দীক্ষক দ্রাবীড় এবং আমি -দুনুজনই সুনাম গনজের বাসিন্দা । কিন্ত আদর্শগত দিক থেকে দুই জন দুই মেরূর মানুষ । তবে দীক্ষকের জ্ঞান ও বুদ্ধির পরিধির জন্য তাঁর প্রশংসা করতে হয় । তার কাছে আমার অনুরূদ শূধু যুক্তির খাতিরে যুক্তি উপসহাপন করলেই সব কিছুর সমাধান পাওয়া যাবেনা । গভীর ভাবে নিজে নিজেই চিন্তা করলে তা অনুভব করা যায় ।
তিনি তাবলীগ সম্মন্দে আমার স্পষ্ট বক্তব্য চেয়েছেন তাই এ লেখা ।
আমাদের মুসলমান সমাজে শিরক ও বিদআ'ত নানা ছলে চুপিসারে এমন ভাবে এসে বাসা বেঁধেছে যার কারণে ঈমান রক্ষা করাই দায় হয়ে পড়েছে । এমতাবস্থায় আমাদের ঈমান নবায়ন বা শুদ্ধিকরণ অপরিহাযর্্য হয়ে পড়েছে ।
এজন্য ইসলামের দাওয়াতকে আরো বেশী বেশী করে মানুষের দ্্বারে দ্্বারে পৌছে দিতে হবে । ইসলামের পরিভাষায় এই দাওয়াতকে তাবলীগ বলে । আল্লাহর দ্্বীনের বাণী যথাযথ ভাবে পৌছে দেওয়ার জন্য অসংখ্য নবী-রাসূল এসেছেন ।
সর্বশেষে বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ ( সাঃ ) এসে এই দ্্বীন প্রচার করে গেছেন । তাঁর চেষ্টায় সারা দুনিয়া ব্যাপি ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে ।
আল্লাহ তায়ালা বলছেন ঃ
''(হে নবী ) তুমি নছিহত কর , নিশ্চয়ই ( তোমার ) নছিহতে মোমেনদের উপকার হবে'' । ( সুরা যারিয়াত-55 )
এরকম অসংখ্য আয়াত আছে তা লিখলে দীর্ঘ হয়ে যাবে । এই সমস্ত আয়াতে ইসলামের তাবলীগ করার জন্য মুমিনদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
নবীজী ( সাঃ ) বিদায়ী হজ্জের ভাষণে লক্ষাধিক সাহাবীদের সামনে বহূ উপদেশ দান করেছিলেন , বলেছিলেন ''দেখ আমার পর কোন নবী আসবেননা আর তোমাদের পর কোন উম্মতও আসবেনা , কাজেই তোমাদের মধ্যে যারা উপসহিত তারা , যারা অনুপস্থিত তাদের নিকট আমার কথাগুলো পৌছিয়ে দিবে '' । ( মিশকাত শরীফ )
আলেমরাই হচ্ছেন নবীদের ওয়ারিস । তাই এই সমস্তদায়িত্ব এসে বর্তায় তাদেরই উপর ।
ভর্তমান মুসলমানদের চারিত্রিক অধঃপতন দেখে ভারতের বিখ্যাত আলেম মাওলানা ইলিয়াস ( রাঃ ) বিশ্ব তাবলীগ জামাত নামে একটি দল গঠন করেন । এতে তাঁর কোন রূপ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কোন স্বার্থ ছিলনা । দুইটি টার্গেটকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়াই উদ্দেশ্য ছিল । টার্গেট গুলো হল অমুসলিমদের কাছে দ্্বীনের দাওয়াত পৌছে দেওয়া এবং অপরটি হল গাফেল মুসলমানদের ঈমানী চেতনাকে জাগিয়ে তোলা তথা ঈমান শূদ্ধিকরণের কাজ ।
আমাদের দেশে যে ভাবে মোইল কোর্ট, মোবাইল. ..ইত্যাদি ,ইত্যাদি বলে থাকি তদ্রুপ তাবলীগকে মোবাইল মাদ্রাসা হিসাবেই বলব ।
এখন আসি তারা কেন দলবদ্ধ হয়ে মসজিদে মসজিদে ঘুরে বেড়ান ?
আল্লাহ তায়ালা বলছেন ঃ ''হে মুসলমান গণ ! দ্্বীনের তাবলীগের জন্য তোমাদের মধ্যে একটি জামাত গঠিত হওয়া উচিত যারা মঙলের দিকে আহবান করবে । সৎকাজের আদেশ দিবে ও অসৎকাজ হতে নিষেধ করবে । (সুরা আল ইমরান-104 এর একাংশ )
দ্্বিতীয় কথা হল , মসজিদকে কেন বেছে নিলেন ?
কারণ নবীকরিম ( সাঃ ) দ্্বীন , রাষ্ট্র তথা যাবতীয় সামাজিক বিচার আচার মসজিদে বসেই সমাধান করতেন । তাই মসজিদকেই তাবলীগের কার্যালয় হিসাবে গ্রহন করা হয়েছে ।
তৃতীয় কথা হল , 40 দিনের চিল্লা দিতে হয় কেন ?এটা একটি হেকমত বা কৌশল মাত্র ।
নবীকরিম (সাঃ ) এক হাদিসে বলেছেন যে, কোন মুসলমান যদি 40 দিন মসজিদে জামাতের সহিত পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ আদায় করে তাহলে ঐ ব্যাক্তিকে শয়তান ধোকা দিতে পারবেনা । তাবলীগে 40দিনের জন্য গেলে এই সুযোগটি সহজেই অর্জন করা যায় ।
এখন দেখেন মাত্র 40 দিনের সাধনায় যদি একজন মানুষের ঈমান তথা সারা লাইফটিই যদি শূদ্ধ হয়ে যায় তাহলে এখানেই তো তাবলীগের স্বার্থকতা । আর এটা একটি পরিক্ষিত বিষয় । আমার গ্রামের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসি, এক নষ্ট যুবক তাবলীগে যেয়ে একেবারেই বদলে গেছে । তাকে দেখলে আপনি বলতে বাদ্য হবেন যে , ''এরকম আদর্শবাণ ছেলে আর একটা দেখিনি '' ।
আরেকটি কথা না বললেই নয় , স্কুল - মাদ্রাসার ছাত্ররা একটি ক্লাসে এক বৎসর অধ্যয়ন করার পর আরেক ক্লাসে উঠতে হয় । এই নিয়ম কিন্ত নবীর জামানায় ছিলনা । এই জন্য এটাকে বিদআ'ত আখ্যায়িত করা যাবেনা । সুৎরাং প্রচলিত তাবলীগ জামাত কোন ইসলাম বাহির্ভূত দল নয় ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৬ দুপুর ২:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




