নারী নির্যাতন এখন আর নতুন কিছু নয় । পত্রিকার পাতা উলটালেই পুরূষের হাতে নারীরা নির্যাতিতা হচ্ছে, এরকম অসংখ্য বীভৎস চিত্র চোঁখে পড়ে । আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটি নারীই তাঁর শশূরালয়ে শাশূড়ি, ননদের হাতে কিভাবে শারীরীক ও মানুষিক নির্যাতনের স্বীকার হয় তা কেউ বলেনা ।
যৌতুকের কথাই বলেন , এখানে বরের মা' কিংবা বোনের লোভটাই বেশী কাজ করে । নববধূর স্বামী হয়তো একদিন তাঁর যৌতুকলোভী মা-বোনের উস্কানীতে নিজেও লোভী হয়ে উঠে । ফলে বউকে করূণতম জীবন-যাপন করতে হয় ।
ঘরে নতুন বাভি আসায় তাঁর দাজ্জাল ননদিনীগুলো গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়ায় । ঘর-দোয়ার পস্কিার-পরিচ্ছন্ন , রান্নাবান্ন, উনুনের যাবতীয় কাজ সমাপ্ত করে যখন একটু সাজসজ্জা করে স্বামীর কাছে বসেছে তখন শাশূড়ীর উক্তি,'' ছিঃ
লজ্জা-শরমের মাথা খেয়েছে................''।
বিশেষ করে গ্রামের বউরা অতিরিক্ত সাজসজ্জা করলে শাশূড়ী, ননদ, জা, এবং প্রতিবেশি মহিলাদের নানারকম বিদ্রোপ ও সমালোচনার পাত্রি হতে হয় । অথচ ইসলামের নিয়ম হচ্ছে যে, স্বামীর মনোরঞ্জনে স্ত্রীকে সর্বদাই পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুসজ্জিত থাকতে হয় ।
মেয়ের হাজারো দোষ ক্ষমা করে দেওয়া হয় কিন্তু পুত্রবধূর ক্ষেত্রে এটা হয়ে যায় মহা অপরাধ ।
মেয়ে জামাইয়ের জন্য যে আদর অপ্যায়ন থাকে, পুত্রবধূর জন্য এর পাঁচভাগের একভাগও বরাদ্ধ থাকেনা । অথচ বৃদ্ধাবস্থায় ঐ পুত্রবধূই একমাত্র ভরসা ।
ছেলে ছুটিতে এসে বিয়ে করে আবার বিদেশে ফিরে গেছে । কিন্তু এখন সময় মত টাকা না পাঠালে সব দোষ এসে পড়ে হতভাগিনী বউয়ের উপর । বলা হয়ে থাকে,''বউয়ের ইন্ধনে ছেলেটাও শেষ পর্যন্ত.......''।
এবার আসা যাক বিপরিত দিকে , অনেক পুত্রবধূরা তাঁদের বৃদ্ধ শশূর-শাশূড়ীকে একদম সহ্যই করতে পারেনা । স্বামীকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে সংসার পৃথক করতে চায় । বৃদ্ধ শশূর-শাশূড়ী রোগাক্রান্ত হয়ে, অনাদরে-অবহেলায় বাড়ীর এক নির্জন কক্ষে পড়ে থাকেন । তাদের দেখার জন্য কাজের মেয়ে ছাড়া আর কেউ নেই ।
এমনও বাবা-মা আছেন যারা শেষ বয়সে ছেলেবউয়ের নির্যাতনের স্বীকার হয়ে বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় খোঁজেন । ধিক্ষার আর থু থু জানাই ঐ সমস্ত ছেলেদেরকে-যারা বউয়ের কুমন্ত্রনায় আপন মা-বাবাকে দূরে ঠেলে দেয় । ওদের ধ্বংস অনিবার্য ।
এরকম শত শত উপমা আছে যা উল্লেখ করে দীর্ঘায়ীত করতে চাইনা । আমার মূল বক্তব্য হল, নারীরা পুরূষকে অত্যাচারী মনে করে । কিন্তু এটা ভেবে দেখা হয়না যে, একজন পুরূষ অত্যাচারী হওয়ার পেছনে আরেকজন নারীরই হাত আছে, ইন্ধন আছে । আমাদের নারীনেত্রীরা নারীর সমঅধিকার চাই ...চাই...বলে ছি ছিক্কার করেন, নিজেদের ঘরের খবর রাখেন কি ?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



