মুখে মুখে মুসলমান দাবী করেও একদল লোক পবিত্র কুরআনের অপব্যাখ্যা, হাদীস ও ইজমা বিরোধী মনগড়া বর্ণনা করে ইসলামের বিধানাবলীকে পাশ কাটিয়ে চলে । অথবা নিজের মতকে প্রতিষ্টিত করতে নবীজীর (সঃ ) হাদীসকে জাল হাদীস প্রমাণ করতঃ সাহাবীদের চারিত্রিক দোষ-ক্রুটি খুঁজে বেড়ায় ।
ধারণার বশঃবর্তী হয়ে বা আবেগপ্রবণ হয়ে অথবা বুদ্ধির জোরে বা যুক্তি দিয়ে কিংবা সন্দেহের দোহাই দিয়ে কুরআন-হাদীসের মনগড়া ব্যাখ্যা করা একটি জঘন্য অপরাধ ।
ইসলামী জ্ঞান অন্বেষণের মূল উৎস হল কুরআন, হাদীস ও সালফে-সালেহীনদের ইজমা ।
কুরআন-সুন্নাহ বুঝার প্রদান উপাদান হল, কুরআন সুন্নারই অন্যান্য পাঠ, যার মধ্যে রয়েছে অপর আয়াত বা হাদীসের ব্যাখ্যা । এছাড়া আমাদের পূর্বসূরী সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ ) ও তাবেয়ীন এবং আমাদের সম্মানিত ইমামগণ প্রদত্ত ব্যাখ্যা । এমনকি ভাষাগত দিক থেকে অন্য কোন অর্থের সম্ভাবনা থাকলেও সাহাবা ও তাবেয়ীনদের ব্যাখ্যার বিপরীত কোন ব্যাখ্যা গ্রহন করা যাবেনা ।
কুরআন- সুন্নাহর সাথে জ্ঞান-বুদ্ধি ও বিবেকের কোন সংঘাত বা বিরোধ নেই । কিন্তু কোন সময় যদি উভয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা পরিলক্ষিত হয়, এমতাবস্থায় কুরআন সুন্নাহকে অগ্রাধিকার দিতে হবে ।
সাহাবায়ে কেরামগণ (রাঃ ) প্রত্যেকেই ন্যায়পরায়ন এবং মুসলিম উম্মার সবচেয়ে উত্তম চরিত্রবান ব্যক্তি, দ্্বীনের দৃষ্টিতে তাঁদের ঈমান ও মর্যাদার স্বীকৃতি দেয়া অত্যাবশ্যকীয় । তাঁদেরকে ভালবাসা দ্্বীন ও ঈমানের দাবী । এছাড়া তাঁদের সাথে দুশমনি করা কুফরী ও মোনাফেকী কাজ ।
তাঁদের মাঝে যে সমস্ত বিষয় নিয়ে মতবিরোধ বা বিবাদ হয়েছে ; তা নিয়ে বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত হওয়া উচিত নয় । তাঁদের সম্মানের ক্ষতিকর বিষয় আলোচনা থেকে বিরত থাকা উচিত ।
সয়ং আল্লাহ তায়ালা তাঁদের চারিত্রিক সনদ কুরআন শরীফে দিয়ে দিয়েছেন ঃ
''সে সব মুহাজির ও আনসার , যারা সর্বপ্রথম ঈমানের দাওয়াত কবুল করেছিল এবং যারা নিতান্ত সততার সাথে তাঁদের অনুসরণ করে ছিল তাঁদের উপর আল্লাহ সন্তুষ্ট রয়েছেন, এবং তাঁরাও আল্লাহ তায়ালার উপর সন্তুষ্ট '' । ( সুরা তাওবা-100)
তাই আমি সম্মানিত ব্লগারদের কাছে আবেদন করব যে, কিছু কুচক্রী মহলের উদ্দেশ্যপূর্ণ, অসত্য বক্তব্যকে খন্ডাতে গিয়ে আপনি যেন মনগড়া ব্যাখ্যার আশ্রয় না নেন । কিংবা না জেনেই কোন হাদীসকে জাল হাদীস বলে মন্তব্য করবেননা । না জানলে চুপ থাকুন, এটাই উত্তম পন্থা ।
মনে রাখবেন , এসব কুচক্রীদের মুখোশ উম্মোচন করার জন্য বড় বড় আলেম-উলামারা আছেন । এতদ্্ব্যতীত সহিহ হাদীসের বর্ণনানুযায়ী কিয়ামত পর্যন্ত মুসলমানদের মধ্যে এমন একদল লোক থাকবেন যারা মুরতাদ,বেঈমান-মোনাফেকদের মুখোশ উম্মোচিত করে পবিত্র কুরআনের সঠিক অর্থ জনসমক্ষে ফুটিয়ে তুলবেন ।
আল্লাহ বলছেন ঃ ''কুরআনে মিথ্যা আসার কোন সম্ভাবনা নেই-সামনের দিক থেকেও নেই এবং পেছন দিক থেকেও নেই । এটা প্রজ্ঞাময় প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ '' । ( সুরা হা-মীম সেজদা-42 )
আমাদের দেশের বিখ্যাত আলেমে দ্্বীন যেমন, মাওলানা মুহি উদ্দিন খান, মাওলানা নুরূল ইসলাম ওলীপুরির মত বড় বড় আলেম উলামাদের জ্ঞানের কাছে ঐ সমস্ত কুচক্রীরা দাঁড়াতেই সাহস পাবেনা । উনাদের কাছে তাদের এই সমস্ত তুচ্ছ যুক্তিগুলো ধোপে টিকবেনা ভেবেই এই ব্লগে এসে ব্যাঙের আধুলি ইলম জাহির করেন । এ যেন উজার বনে শিয়াল রাজা !!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



