somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দীক্ষক দ্রাবীড়ের প্রশ্নের জবাব ঃ প্রচলিত তাবলীগ জামাত কি ইসলাম বাহির্ভূত কোন দল ?

০৫ ই এপ্রিল, ২০০৬ দুপুর ১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দীক্ষক দ্রাবীড় এবং আমি -দুনুজনই সুনাম গনজের বাসিন্দা । কিন্ত আদর্শগত দিক থেকে দুই জন দুই মেরূর মানুষ । তবে দীক্ষকের জ্ঞান ও বুদ্ধির পরিধির জন্য তাঁর প্রশংসা করতে হয় । তার কাছে আমার অনুরূদ শূধু যুক্তির খাতিরে যুক্তি উপসহাপন করলেই সব কিছুর সমাধান পাওয়া যাবেনা । গভীর ভাবে নিজে নিজেই চিন্তা করলে তা অনুভব করা যায় ।
তিনি তাবলীগ সম্মন্দে আমার স্পষ্ট বক্তব্য চেয়েছেন তাই এ লেখা ।

আমাদের মুসলমান সমাজে শিরক ও বিদআ'ত নানা ছলে চুপিসারে এমন ভাবে এসে বাসা বেঁধেছে যার কারণে ঈমান রক্ষা করাই দায় হয়ে পড়েছে । এমতাবস্থায় আমাদের ঈমান নবায়ন বা শুদ্ধিকরণ অপরিহাযর্্য হয়ে পড়েছে ।
এজন্য ইসলামের দাওয়াতকে আরো বেশী বেশী করে মানুষের দ্্বারে দ্্বারে পৌছে দিতে হবে । ইসলামের পরিভাষায় এই দাওয়াতকে তাবলীগ বলে । আল্লাহর দ্্বীনের বাণী যথাযথ ভাবে পৌছে দেওয়ার জন্য অসংখ্য নবী-রাসূল এসেছেন ।
সর্বশেষে বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ ( সাঃ ) এসে এই দ্্বীন প্রচার করে গেছেন । তাঁর চেষ্টায় সারা দুনিয়া ব্যাপি ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে ।

আল্লাহ তায়ালা বলছেন ঃ
''(হে নবী ) তুমি নছিহত কর , নিশ্চয়ই ( তোমার ) নছিহতে মোমেনদের উপকার হবে'' । ( সুরা যারিয়াত-55 )
এরকম অসংখ্য আয়াত আছে তা লিখলে দীর্ঘ হয়ে যাবে । এই সমস্ত আয়াতে ইসলামের তাবলীগ করার জন্য মুমিনদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।

নবীজী ( সাঃ ) বিদায়ী হজ্জের ভাষণে লক্ষাধিক সাহাবীদের সামনে বহূ উপদেশ দান করেছিলেন , বলেছিলেন ''দেখ আমার পর কোন নবী আসবেননা আর তোমাদের পর কোন উম্মতও আসবেনা , কাজেই তোমাদের মধ্যে যারা উপসহিত তারা , যারা অনুপস্থিত তাদের নিকট আমার কথাগুলো পৌছিয়ে দিবে '' । ( মিশকাত শরীফ )
আলেমরাই হচ্ছেন নবীদের ওয়ারিস । তাই এই সমস্তদায়িত্ব এসে বর্তায় তাদেরই উপর ।

ভর্তমান মুসলমানদের চারিত্রিক অধঃপতন দেখে ভারতের বিখ্যাত আলেম মাওলানা ইলিয়াস ( রাঃ ) বিশ্ব তাবলীগ জামাত নামে একটি দল গঠন করেন । এতে তাঁর কোন রূপ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কোন স্বার্থ ছিলনা । দুইটি টার্গেটকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়াই উদ্দেশ্য ছিল । টার্গেট গুলো হল অমুসলিমদের কাছে দ্্বীনের দাওয়াত পৌছে দেওয়া এবং অপরটি হল গাফেল মুসলমানদের ঈমানী চেতনাকে জাগিয়ে তোলা তথা ঈমান শূদ্ধিকরণের কাজ ।
আমাদের দেশে যে ভাবে মোইল কোর্ট, মোবাইল. ..ইত্যাদি ,ইত্যাদি বলে থাকি তদ্রুপ তাবলীগকে মোবাইল মাদ্রাসা হিসাবেই বলব ।

এখন আসি তারা কেন দলবদ্ধ হয়ে মসজিদে মসজিদে ঘুরে বেড়ান ?
আল্লাহ তায়ালা বলছেন ঃ ''হে মুসলমান গণ ! দ্্বীনের তাবলীগের জন্য তোমাদের মধ্যে একটি জামাত গঠিত হওয়া উচিত যারা মঙলের দিকে আহবান করবে । সৎকাজের আদেশ দিবে ও অসৎকাজ হতে নিষেধ করবে । (সুরা আল ইমরান-104 এর একাংশ )

দ্্বিতীয় কথা হল , মসজিদকে কেন বেছে নিলেন ?

কারণ নবীকরিম ( সাঃ ) দ্্বীন , রাষ্ট্র তথা যাবতীয় সামাজিক বিচার আচার মসজিদে বসেই সমাধান করতেন । তাই মসজিদকেই তাবলীগের কার্যালয় হিসাবে গ্রহন করা হয়েছে ।

তৃতীয় কথা হল , 40 দিনের চিল্লা দিতে হয় কেন ?এটা একটি হেকমত বা কৌশল মাত্র ।
নবীকরিম (সাঃ ) এক হাদিসে বলেছেন যে, কোন মুসলমান যদি 40 দিন মসজিদে জামাতের সহিত পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ আদায় করে তাহলে ঐ ব্যাক্তিকে শয়তান ধোকা দিতে পারবেনা । তাবলীগে 40দিনের জন্য গেলে এই সুযোগটি সহজেই অর্জন করা যায় ।
এখন দেখেন মাত্র 40 দিনের সাধনায় যদি একজন মানুষের ঈমান তথা সারা লাইফটিই যদি শূদ্ধ হয়ে যায় তাহলে এখানেই তো তাবলীগের স্বার্থকতা । আর এটা একটি পরিক্ষিত বিষয় । আমার গ্রামের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসি, এক নষ্ট যুবক তাবলীগে যেয়ে একেবারেই বদলে গেছে । তাকে দেখলে আপনি বলতে বাদ্য হবেন যে , ''এরকম আদর্শবাণ ছেলে আর একটা দেখিনি '' ।
আরেকটি কথা না বললেই নয় , স্কুল - মাদ্রাসার ছাত্ররা একটি ক্লাসে এক বৎসর অধ্যয়ন করার পর আরেক ক্লাসে উঠতে হয় । এই নিয়ম কিন্ত নবীর জামানায় ছিলনা । এই জন্য এটাকে বিদআ'ত আখ্যায়িত করা যাবেনা । সুৎরাং প্রচলিত তাবলীগ জামাত কোন ইসলাম বাহির্ভূত দল নয় ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৬ দুপুর ২:১০
১৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×