাকে সকলে হরতাল বলেই ডাকে । এই দূনিয়ায় যারা সৃস্টি হয়ে আসে তাদের সকলেই একটি কাজ বা দ্্বায়িত্য নিয়ে আসে । তদ্রূপ আমিও তোমাদের কল্যাণে জালীম-অত্যাচারী শাসকদের বিরোদ্্বে, নিরীহ জনগনের পক্ষে, সত্য-ন্যায়ের অধিকার আদায়ে কাজ করি । আমি স্বাধারন একটি শব্দ হলেও আমার প্রতিবাদের শক্তি অনেক । আমার শক্তিমত্তায় শহর,বন্দর এমন কি সারাদেশ অচল করে দিতে পারি । তবে আমার একটি নীতি বা আদর্শ আছে ;তাহল শাসক গোষ্ঠীর অন্যায় জুলুমের বিরোদ্্বে সাময়িক কর্ম বিরতির মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদ । আমি পরদেশি হলেও তোমাদের বাংলাদেশের নিরীহ জনগনের পাশে এসে সব সময় একাত্মতা প্রকাশ করেছি । তোমাদের মাতৃভাষা,স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে নিয়ে স্বৈরাচার বিরোদী আন্দোলনেও আমি অবদান রেখেছি । একথা কি তোমরা অশ্বীকার করতে পারবে ? সম্প্রতি তোমরা ভয়ানক স্বার্থপর ও অকৃতগগ হয়ে হয়ে উঠেছ । তোমরাই এখন আমার নামে জ্বালাও-পোড়াও,ভাংঙছুর করে আমার আদর্শে চুন-কালি দিতেছো । নিরীহ জনগনের জান-মাল ধংস করতেছো । আ..হারে..এই তো সেদিন 'আমিরহোসেন'নামক এক নিরীহ ঠেক্সি চালককে গায়ে পেঠ্রোল ডেলে নির্দয় ভাবে হত্যা করেছো । আমি সম্পুর্ন নির্দোষ । কিন্তু তোমরা সব দোষ আমার কাধেই ছাপিয়ে দিয়েছো । গত কিছু দিন ধরে তোমাদের অত্যাচারে,মিত্যা অপবাদে আমি নিজেই আন্দোলনের ভাষা হারিয়ে ফেলেছি । নিরীহ জনগনের কাছে আমি এখন জগন্য খুনি, ত্রাস সৃস্টিকারি মহা দানব হিসাবেই পরিচিত । এই দুর্নাম , এই কলংখ থেকে আমি মুক্তি চাই । চোখের সম্মুখে এই হদয়হিন আচরন প্রত্যক্ষ করার চেয়ে মৃর্ত্যুই শ্রেয় । তোমাদের এক নেত্রী শেখ হাসিনার মুখ থেকে আশারবাণী শূনেছিলাম ।মনে মনে আশা বেধে ছিলাম যে, এত ব্যার্থতা মাথায় নিয়েও যদি শান্তিতে মরতে পারি ...। আত্মহত্যা মহাপাপ ; নইলে........। তবে অপেক্ষায় আছি কখন সংসদে আইন পাশ করে আমার মৃর্ত্যুদন্ড কার্য্যকর হয় ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




