রাশিয়ার চিঠি রবীন্দ্রনাথের একটি বিখ্যাত রচনা। শিলংয়ের চিঠি তেমন কিছু নয়। শ্রীমতি শোভনা ও শ্রীমতি নলিনী নামের দুই তরুনীর ফরমায়েশে কবি লিখেছিলেন সাধারণ এই ছড়াটি। এ দু তরুনী সম্পর্কে আমি আর কিছুই জানিনা। জানাটা প্রয়োজনীয় ও নয়। কারন আমি কবির জীবনের কোন অনুদঘাটিত রহস্য আবিস্কার করতে বসিনি, কাব্য সমালোচনা তো নয়ই।
কবির জীবনের চতুর্থ পর্ব হিসেবে চিহ্নিত করা হয় যে কাল অর্থাৎ বৃদ্ধ কবির সময়কালের কাব্যগ্রন্থ পূরবীতে ছড়াটি রয়েছে। পরিণত বয়সের রবীন্দ্রনাথ কিছু সাধারণ বর্ননার মাধ্যমে যে জীবনদর্শন এবং অনুপম সাহিত্যরসের প্রকাশ ঘটিয়েছেন এবং তা পাঠ করে আমার যে দারুন একটা অনুভুতি হয়েছে তাই ব্লগার দের সাথে ভাগ করে নেয়ার জন্য এতসব অবতারণা। কবি শুরু করেছেন এভাবে,
ছন্দে লেখা একটি চিঠি চেয়েছিলে মোর কাছে
ভাবছি বসে এই কলমের আর কি তেমন জোর আছে
তরুন বেলায় ছিল আমার পদ্য লেখার বদভ্যাস
মনে ছিল হই বুঝি বা বাল্মিকি কি বেদব্যাস
এখন শুধু গদ্য লিখি তাও আবার কদাচিৎ
আসল ভালো লাগে খাটে থাকতে পড়া সদা চিৎ
এভাবে ভূমিকা দিয়ে কবি এগিয়েছেন সামনের দিকে। এগিয়ে চলেছে মোটামুটি দীর্ঘ এই ছড়া। মূল যে ফরমায়েশ ছিল কবির প্রতি অর্থৎি শিলংয়ের ছন্দোময় বর্ননা প্রদান তাও করেছেন যথারীতি। ফাকে অবশ্য বলে নিয়েছেন,
শিলংগিরির বর্ননা চাও আচ্ছা নাহয় তাই হবে
উচ্চদরের কাব্য কলা না যদি হয় নাই হবে
তারপর কবি শিলংয়ের বেশ চমকপ্রদ বর্ননা দিয়েছেন । যে মুগ্ধতা সঞ্চারনের কারনে এই লেখাটি তা হচ্ছে ছড়াটির শেষাংশ। অনেককিছু বলে শেষে কবি লিখছেন,
ছড়া কিংবা কাব্য কভূ লিখবে পরের ফরমাশে
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জেনো নয়কো তেমন শর্মা সে।
তথাপি এই ছন্দ রচে করেছি কাল নষ্ট তো,
এই খানেতে কারনটি তার বলে রাখি স্পষ্টত-
তোমরা দুজন বয়সেতে ছোটই হবে বোধ করি,
আর আমি তো পরমায়ুর ষাট দিয়েছি শোধ করি।
তবু আমার পক্ক কেশের লম্বা দড়ির সমভ্রমে
আমাকে যে ভয় করনি দূর্বাসা কি যম ভ্রমে,
মোর ঠিকানায় পত্র দিতে হয়নি কলম কম্পিত,
কবিতাতে লিখতে চিঠি হুকুম এল লম্ফিত-
এইটে দেখে মনটা আমার পূর্ণ হলো উৎসাহে,
মনে হলো বৃদ্ধ আমি মন্দ লোকের কুৎসা এ।
মনে হলো আজো আছে কম বয়সের রঙ্গিমা,
জরার কোপে দাড়ি গোপে হয়নি জবড় জঙ্গিমা।
তাই বুঝি সব ছোট যারা তারা যে কোন বিশ্বাসে
একবয়সি বলে আমায় চিনেছে এক নি:শ্বাসে।
এইভাবনায় সেই হতে মন এমনিতরো খুশ আছে,
ডাকছে ভোলা খাবার এল আমার কি আর হুশ আছে।
জানলা দিয়ে বৃষ্টিতে গা ভেজে যদি ভিজুক তো;
ভূলেই গেলাম লিখতে নাটক আছি আমি নিযুক্ত।
মনকে ডাকি হে আত্মরাম ছুটুক তোমার কবিত্ব-
ছোট্ট দুটি মেয়ের কাছে ফুটুক রবির রবিত্ব।
আর কি? রবির রবিত্ব তো আমাদের সাথে সবসময়ই আছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ ভোর ৬:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



