গত কাল পোষ্ট করা আমার ঈদে মিলাদুন্নবী সংক্রান্ত লেখাটির উপর আপত্তি তুলেছে দীক্ষক দ্রাবীড় । তার জবাব অবশ্যই দিতে হবে । তবে কোনরূপ প্যাচাল না বাড়িয়ে সহজ সরল ভাবে আমার বক্তব্য তুলে ধরছি ।
রাসূলুল্লাহ ( সাঃ ) বা অন্য কারো জন্মোৎসব পালন করা, প্রচলিত মিলাদ-কিয়াম, মাজারে যেয়ে মোমবাতি জ্বালানো, ইত্যাদি ইসলামে নতুন উদ্ভাবন । রাসূলে পাক ( সাঃ ) কখনও এ কাজ করেননি । তাঁর নিজের বা তাঁর পূর্ববর্তী কোন নবী বা কোন সাহাবীদের জন্মদিন পালনের কোন নির্দেশও দেননি । রাসূল ( সাঃ ) এর মৃর্ত্যুর পর কোন সাহাবী কিংবা তাবেয়ীনদের মধ্যে কেউ এসব কাজ করেননি । অথচ সুন্নাহ সম্পর্কে তাহারা আমাদের চেয়ে অধিকতর জ্ঞান রাখতেন । এবং আল্লাহর রাসূল ও তাঁর শরীয়ত পালনকে সর্বাধিক ভালবাসতেন । যদি এসমস্ত কাজ এমনই সওয়াবের হতো তাহলে তাঁরা আমাদের আগেই করে দেখাতেন ।
নবী করিম (সাঃ ) বলছেন ঃ
''আমাদের এই ধর্মে যে কেউ নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে তা প্রত্যাখ্যাত হবে '' । (বুখারী ও মুসলিম )
তিনি আরো বলছেন ঃ
''তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ পালন করবে । আর তা দৃঢ়তার সহিত ধারণ করবে । তবে সাবধান ! কখনও ধর্মে নব প্রবর্তিত কান বিষয় গ্রহন করবেনা । কেননা প্রত্যেক নব প্রবর্তিত বিষয়ই বিদআ'ত এবং প্রত্যেক বিদআ'তই পথ ভ্রষ্টতা '' ।
আল্লাহ তায়ালা বলছেন ঃ
''রাসূল ( সাঃ ) যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহন কর এবং যা কিছু নিষেদ করেছেন তা থেকে বিরত থাক'' । (সুরা হাশর-7)
রাসূল (সাঃ )এর উপর দুরূদ ও সালাম পাঠ করা নিঃসন্দেহে একটি ভাল আমল । এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক উত্তম পন্থা । তবে নবীজীর শিখিয়ে দেওয়া পন্থায় তা পাঠ করতে হবে । সব সময়ই দুরূদ পড়ার বৈধতা রয়েছে । বিশেষ করে নামাজের শেষে পড়ার জন্য তাগিদও দেওয়া হয়েছে । কিন্ত আমাদের উপমহাদেশের প্রচলিত নিয়মে পাঠ করা অবশ্যই বর্জনীয় ।
আমি আপনাদের বলব ঃ যে, মাগরীবের নামাজ 3-রাকআত । এখন কেউ যদি বেশী সওয়াবের উদ্দেশ্যে 4-5 রাকআত পড়েন তাহলে শুদ্ধ হবেনা ।
নামাজ পড়া সওয়াবের কাজ কিন্ত রাসূল ( সাঃ )এর শেখানো পদ্ধতি ছাড়া আদায় করলে সওয়াবের গন্ধই পাওয়া যাবেনা ।
12-ই রবিউল আউয়াল নবীজী ( সাঃ ) এর শূধু জন্ম তারিখই নয় বরং মৃতর্্যু তারিখও । তাহলে কোন যুক্তিতে এই দিনটিকে ঈদ হিসাবে পালন করব ?
তবে এই দিনে আমরা তাঁর ও তাঁর সাহাবীদের জীবনাদর্শ তথা সীরাত সম্পর্কে শিক্ষামূলক ভাবে আলোচনা করে উপকৃত হতে পারি । বিভিন্ন সভা সেমীনার করে তাঁর মহান আদর্শ সমাজে তুলে ধরতে পারি ।
এতে মানুষ নবীজীর ( সাঃ ) আদর্শে নিজেদের জীবন গড়তে উৎসাহিত হতে পারে ।
আরেকটি কথা স্মরণ রাখতে হবে যে, এধরনের মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠান কিংবা জন্মোৎসব পালন মাধ্যমে নবীজীর প্রতি ভালবাসা প্রতিফলিত হয়না । বরং তাঁর নির্দেশের অনুসরণ ও আনুগত্য এবং বিশ্বাস করার মাধ্যমেই প্রকৃত ভালবাসা নিহিত ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




