মায়া কে ভালোবাসতে না পারার দায়ে আমাকে কথা শুনতে হয়েছে অনেক
অনেকে মুখের উপর বলে বসেছে, লোকটা পাষাণ, দয়া মায়া নেই।
আমি তাদের অপবাদ মাথায় তুলে রেখেছি।
ব্যতিক্রমী এক অভ্র সকালে সফেদা গাছে বাসন্তী লটকন টিয়া
দেখে আমার খুব মায়া হলো।
সত্যি বলতে কি এতো সুন্দর পাখি আমি আর দেখিনি এ জনমে।
আমিও মুখ ফুটে বলে ফেললাম, এতো সুন্দর!
পাখিটি আমার মুগ্ধতা পান করে হাসলো।
গলা ছেড়ে বিশুদ্ধ স্বরলিপিতে রবীন্দ্র সংগীত গাইলো
মুর্খের মতো আমিও সুর মেলাতেই সে গম্ভীর মুখে উড়ে গেলো।
সে দিনই মায়া আমাকে চোরের মতো রশি দিয়ে বেঁধে ফেললো।
আমি তারপর যুগের পর যুগ সফেদা গাছটার নিচে অপেক্ষা করছি।
আমি জানি পাখিটার এতো দিন বাঁচবার কথা নয়, যুগ পর তার এখানে
ফিরে আসার কোন কারণই হয়তো নেই।
আমি যুক্তিতে জিতে যাই, তবে বিশ্বাসের কাছে হারি
পাখিটার ফেরার সম্ভবনা নেই জেনেও আমার অপেক্ষার শেষ হয় না।
মায়ার খড়গে বলিদান হয়ে সফেদা তলে নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের মতো পড়ে থাকি।

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




