somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভুলোমন মানুষ

৩০ শে মার্চ, ২০০৬ দুপুর ১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবনের চলার পথে আমরা অনেকেই অনেক কিছু ভুলে যাই । ভুল হলে অনেক সময় তার ক্ষতিও গুনতে হয় । ভুলোমন মানুষদের নিয়ে অনেক রসবোধসম্পন্ন গল্পও আছে ।
হিসাব করলে দেখা যাবে যে, আমরা কম-বেশী সবাই ভুলোমন ।
যেমন, রিক্সা থেকে নেমে ভাড়া দিবেন , হাত পকেটে ঢুকায়ে দেখবেন মানিব্যাগ নেই । রেস্টুরেন্টে পরম আয়েশে এক কাপ চা-এর অর্ডার দিয়েছেন, সাথে দুইটা সিঙারা, পান আর একটা চুরূট । দিতে দেরী হচ্ছে বলে হাঁকিয়েও উঠলেন । যাক একটু পর যখন বিল দিতে যাবেন তখন স্মরণ হলো হায় ! হায় ! টাকা তো বালিশের তলে রেখে এসেছি । তখন আপনাকে ডাইরেক্ট ধোলাইখালে পাঠিয়ে দেওয়া হবে না আদর করে আরেক কাপ চা খেতে দেওয়া হবে ? ভাবেন তো একটু ।

বন্ধুর কাছে 5-6 বার মিসকল দেওয়ার পরও যখন কল ব্যাক হলনা তখন আপনি ডাইরেক্ট ডায়াল করে
বলতে লাগলেন 'কি..রে..মুখলেছ ! ভালো আছছ তো দোস্ত..!'' ওপার থেকে কর্কশ মহিলাকনঠের আওয়াজ শূনে হয়তো ভুল ভাঙবে । চাঁরের সহলে আট মেরে বসেছেন, বুঝতে পেরে লজ্জিত হবেন ।

বাজার থেকে সওদা-পাতি কিনে বাড়িতে এলেন, কিন্ত ভুলে চা-পাতা আনেন নাই বিধায় বউয়ের বকুনিটাও হজম করতে হবে ।
আবার খেতে বসেছেন, দেখলেন তরকারীতে ভুলে লবন দেওয়া হয়নি তখন মেজাজটা কেমন হবে ?

মনের ভুলে আমরা প্রয়োজনীয় লোকের ঠিকানা হারিয়ে ফেলি, মোবাইল নম্বর হারিয়ে ফেলি ।
অফিসে কিংবা রেস্তোরায় ছাতা ফেলে আসি । কলম কিংবা সিগারেট, দিয়াশলাই ফেলে আসি ।
আবার এরকমও হতে পারে যে, অফিসে এসে মাত্র চিয়ার ঠেনে বসেছেন তখন মনে খটকা লাগবে বাসার দরজা তালা দিয়ে এসেছেন কি-না !

সরল প্রকৃতির এক ভুলোমন স্বামীর একটি গল্প কোথায় জানি শূনে ছিলাম ।
যে, ভদ্রলোক বাজারে গিয়েছিলেন । হাতে একটা বিরাট লিস্টি । সেই লিস্টিতে জামা,কাপড়,তরি-তরকারী , মাছ,মাংস সবই রয়েছে । সব কিনে-কেটে তিনি একটা ট্যাক্সি ধরলেন । কিন্ত তার মনে হলো তিনি কি যেন একটি জিনিস ফেলে যাচ্ছেন । হাতের লিস্টির সাথে সব কিছু তিন -চাঁরবার মিলালেন । না সবই তো ঠিক আছে । পকেটে হাত দিয়ে দেখলেন মানিব্যাগ, কলম,সিগারেট, মোবাইল সব ঠিক-ঠাক আছে । তবুও বার বার মনে খটকা লাগছে , কি যেন ফেলে এসে....ছি.. । সমস্যার সমাধান হলো বাড়িতে ফিরে । ট্যাক্সি থেকে জিনিসপত্র নিয়ে নামা মাত্রই তাঁর মেয়ে জিজ্ঞাসা করল ''বাবা ! মা কোথায় '' ?
শূনা মাত্র তার ভুলোমন বাবার মুখ থেকে জলন্ত চুরূটটা মাটিতে খসে পড়ল । কোথায় যে স্ত্রীকে ফেলে এলেন ! কে জানে ।

আমি আমার কথাই বলি ঃ এই লেখাটি পোষ্ট করার সময় মনে হলে আমিও যেন কোথায় ভুল লিখে ফেলেছি ।
রোজাদার ব্যাক্তি যদি ভুল করে কিছু খেয়েও ফেলে তাহলে আল্লাহ তায়ালাও নাকি তাঁকে ক্ষমা করে দিবেন ।
আমার লেখায়ও যদি কোন ভুল ধরা খায় তাহলে ক্ষমা করে দিয়েন । কি করব ভুলোমন মানুষ যে আমি.............
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×