সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ট মহামানব , রাহমাতুলি্লল আলামীন, হজরত মোহাম্মদ ( সাঃ ) ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়েছিলেন তাঁর জীবনের সকল ক্ষেত্রে , ধর্মীয় ক্ষেত্রে , ব্যাক্তি জীবনে কিংবা সকল সামাজিক ক্ষেত্রে । এমন একজন মানবের আদর্শ অনুসরণ ও অনুকরণের মাঝেই দুনিয়াতে প্রতিষ্টিত হতে পারে প্রকৃত সুখ-শান্তি এবং দূর হতে পারে সকল অরাজকতা ।
নবীজীর ( সাঃ ) ধৈর্য্য ও সহনশীলতার উদাহারন হিসাবে শূধু দুইটি ঘটনা উল্লেখ করছি ।
একবার এক গ্রাম্য লোক মসজিদে প্রশ্রাব করতে বসে গেল । লোকেরা তাকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য এগিয়ে এল । নবীজী (সাঃ ) তাদেরকে বাঁধা দিলেন । লোকটি পেশাব করা শেষ করলে তাঁকে বিষয়টি সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে দিলেন । অতঃপর সাহাবীদের বললেন পরিষ্কার করে দিতে । অথচ এসময় আমরা হলে কি করে বসতাম ? একটু ভাবুনতো ।
নবীজীর ( সাঃ ) আরেকটি ঘটনা সবারই জানা । নবীজী ( সাঃ ) তাঁর এক সাহাবীর জানাযায় ছিলেন । ইতোমধ্যে 'যায়িদ বিন সানাহ ' নামক এক ইয়াহূদী এলো । সে নবীজীর ( সাঃ ) কাছে উপস্থিত হয়ে ঋন পরিশোধের জন্য তাগিদ করল । এক পর্যায়ে ঐ ব্যাক্তি নবীজীর ( সাঃ ) কাপড়-চাদর টান দিয়ে ধরল । এবং ক্রোধান্বিত হয়ে বলতে লাগল ''হে মোহাম্মদ ( সাঃ ) তুমি কি আমার ঋন আদায় করে দিবেনা '' ? লোকটি অমার্জিত ভাষা ব্যবহার করছিল ।
তা দেখে হজরত উমর ( রাঃ ) ক্ষেপে গেলেন । তাঁর চোঁখ দুটিতে যেন আগূন ঠিকরে পড়ছে । এবং বলতে লাগলেন '' হে আল্লার দুষমন ! নবীজীর শানে এমন বেয়াদবী ! আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি -আমি যদি নবীজীর ( সাঃ ) তিরস্কারের ভয় না করতাম তাহলে অবশ্যই আমার তরবারী দ্্বারা তোমাকে দ্্বিখন্ডিত করে দিতাম '' ।
তখন রহমতের নবী,মানবতার ছবি হজরত মোহাম্মদ মোস্তফা ( সাঃ ) সান্তনা ও ভালবাসাপূর্ণ চোঁখে হজরত উমরের ( রাঃ ) দিকে তাকালেন । তার পর বললেন ঃ ''হে উমর ! আমি তোমার কাছ থেকে অন্য কিছু আশা করেছিলাম । তোমার কর্তব্য তো ছিল -আমাকে উপদেশ দিবে যেন ভাল ভাবে তাঁর ঋন আদায় করে দেওয়ার জন্য । আর তাঁকে বলবে সুন্দর ভাবে তাগিদ দেওয়া ব্যাপারে ।
হে উমর ! যাও তাঁর প্রাপ্য আদায় করে দাও । এবং সাথে আরো বিশ ছা খেজুর বাড়িয়ে দাও'' ।
মহানবী ( সাঃ ) এর উত্তম ব্যাবহার এবং অসীম ধৈর্য ও সহনশীলতা দেখে লোকটি মুসলমান হয়ে গেলেন । এবং তাঁর সম্পদের একাংশ উম্মদে মুহাম্মদীর জন্য দান করে দিলেন ।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৬ ভোর ৫:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



