বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ ( সাঃ ) মানবকুলের এক মহান আদর্শ । তাঁর পবিত্র চেহারা থেকে প্রতিভা ও মানবতার জ্যোতিস্ফুরিত হয়ে সকলকে মুগ্ধ করত । তাঁর কথা এমন মিষ্ট ও মধুর ছিল যে, কাফেররা পর্যন্ত মুগ্ধ হয়ে মন্তব্য করত, ''মুহাম্মদ ( সাঃ )-এর কথার মাঝে যাদু আছে'' ।
পৃথিবীতে যুগে যুগে মহামানব আসেন যাঁরা সাধারণ মানুষের কাছে আদর্শমানব । কিন্ত সব মহামানবই একশ্রেণীর মানুষের কাছে হন আদর্শ, কিন্ত অন্যশ্রেণীর মানুষের কাছে হন অগ্রহণযোগ্য । শুধুমাত্র একজন মহামানবই সব মানুষের, সব মনীষীদের সব ধর্মের লোকদের কাছে আদর্শ মহামানব হিসেবে স্বীকৃত -তিনি হচ্ছেন ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) । তিনি যথাক্রমে-ধর্মগূরূ , রাস্ট্রনায়ক, সেনাপতি, ছাত্র-শিক্ষক, সুবিচারক, বিশ্বস্তব্যবসায়ী, নারীর মর্যাদা উন্নয়নে, সাদা-কালো ও ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান নিরসনে, অতিথি আপ্যায়নে, মাতৃ ভক্তিতে , আদর্শ স্বামী হিসাবে, পিতা হিসাবে, শিশূদের খেলার সাথী হিসাবে তিনিই ছিলেন সারা বিশ্বের জন্য একমাত্র আদর্শ ব্যাক্তি ।
আল্লাহ তায়ালা বলছেন ঃ ''নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে মহত্তম আদর্শ ''।
স্বয়ং মহানবী ( সাঃ ) তাঁর সম্পর্কে বলছেন , ''উত্তম আদর্শের পরিপূর্ণতা দানের উদ্দেশ্যেই আমি প্রেরিত হয়েছি '' ।
তাঁর সম্মন্দে বিশ্বের বড় বড় অমুসলিম মনীষিরা পর্যন্ত মন্তব্য করে গেছেন ।
(1) ব্রিটিশ মনীষী 'জর্জ বার্নাডশ' বলেন, ''আমি বিশ্বাস করি, সমগ্র ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এই শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই সংস্কারকৃত মুহাম্মদবাদ গ্রহণ করবে । সব সময়েই আমি মুহাম্মদ ( সাঃ )-এর ধর্ম ও তাঁর আশ্চর্য জীবনী শক্তি সম্পর্কে উচ্চ শ্রদ্ধাপোষণ করে এসেছি । যদি বিশ্বের বিভিন্ন ধর্ম, সমপ্রদায়, আদর্শ ও মতবাদ সম্পন্ন মানব জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এক অধিনায়কের শাসনাধীনে আনা হত, তবে, মুহাম্মদ ( সাঃ ) ই সর্বাপেক্ষা সুযোগ্য নেতা হিসেবে তাদের শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে পরিচালিত করতে পারতেন ''।
(2) আমেরিকার প্রখ্যাত গবেষক ও পন্ডিত 'মাইকেল এইচ হার্ট' তাঁর রচিত গ্রন্থে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ 100 মহামনীষীর নাম তালিকাভুক্ত করেছেন, লেখক তাঁর গ্রন্থে সর্বপ্রথম মুহাম্মদ (সাঃ )-এর নাম উল্লেখ করে বলেন, ''তিনিই হচ্ছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব'' ।
(3) বিখ্যাত রূশ সাহিত্যিক 'লিও তলস্তয়' তাঁর এক প্রবন্ধে লিখেছেন 'মুহাম্মদ ( সাঃ )-এর কর্মসূচি ও কর্মপদ্ধতি ছিল মানুষের বুদ্ধি বিবেকের অতুলনীয় দৃষ্টান্ত । তাছাড়া জগৎবাসী বিশ্বাস করতে বাধ্য যে তাঁর আদর্শ শিক্ষা ও ধর্ম পদ্ধতি গুলো একান্তই বাস্তব '' ।
(4) সাহিত্যিক ও দার্শনিক 'এইচ.জি ওয়েলস' তাঁর গ্রন্থে লিখেছেন, ''উদারতা, মহানুভবতা ও বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ববোধের গূণাবলীতে ইসলাম পরিপূর্ণ। ইসলাম তার নিজস্ব উপসনাপদ্ধতির মাধ্যমে ধনী-দরিদ্র সবাইকে একই কাতারে সাম্য ও মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ করেছিল । সমস্ত মহৎগূণের অধিকারী হওয়ার জন্যে মুহাম্মদ ( সাঃ ) সকল শ্রেণীর মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পেরেছিলেন '' ।
(5) দার্শনিক ও নোবেল বিজয়ী লেখক 'বাটর্্রান্ড রাসেল' এক প্রবন্ধে লিখেছিলেন, ''বিশ্বের ধর্ম সমূহের মধ্যে খ্রিস্ট ধর্ম কেবল অহেতুক মানুষকে শাস্তিদানের জন্য সদা প্রস্তত । আর বৌদ্ধ ধর্মে শাস্তি প্রদান সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই । কিন্তু মুহাম্মদ ( সাঃ )-এর ধর্ম ভারসাম্যের উপর প্রতিষ্ঠিত । মুহাম্মদ ( সাঃ )-এর সময়ে ইহুদী ও খ্রিস্টানদের সাথে ন্যায় ভিত্তিক ও ভ্রাতৃসুলভ ব্যবহার করা হয়েছে । পরবতর্ীতে খেলাফতের যুগেও তাদের সাথে সৌহার্দ্যমূলক ব্যবহার করা হয়েছে ।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০০৬ ভোর ৪:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



