somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ইসলামের ইলম
মিথ্যার রাজ্যে সত্য কিছুটা বেমানান। তবুও সত্য তার নিজস্ব গতিতেই এগিয়ে চলবেই। যারা সত্যের প্রচারে রত তারা ভাগ্যবান। সেই অনুপ্রেরণায় আমার ব্লগার হবার ইচ্ছা। আমার মূল লক্ষ্য সচেতন মুসলমানদের কাছে তাওহীদ স্পষ্ট করে প্রচার করা।

তাওহীদ এর ৭টি শর্ত

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



‘শাহাদাহ’-বলতে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’- কে বুঝায়।
যার অর্থ হলঃ
“আল্লাহ ছাড়া ইবাদাতের যোগ্য আর কোন মা’বুদ নেই, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রাসূল।”
এই স্বাক্ষীর অপর নাম হল “কালিমা”- যা ইসলামের প্রথম স্তম্ভ।
অনেক মুসলমানই এই ভুল ধারনার মধ্যে আছেন যে, শুধুমাত্র এই্ কালিমা উচ্চারন করলেই বা মুসলিম ঘরে জন্ম বা লালন-পালন হলেই বা নাম মুসলমানদের মত হলেই মুসলমান হওয়া যায় এবং কিছু ইবাদাত পালনের মাধ্যমে জান্নাতের অধিকারীও হওয়া যায়!!! এটি খ্রিস্টানদের মতধারা।
ইসলামে প্রবেশ করতে হলে অবশ্যই সবাইকে শাহাদাহর (কালিমা) সঠিক ব্যাখ্যা জানতে হবে। এর স্বাক্ষ্য দানই ইসলামে প্রবেশের একমাত্র রাস্তা। কেউ বুঝে শুনে এ কালিমার স্বাক্ষ্য দিলে সে হবে মুসলিম, আর অস্বীকার করলে সে হবে কাফির। এ হচ্ছে এমন এক কালিমা যা মানুষের ঈমান ও কুফরীর মধ্যে পার্থক্য করে দেয়। এটি এমন এক কালিমা যা না জানলে প্রত্যেকেরই ইসলামে প্রবেশ গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং এমন প্রত্যেক ব্যক্তি যে নিজেকে মুসলিম দাবী করে তার প্রতি ফারদ হচ্ছে এ
কালিমার সঠিক অর্থ, গুরুত্ব, ফযীলত, এর রোকন এবং এর শর্তাবলী জেনে নিবে, যেন এর দাবী পূরণ করতে পারে, এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা লাভ করতে পারে। কারন এ কালিমা সম্পর্কে অজ্ঞতা, মূর্খতা বান্দার ব্যর্থতা এবং চিরস্থায়ী ধ্বংস ডেকে আনে।
অতএব সেই সব মুসলমান ভাই-বোনদের প্রতি আহবান, যারা নিজেকে মুসলমান বলে দাবী করেন, আসুন আমরা এর সঠিক মর্মার্থ্য জেনে তা পালন করার চেষ্টা করি।
সলাত-রোজা-হাজ্জ্ব-যাকাহর যেমন শর্ত আছে, তেমনি শাহাদারও শর্ত আছে। সলাত সহীহ হওয়ার শর্তাবলীর মধ্যে যদি যে কোন একটি শর্ত যেমন অযু করা বা কিবলামুখী হওয়া ইত্যাদি পূরণ না করা হয়, তাহলে সলাত বাতিল বলে গন্য হবে। তেমনি শাহাদাহ সাতটি শর্ত সম্বলিত, যা পরিপূর্ণ ভাবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োগের পর আমাদের মাঝে ইসলামের প্রথম স্তম্ভ (ঈমান) স্থাপিত হওয়ার দাবী করতে পারব। এ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা এবং এর শর্তগুলো পূরণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ওয়াজিব।
মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর চাচাত ভাই ইবন আব্বাস (রাদিআল্লাহু আনহু) কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিলেনঃ “ইহা কি সত্যি যে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর স্বাক্ষ্যদানই জান্নাতে প্রবেশের চাবিকাঠি?” তিনি জবাব দিলেনঃ “হ্যা সত্যি। তবে প্রত্যেক চাবিতেই কিছু দাঁত থাকে এবং এই দাঁতগুলোর কোন একটির অনুপস্থিতে কাংখিত দরজাটি খোলা
সম্ভব নয়। অনুরূপ ভাবে কালিমারও সাতটি দাঁত রয়েছে এবং আমাদের জীবনে এর যে কোন একটির অভাব ঈমানের দাবীকে পরিপূর্ণ করে না এবং এর ফলে শাহাদাহ অকার্যকর (বাতিল) হয়ে পড়ে।”
সাতটি শর্ত হলঃ
১ম শর্তঃ কালিমার ইলম অর্জন করা
আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন, فاعلم انه لا اله الا الله -
“তুমি জেনে রাখো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই)”। [সূরা মুহাম্মাদঃ১৯]
অবশ্যই বান্দাকে এই কালিমার শব্দসমূহের অর্থের ইলম অর্জন করতে হবে। শাব্দিক অর্থে এর ব্যাখ্যা হল-আল্লাহ ব্যতীত ইবাদাতের যোগ্য কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর প্রেরিত সর্বশেষ নাবী ও রাসূল এবং তাঁর পর আর কোন নাবী বা রাসূল আসবেন না।
কালিমার প্রথম অংশকে ‘তাওহীদ’ এবং দ্বিতীয় অংশকে ‘রিসালাত’ বলা হয়। এর উভয় অংশে বিশ্বাস রাখা অপরিহার্য।

প্রথম অংশ তাওহীদ
তাওহীদ মানে একত্ববাদ। তাওহীদের নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ জানতে ও মানতে হবেঃ

১. তাওহীদ আল রুবুবিয়্যাহ
–আল্লাহই একমাত্র রব-ইলাহ-মালিক-রিযিক্বদাতা-নিরাপত্তাদাতা-আলিমুল গায়িব-সৃষ্টিকর্তা।

২. তাওহীদ আল উলুহিয়্যাহ
একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ব্যতীত অন্য কারো ইবাদাত করা যাবে না। সকল ইবাদাত সলাত, রোজা, কুরবানী একমাত্র আল্লাহর প্রাপ্য, আর কারও নয়।

৩. তাওহীদ আল-আসমা, ওয়াস-সিফাতঃ
আল্লাহর ৯৯টি সুন্দর নাম রয়েছে যার প্রত্যেকটি পৃথক পৃথকভাবে আল্লাহর গুন সমূহকে প্রকাশ করে। এই গুনবাচক নামসমূহের প্রত্যেকটির উপর ঈমান আনা ফারদ।

৪. তাওহীদ আল-হাকীমিয়্যাহ
আল্লাহই একমাত্র আইনদাতা এবং এই বিশ্ব জগতে আল্লাহ ছাড়া আর কেউই আইন প্রণয়নের ক্ষমতা রাখেনা।

প্রত্যেককেই রিসালাত সংক্রান্ত নিম্নোক্ত বিষয় সমূহ জানতে ও মানতে হবেঃ
১. মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর সুবহানাহু ওয়া তা’আলার প্রেরিত সর্বশেষ নাবী ও রাসূল এবং তাঁর প্রতি সর্বশেষ আসমানী কিতাব কুরআন নাযিল করা হয়েছে।
২. সাইয়্যিদুল মুরসালিন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রত্যেকটি কথা, কাজ ও মৌনসম্মতিকে সুন্নাহ বলে, যা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কর্তৃক অনুমোদিত। সুতরাং, প্রত্যেক মুসলমানকে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুন্নাহ অনুসরন করতে হবে।
৩. রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিশ্বজগতের সর্বোৎকৃষ্ট গুনাবলী সম্পন্ন এবং সর্বশ্রেষ্ট মানব।
৪. সবাইকে অবশ্যই নিজ পিতামাতা-সন্তান এবং সমগ্র মানবকুল অপেক্ষা বেশী ভাল বাসতে হবে।

২য় শর্তঃ আল-ইয়াক্বীন - নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করা
আমাদেরকে অবশ্যই শাহাদাহ-র প্রথম শর্ত [তাওহীদ-রিসালাত] এর উপর বিন্দু মাত্র সন্দেহ না রেখে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হবে।

৩য় শর্তঃ আল-কাবুল - প্রকাশ্যে ও গোপনে ঈমানের স্বীকৃতি
তাওহীদ ও রিসালাতের ব্যাপারে অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে এবং যে কোন প্রেক্ষাপটের মোকাবিলায় মৌখিক স্বীকৃতি দান ও বাহ্যিকভাবে মেনে নিতে হবে।

৪ম শর্তঃ আল-ইনকিয়াদ - কুরআন ও সুন্নাহর কাছে পরিপূর্ন আত্নসমর্পন
আমাদেরকে অবশ্যই কুরআন ও সুন্নাহর কাছে পরিপূর্ণভাবে আত্নসমর্পন করতে হবে। কিছু আয়াত মানা এবং বাকী আয়াত অমান্য করা যাবে না।

৫ম শর্তঃ আল-সিদক সত্যবাদীতা
সেই সত্য যা মিথ্যা বা মুনাফিকী কোনটাই অনুমোদন করে না। এ কালিমা শুধূ মুখে উচ্চারন করবে কিন্তু এ কালিমা দ্বারা যা বুঝানো হয়েছে তা যদি অন্তরে অস্বীকার করে, তবে সে নাজাত লাভ করতে পারবে না।

৬ম শর্তঃ আল-ইখলাস -একনিষ্টতা
রিয়ামুক্ত হয়ে একনিষ্টভাবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ইবাদাত করতে হবে।

৭ম শর্তঃ আল-ওয়ালা, ওয়াল বারা -আল্লাহর সন্তুষ্ঠির জন্য ভালবাসা ও ঘৃনা করা
যে কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে একমাত্র আল্লাহরই জন্য ভালবাসতে হবে এবং আল্লাহরই জন্যই ঘৃণা করতে হবে। সাহাবীদের জীবনী থেকে এর বহু উদাহরন পাওয়া যায়। যুদ্ধের ময়দানে নিঃর্দ্বিধায় কাফির পিতা বা পুত্রকে হত্যা করেন অনেক সাহাবী।
মুসলমান হওয়ার জন্য উপরোক্ত ৭টি শর্ত প্রত্যেককেই নিজের জীবনে কার্যকর করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:০২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশে ইসলামপন্থা বনাম গণতন্ত্র: মানুষ যখন নাগরিক থেকে অনুসারী হয়ে উঠছে!

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩


কিছুদিন আগেও আমরা বলতাম, "দয়া করে ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মেশাবেন না"। সরল এই কথাটির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বোধ ছিল - ধর্মীয় বিশ্বাস আর রাজনীতি এক জিনিস নয়। গত দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার হিসেবে আপনার স্ট্র্যাটেজি কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬



গত আড়াই দিনে, অর্থাৎ, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১০-তে ব্লগার ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা থেকে শুরু, এরপর থেকে আজ ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় বিকাল ৪টা ৪২... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×