somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈদেমিলাদুন্নবী নয় অনুসরণ ও আনুগত্য চাই ঃ হজরত ফাতেমার (রাঃ ) সংসার জীবনের টুকিটাকি

০৮ ই এপ্রিল, ২০০৬ দুপুর ১২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুসলিম জাহানের নারীকূল শিরোমণি, খাতুনে জান্নাত,নবী দুলালী হজরত ফাতেমা জোহরা ( রাঃ ) ছিলেন , ধর্মে, কর্মে ,জ্ঞানে, গূণে , ত্যাগে, সাধনায়, কষ্টে-সহিষ্ণুতায় , বৈশিষ্ট মর্যাদায়, চরিত্র মহিমায় নারী জগতের এক বিস্ময়কর আদর্শ এবং সমগ্র নারীকূলের ঊধের্্ব । শূধু ইহজগতের নয় পরজগতেও তিনি হবেন বেহেশতবাসিনী নারীদের সরদার ।
ফাতেমা ( রাঃ ) সমপর্কে মহানবী ( সাঃ )বলেছেন যে, ''ফাতেমা আমারই দেহের অংশ অতএব যে তাঁকে কষ্ট দান করবে সে যেন আমাকেই কষ্ট দিল । ''
হাদীসে বর্ণিত আছে-নবী করিম ( সাঃ ) কোথাও যাবার সময় কন্যা ফাতেমার কাছ থেকে সকলের শেষে বিদায় নিতেন এবং ফিরে এসে প্রথমেই ফাতেমার সাথে সাক্ষাৎ করতেন ।
ফাতেমা ( রাঃ ) এর প্রতি নবীজীর হৃদয় এত স্নেহসিক্ত ছিল ; কন্যার অদর্শনে তিনি একটি দিনও সহ্য করতে পারতেননা । তাই তিনি জামাতা হজরত আলীর ( রাঃ ) বাড়ীতে গমন করতেন । কিন্ত তাহার মনে খুবই আশা ছিল যদি জামাতার বাড়ীখানা তাহার গৃহের পাশে হতো ! কিন্ত তাহার গৃহের কাছে কোন গৃহ অবশিষ্ট ছিলনা । তবুও বাড়ী ওয়ালা 'হারেজ'যখন নবীজীর (সাঃ ) মনের কথা জানতে পারলেন তখন তিনি পুরাতন এক ঘরের ভাড়াটিয়াকে অন্যত্র পাঠিয়ে দিয়ে হজরত আলী ও ফাতেমাকে ( রাঃ ) ভাড়া দিলেন । এই গৃহখানা নবীজীর গৃহের কাছেই ছিল । এখন তিনি সর্বদাই কন্যাকে চোঁখের সম্মুখে দেখতে পাবেন বিধায় বাড়ী ওয়ালা হারেজের জন্য প্রাণ ভরে দোয়া করেছিলেন ।

অভাব অনটনকে নিত্য সঙী করিয়াই হজরত আলী ও ফাতেমার ( রাঃ ) সংসার চলত ।
হিজরতের পূর্ব পর্যন্ত আলী ( রাঃ ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ ) এর সাথে একই পরিবারভুক্ত ছিলেন । হিজরতের পর তাহার মা'কে নিয়ে আলী ( রাঃ ) সামান্য যাহা উপার্জন করতেন তাতে মা-ছেলের কোন রকম দিন চলে যেতো । কিন্ত বিয়ের পর সংসারে বড়ই অভাব দেখা দিল । সারা দিন পরিশ্রমের পর যা কিছু জোগাড় করতেন তা দিয়েই সকলের খোরপোষের ব্যবস্থা করতেন ।
একদিন এমনও হয়ে ছিল যে সারা দিন ঘুরে ঘুড়েও কোথাও কাজের সন্ধান পেলেননা । অথচ ঘরে অল্প পরিমাণ খাবারও মজুদ নেই । অবশেষে রাত্রবেলা একটি কাজ জোটালেন । গভীর রাতে কিছু জিনিস-পত্র নিয়ে বাড়ী ফিরলেন । ফাতেমা ( রাঃ ) অধির অপেক্ষায় স্বামীর জন্য দরজার সামনে বসে আছেন । তিনি নিকটে এসে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত স্বামীর কপালের ঘাম মুছে দিয়ে শোবার ব্যবস্থা করে দিলেন । পরে খাওয়া-দাওয়া তৈরী করে স্বামীকে খাওয়ালেন , নিজেও খেলেন । এমতবস্থায় ভোরের আলো দরজা ভেদ করে গৃহে প্রবেশ করল ।

হজরত আলী ( রাঃ ) দুঃখ করে বলতেন '' হে আল্লাহ আমাকে কষ্ট দাও অসুবিদা নেই কিন্ত নবী দুলালী ফাতেমাকে কেন কষ্ট দিচ্ছো ''?

একবার হজরত ফাতেমার অসুস্থতার খবর শোনে নবীজী ( সাঃ )দেখতে আসলেন । ঘরের ভিতর থেকে ফাতেমা বললেন '' বাবা ! আমার দেহে একখানা চাদর ছাড়া অন্য কোন বস্ত্র নেই '' । কন্যার কথা শোনে নবীজী তাহার মাথার পাগড়ীখানা গৃহের ভিতর ছুঁড়ে মারলেন এবং বললেন ''মা ! চাদরখানা পরিধান করে পাগড়ী দিয়ে মাথা ও দেহ আবৃত কর । অতঃপর নবীজী ( সাঃ ) গৃহে প্রবেশ করলেন ।

একবার ঈদের সময় মদীনার ঘরে ঘরে ঈদের আনন্দের ধুম পড়ে গেল । কিন্ত আলী ও ফাতেমার ( রাঃ ) গৃহে ঈদের কোন আনন্দ দেখা গেলনা । আলী (রাঃ ) সকালেই কাজে চলে গেছেন । এবং ফাতেমা ( রাঃ ) গৃহের কাজে ব্যাস্ত । হঠাৎ তাঁহার শিশূ পুত্রদয় ইমাম হাসান-হোসাইন ( রাঃ ) বাহির থেকে এসে নতুন জামা-কাপড়ের আবদার করতে লাগলেন । মা'ফাতেমার মুখ থেকে ফসকে বেড়িয়ে গেল ''বাবারা তোমাদের জামা এখনও তৈরী হয়নি , তৈরী হয়ে গেলে লোক এসে দিয়ে যাবে-এখন খেলা করতে যাও ''। এর পর পর ফাতেমা চিন্তায় পড়ে গেলে যে , ছেলেরা যখন ফিরে আসবে তখন তাঁদের কাছে মিত্যাবাদি হিসাবে চিহ্নিত হবেন । তখন তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে লাগলেন , ''হে আল্লাহ তুমি তাদের অন্তর থেকে জামার কথা ভুলিয়ে দাও ''।
যাক একটু হাসান-হোসাইন মহা খুশী হয়ে একটা কাপড়ের বেগ হাতে নিয়ে মা'য়ের কাছে এসে বলতে লাগলেন ''মা ! একজন সুদর্শন লোক এই কাপড় গুলো দিয়ে গেছেন '' । ফাতেমা ( রাঃ ) এই মূল্যবান কাপড় দেখে বুঝতে পারলেন যে, আল্লাহ তায়ালা হজরত জিব্রঈল ( আঃ ) এর মারফতে এই গুলো পাঠিয়েছেন । আল্লাহর এই পবিত্র দান তিনি খুশী মনে পুত্রদয়কে পরিয়ে দিলেন ।

হজরত আলী ও ফাতেমা ( রাঃ ) এর সংসারে পার্থিক সুখ সমপদ ঐশ্চর্য এবং ভোগ বিলাসের অভাব থাকলেও পারসপরিক প্রেম -ভালবাসার অভাব ছিলনা । স্বামী-স্ত্রীর মাঝে গভীর ভালবাসার জন্য তাহাদের সংসারটি স্বর্গ সুখে পরিণত হয়ে ছিল ।

তাহাদের মধ্যে কখনও যে মান অভিমান বা মনোমালিন্য হয়নি তা নয় । কেননা তাহারাও তো মানুষ । মানুষের মাঝেও ভুল ভ্রান্তি ইত্যাদি হতে পারে , এটা স্বাভাবিক ব্যাপার ।
একদিন কোন একটি বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর কথোপকথনের সময় হজরত ফাতেমা ( রাঃ ) আলী কে (রাঃ ) একটা বড় কথা বলে ফেললেন । তাতে হজরত আলী একটু ব্যথিত হলেন এবং অভিমানে বাহিরে চলে গেলেন । এমন কি রাত্রেও বাড়ী ফিরলেননা । রাসূলুল্লাহ ( সাঃ ) এই খবর শোনে আলীর খোঁজে বাহির হয়ে গেলেন । একটু পর দেখতে পেলেন অদূরে আলী ( রাঃ ) ধুলাবালির উপড় শোয়ে আছেন । নবীজী ( সাঃ ) স্নেহ ভরে মজা করে ডাক দিলেন '' হে আবু তুরাব ( ধুলাবালির জনক ) উঠ-ঘরে চল '' । এর পর নবীজী তাদের স্বামী-স্ত্রীর মান -অভিমান মিটিয়ে দিলেন ।

অন্য একদিনের ঘটনা ঃ হজরত আলী ( রাঃ ) ফাতেমার (রাঃ ) মতের বিরূদ্ধে একটা কাজ করে ফেলেছিলেন । ইহাতে অসন্তুষ্ট হয়ে ফাতেমা ( রাঃ ) বাবার বাড়ী চলে গেলেন । কিছুক্ষন পর হজরত আলীও এসে উপস্থিৎ । দুনুজনই নবীজীর কাছে নিজেদের অভিযোগ পেশ করলেন । নবীজী দুনুজনের কথা শোনে ফাতেমাকে ( রাঃ ) বললেন ,'' মা' ! তোমার আরও ধৈর্য অবলম্বন করা উচিত , আলীকে তোমার সকল কথা মানতে হবে এটা কেমন কথা ''?
ফাতেমা ( রাঃ ) পিতার কথা শোনে ভীষন লজ্জিত হয়ে ঘরে ফিরে আসলেন । হজরত আলী ( রাঃ ) স্ত্রীকে তাঁর পিতার সামনে এরকম লজ্জিত হতে দেখে অনুতপ্ত হয়ে প্রতিজ্ঞা করলেন যে , আর কোন দিন তাহার মতের বিরূদ্ধে কোন কাজ করবেননা ।

প্রকৃতপক্ষে হজরত ফাতেমা ( রাঃ ) মহানবী (সাঃ ) এর আদর্শ অনুসরণ ও আনুগত্যকারিদের মধ্যে ছিলেন এক মূর্ত প্রতীক ।

জাতীয় কবি কাজি নজরূল ইসলামের একটি কবিতার একাংশ আবৃতি করে শেষ করছি ।

''নবী নন্দিনী ফাতেমা মোদের সতী নারীদের রাণী,
যাঁর ত্যাগ সেবা স্নেহ ছিল মরূভূমে কওসর পানি,
যাঁর গূণ-গাথা ঘরে ঘরে প্রতি নর-নারী আজো গায় '' ।।




( বিঃ দ্র ঃ- কোন অমুসলিম কিংবা কোন অবিশ্বাসি কপটদের মন্তব্য নিস্প্রয়োজন )
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা: ইতিহাসের প্রতি অবমাননা।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৪৩

বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা: ইতিহাসের প্রতি অবমাননা।
=======================================
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে যাঁরা অমর হয়ে আছেন, তাঁদের অন্যতম হলেন তোফায়েল আহমেদ। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে মহান... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×