somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিষের দাবড়ানি, মাঝখানে এক বাইদানি

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৬:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাইদানিরা আগে থাকতো নায়, উঠছিলো গাঁয়, কেউকেউ এখন আসছে ঢাকায়। সাপখেলা রাইখা তারা সাপ দিয়া ভয় দেখায় আর পয়সা খায়। ছোট্ট সাপের বাঙ্ হাতে তিন বাইদানি দেখিয়া আমি ভয় খাইলাম, ফুটপাত ছেড়ে রাস্তা ধরলাম। আমি ফুটপাত ছাড়লে কি হবে, বাইদানি আমারে ছাড়েনা। একহাত দিয়া জামা খামচায়ে ধরে অন্য হাতে সাপের বাঙ্ উচু কইরা জপতে থাকে, 10 টাকা দে, 10 টাকা দে। আমি মোচড়াই ঐ বাইদানির সাপের মতোই, বাইদানি ছাড়েনা। বরং প্যাচ দিয়া ধরে তার ঐ সাপের মতোই। তার বদন বরাবর আমার আখিপাত ঘটে নাই অদ্যাবধি। না পেরে পকেটে হাত ঢুকাই, দেখি 10 টাকা নাই। 20 টাকার নোট বাইর করে তার হাতে দিলে সে বুঝে উঠতে পারেনা যে ঘটনা কি? এমন সময় আমি প্রথম তার পানে চাই। আল্লাহর কসম এমন বাড়ি আমি জীবনেও খাই নাই। কালো পেড়ে হলুদ শাড়ির ঘোমটায় আধো ঢাকা মুখটা কোন মানুষের না, একটা পরীর-পাঁখির-ফুলের-চাদের-জোছনার, না দেখা কোন বিহবল নূর অথবা ব্যাখ্যাতীত কোন অচিনতার।

20 টাকার নোটটা নিয়া তার বিভ্রান্তি চলমান থাকতে থাকতেই নিজের বিহবলতার ঘোর কাটাতে আমি বলে উঠি, রাইখা দাও, টাকা তো সাপ দেইখা দি নাই কইন্যা, টাকা দিছি তোমারে দেইখা।

এইবার বাড়িটা সে-ই খায় যে-টা আমি খাইছিলাম। মিলি সেকেন্ডের মতো টাইম আমার চোখে চোখ দিয়া আবার নামাইয়া নিয়া ঘুরে সে রওনা হয়। আমি তাকাই তার পেছন দিকে। সে এবং কাটাবন মোড়ের ল্যাম্পপোস্ট যখন পরস্পরকে মোকাবেলা করছিলো তখনই একতাল অন্ধকার ঝপ কইরা আইসা আমার ঘাড়ের উপরে চড়ে। হায়রে তার বিষ! তারপর সারাটা রাইত সে আমারে দাবড়ায় একেবারে শেষ রাতের স্বপ্ন অবধি। আমি চিউচিউ করে একবার শুধু বলতে পারি, মুই কি হরছি? এইবার আস্ত এট্টা আছড়ানি দিয়া তারপরে আমারে নিংড়ানি দেয় ভিজা কাপড়ের মতো করে। আমি মনে মনে কান্দি আর কই, বাইদানি রহম কর, আমারে রহম কর। ঝাইড়া বিষ নামায়ে দাও।

বাইদানি রহম করে। পরনে লাল শাড়ী, কোমরে পিছা শুধু হাতে সাপের বাঙ্রে বদলে বীণ। কোথায় যেন শব্দ হয় রিনঝিন, রিনঝিন। বাইদানি শব্দ কইরা হাসে আর বলে, ডর দেহাইতে আসি নাই, বিষ নামাইতে আইছি। বীণ বাজে কিন্তু বিষ আর নামেনা। বীণের আওয়াজে অস্থির বিষ আমার গায়ের মধ্যে মোচড়ায়, আর বিষাক্ত দাতে আমারে কামড়ায়। আমি অবাক হয়ে বাইদানির পানে চাই। সেখানে কৌতুক মেশানো হাসি। এইবার সে হাসে হো হো করে।

বিষ নামানোর মন্ত্র তো দি নাই। ক্যান দিমু? তুমি না রসের ব্যাপারী?

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম: আপসহীন সংগ্রামের এক জীবন্ত ইশতেহার।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:০১




​ইতিহাস কেবল বিজয়ীদের খতিয়ান নয়, ইতিহাস মূলত লড়াইয়ের ময়দানে টিকে থাকা কিছু অবিনাশী কণ্ঠস্বরের গল্প। আজ ২৬ জুন। ১৯৯৪ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের এক হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দাওয়াত দিয়েছে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭

দাওয়াত দিয়েছে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এক পছন্দের মানুষ দাওয়াত দিয়েছে
তার ‍সুন্দর জেলা দেখার জন্য
আমিও বলেছি চলে আসবো হঠাৎ-
একদিন দেখতে, দেখবো ঘুরে ঘুরে
তার পুরো শহর , তার গ্রাম, তার বাড়ি
বিশেষ করে তাকে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালি মুসলমান সম্বন্ধে ChatGPT র মূল্যায়ন !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:০৯

ChatGPT কে "বাঙালি মুসলমান বনাম প্রকৃত ইসলাম" এর উপর একটা প্রবন্ধ লিখতে বলেছিলাম, কয়েক সেকেন্ডে যা লিখেছে হুবুহু তুলে দিলাম ! আপত্তি থাকলে চ্যাটজিপ্ট দায়ী !!

বাংলার মুসলমান সমাজকে দেখলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×