''বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাইনা আর''।
সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা এই সোনার দেশের সৌন্দর্যময় রূপটি আরো কাছ থেকে দেখতে চান ?
তাহলে ঘুরে আসুননা হজরত শাহ জালালের স্মৃতিবিজরিত সিলেট ।
বিচিত্র সৌন্দর্যের সমারোহে সমৃদ্ধ হয়েছে সিলেটের প্রকৃতি । প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাক্ষেত্র হিসেবে সহজেই তা সকলকে বিমুগ্ধ করতে পারে !
পাহাড়ের আঁকা বাঁকা উঁচু নিচু পথ দিয়ে চলার সময় দুপাশের নয়ন মুগ্ধকর দৃশ্য কখনও ভুলতে পারবেন না ।
পাহাড়,বনানী,মাধবকুন্ডের জলপ্রপাত,জাফলং আর চা বাগানের বাইরের সিলেট তার আসল পরিচয় নিয়ে ছড়িয়ে আছে বিশাল সমতল ভূমিতে ।
অসংখ্য নদী-উপনদী, খাল বিল হাওর এখানে বৈচিত্র এনেছে ।
সিলেটে আসবেন আর আমার জন্মভূমি সুনাম গঞ্জের জগন্নাথ পুরে ওয়েলকাম করবনা-তা কি হয় ?
মরহূম আব্দুসসমাদ আজাদ, ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌঃ সহ প্রমুখ বড় বড় মানুষ এখানেই জম্ম গ্রহন করেছেন ।
বাইরের অঞ্চলের মানুষের কাছে এই এলাকাটি দ্্বিতীয় লন্ডন হিসাবে পরিচিত । কারণ, বৃহত্তর সিলেটের লন্ডন প্রবাসীদের মধ্যে জগন্নাথ পুরের লোকই বেশি ।
আরেকটি মজার তথ্য হল যে, সরকারী চাকুরী জীবি এবং পুলিশের লোকেরা এই চাকরী পেতে উপর মহলে বড় অংকের ঘুষও প্রদান করে থাকেন ।
হিন্দু রাজা জগন্নাথের নামানুসারে জগন্নাথ পুর নামকরণ করা হয়েছে ।
নানা ঋতুর নানা রং এখানকার মানুষের মন আর প্রকৃতিকে নতুন সাজে সাজায় । ছয় ঋতুর লীলার মাঝে বৈশিষ্টে ও বৈচিত্রে এখানকার বর্ষাকাল সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় । গর্জনে আর প্রবল বৃষ্টিপাতে চারদিক মুখরিত করে আসে বর্ষা । বর্ষায় ভরে যায় খাল-বিল নদী-নালা হাওর । চারদিকে সীমাহীন জলরাশির থৈ থৈ খেলা ।
নদীর দুকূল ছাপিয়ে চলে জলের প্রবল ধারা । ছলছল শব্দে এগিয়ে চলে নদী, কোথাও পাড় ভাঙে, কোথাও প্লাবনের সমারোহ । নিম্নের সমতল গ্রামগুলি সোনার জলে ভাসতে থাকে, ছোট বড় নৌকাগুলি ধবল পাখা মেলে ছুটে চলে আপন আপন গন্তব্যে ।
আকাশে মেঘের ঘনঘটা, মাঠ-ঘাট জলে পরিপূর্ণ, গাছে গাছে সবুজ পাতা আর নানা ফুলের সমাবেশ, পাখ-পাখালির কলকাকলি-সব মিলিয়ে প্রকৃতি এক অফুরন্ত সৌন্দর্যের উৎস হয়ে এখানকার মানুষের মনে আনন্দের জোয়ার নিয়ে আসে ।
বর্ষার আবেগ চঞ্চল সৌন্দর্যে বিমুগ্ধ মন হয়ে উঠে কল্পনামুখর । হাওরের ঢেউয়ের তালে তালে মাঝি মাল্লার কন্ঠে অনুরণিত হয়ে উঠে মন মাতানো ভাটিয়ালী গান । ''ভ্রমর কইও গিয়া...শ্রী কৃষ্ণের প্রেমের অনলে অঙ যায় জ্বলিয়া........''-এই গানটি কে না শুনেছে ? আপনি কি জানেন ? এই কালজয়ী গানের জনক 'রাধা রমণ' জগন্নাথ পুরেরই সন্তান ?
জগন্নাথ পুর যখন এসেই গেছেন তাই কষ্ট করে আরেকটু এগিয়ে যাননা দিরাই-এর দিকে । সেখানে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের বাড়িটি দেখে যাবেন না ?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



