তারা প্রতিমা পূজা করত । তারা তাদের দেব-দেবীকে আল্লাহর অংশীদার মনে করত ।
এ জাতির মধ্যে একটি বিশেষ শ্রেনী সৃষ্টি হয়ে ছিল ,
যারা ধর্মীয় , রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার মালিক হয়ে বসে ছিল । তারা মানুষের মধ্যে উচ্ছ নিছের ভেদাভেদ সৃষ্টি করে ছিল । এক দিকে জনসাধারণকে অর্থনৈতিক শোষণ করত , অপর দিকে নানারকম সামাজিক পাপাচারের মধ্যে লিপ্ত রাখত ।
এরই মধ্যে হজরত নূহ ( আঃ ) 40-বছর বয়সে নবুয়তী লাভ করেন । তিনি 950 বছর দুনিয়ায় বেঁচে ছিলেন । এই দীর্ঘ 910 বছর যাবৎ তার জাতিকে সুপথে আনার ব্যাপারে চেষ্টার একটুও ক্রুটি করেননি । বরং তিনি তাদের নানা রকম নির্যাতনের স্বীকার হতেন । তাদের প্রহারের চোটে তিনি অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়তেন । কখন কখন ও তাকে গলা টিপে ধরা হত । তখন তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়তেন । এত কিছুর পরও তিনি তার জাতির কল্যাণের জন্য দোয়া করতেন । অনেক চেষ্টার পরও তাহারা নাফরমানী ছাড়লনা । অবশেষে তিনি দুঃখ করে বললেন ঃ -''হে আল্লাহ ! আমি আর পারছিনা ! আমাকে সাহাজ্য কর ''। তখন আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে সব ধরনের প্রাণীর এক এক জোরা, পরিবারের সদস্যদের ও সকল ঈমানদারকে তার নৌকায় তুলে নেন । শেষে অবিরাম বর্ষণের ফলে ভয়াবহ প্লাবন দেখা দেয় ।
পরে আল্লাহর নির্দেশ এল ঃ ''হে পৃথিবী ! তোমার পানি গিলে ফেল এবং হে আকাশ ! থেমে যাও । সেই মত পানি থেমে গেল, কাজ শেষ হয়ে গেল এবং নৌকা জুদী (পর্বত) এর উপর থেমে গেল '' । ( 11 সুরা হূদ ঃ 44 মধ্যাংশ )
জানা যায় জুদী ও আরারাত একই পর্বতমালার দু'টি অংশ । বিভিন্ন তথ্য থেকে আন্দাজ করা হয় যে , গোটা মানবগোষ্ঠি কোন এক সময় হয়তো একটি ভূখন্ডেই বসবাস করত । ঐ প্লাবনের পর তারা বিভিন্ন সহানে ছড়িয়ে পড়েছে ।
বর্ণিত আছে যে , নূহ (আঃ ) এর নৌকা ছয়মাস যাবৎ তুফান ও প্লাবনের মধ্যে ছিল । নৌকাতে মোট 80 জন মুমিন ব্যাক্তি ছিলেন । তার চাঁর পুত্রের মধ্যে চতুর্থ পুত্র'' কেনান'' ও তার মা বাকি সব কাফিরদের সাথে প্লাবনে ডুবে মারা যায় ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



