
পৈত্রিক মাজা পুকুর ঘাটের কলমিলতা ফুলে
উকি দেয়া লাজুক কিশোরী রোদ আমাকে অনেক ডেকেছে।
আমিও শীতে কাতর ঝুটিয়াল মাছরাঙ্গার মতো ওম শিকারী,
ডানায় সূর্য তাপের পালক মেখে দাপিয়ে বেড়াই।
আমি আজ কনকনে শীতে রোদের আমন্ত্রণে সাড়া দিতে চাই।
আমাদের মাঝে বসত করে বসতিহীন এক প্রাচীন অট্রলিকা
বৃদ্ধ দারোয়ানের মতো সেটিই আমার পথ রোধ করে।
নিরুপায় আমি শীতার্ত হরিণ শাবকের মতো
নিজেকে বিছিয়ে দেই কৃষকের চাষা জমিনে।
এক সময় আমার শরীরের হিম কনা শুকে যায়।
টের পাই সাদা চিবুক তিতিরের পায়ের নীচে
সবুজ মখমল ঘাসে বাজে দ্বিপ্রহরের গান।
আমার ফেরার প্রাক্কালে হন্তদন্ত এক ফটোগ্রাফার
আমাকে এভাবে শুয়ে থাকতে দেখে গ্রেফতার করে ফেলে।
পরদিন পাশের কয়েদখানায় দেখা হয়
সেই কলমিলতা ফুলের সাথে
অধরে তার সেই অবিকৃত লাজুক কিশোরী রোদ।
আমাকে দেখে সেও আর্তনাদ করে, এখানে!
ফটোগ্রাফার বলে, ‘তৈরি হোন, জলদি!
ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আপনাদের ডাক পড়েছে।’
আমি একবার জলমগ্ন শালুকের মতো নিজের দিকে তাকাই
ফির কলমিলতার দিকে তাকাই।
নিজেকে প্রশ্ন করি, আমাদের নিজ বলে কি কিছুই নেই?
আপন জীবন বলে যাকে দাবী করি সেও কি চূড়ান্ত পরাধীন?
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




