somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লজ্জা মানব চরিত্রের ভুষণ

১৬ ই এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৫:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লজ্জা মানব চরিত্রের শ্রেষ্ঠ অলঙ্কার। আল্লাহ প্রদত্ত এক অনন্য গুণ। এর উৎপত্তি ঈমান থেকে। এটি এমন গুণ যা মানুষকে সব ধরনের কদর্মতা, মলিনতা ও কলুষতা থেকে মুক্ত রাখে এবং ব্যক্তিকে পবিত্রতা, স্বচ্ছতা ও নির্মলতার চরিত্র বিকাশে বিকশিত করে তোলে।
লজ্জার অর্থ: মানসিক সংকোচন, নমনীয়তা, চারিত্রিক ভদ্রতা ও লাজুকতা।
আল্লামা কিরমানী (রহ.) বলেছেন, ‘লজ্জা এমন একটি মানসিক শক্তি, যা ব্যক্তিকে আল্লাহর নিকট ও মানুষের নিকট ঘৃণিত কাজগুলো থেকে দুরে রাখে।’
আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী (রহ.) বলেছেন, ‘মন্দ কাজে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় আত্মা প্রদমিত থাকাকে লজ্জা বলে। নিন্দা ও সমালোচনার ভয়ে কোনো দুষণীয় কাজ করতে মানুষের মধ্যে যে জড়ত্ববোধ তৈরি হয়, সেটাই হলো লজ্জা। যদি কেউ দৈহিক ও আত্মিক শক্তিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও যথাযথ স্হানে প্রয়োগ করে এবং পানাহারের চাহিদা ও আত্মিক কামনাসমুহ নিয়ন্ত্রণ এবং যথাস্থানে ব্যবহার করে, তবে তার মধ্যে লজ্জার বিকাশ ঘটতে পারে।
লজ্জার উপকারিতা সুদুরপ্রসারী: ঈমানের পুর্ণতার জন্য লজ্জার প্রয়োজন। কারণ ঈমান যেসব নেক কাজের দাবি করে, লজ্জা ওইগুলোর সহায়ক।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।’ সুতরাং ঈমান থাকা না থাকার বিষয়টি লজ্জার ওপর নির্ভরশীল।’
রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, ‘যার লজ্জা নেই, তার ঈমান নেই।’
লজ্জা ও ঈমান একে অপরের পরিপুরক: রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘লজ্জা ও ঈমান পরস্পর অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। যখন দু’টির একটি চলে যায়, তখন অপরটিও চলে যায়।’
হাদীসে এসেছে, ‘একদা রাসুল (সা.) এক আনসারী সাহাবীর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শুনতে পান, সে তার ভাইকে বেশি লজ্জাশীল না হওয়ার উপদেশ দিচ্ছিলেন, তখন রাসুল (সা.) বলেন, তাকে ছেড়ে দাও; কেননা লজ্জা হলো ঈমানের অংশ।’ (আবু দাউদ)
সুতরাং দেখা যায়, লজ্জা ও ঈমানের সম্পর্ক গভীরভাবে বিদ্যমান।
লজ্জা চরিত্রের ভুষণ: লজ্জা মানুষকে যাবতীয় অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও নোংরামি থেকে বিরত রাখে। এ গুণ যার ভেতর আছে, সে কখনো অন্যায় ও অপমানসুচক কাজ এবং আল্লাহ ও তার রাসুলের নাফরমানি করতে পারে না।
উম্মাহাতুল মুমেনীন হজরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) বলেছেন হে আয়েশা! লজ্জা যদি কারো ভুষণ হয়, তবে সে একজন সৎ লোক এবং অশ্লীলতা যদি কারো ভুষণ হয়, তবে সে একজন অসৎ লোক।’
রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তির কোনো বিষয়ে যদি অশ্লীলতা থাকে, তবে তা তার সম্মানহানী করে, আর কারো কোনো বিষয়ে যদি লজ্জাশীলতা থাকে, তবে তা তাকে সুশোভিত করে।’
লজ্জা শুধু মানবীয় গুণই নয়; আল্লাহপাকও এ গুণে গুণান্বিত
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রতিপালক লজ্জাশীল, পরম দয়ালু। বান্দা যখন তার দরবারে মোনাজাতে হাত উত্তোলন করে, তখন তিনি তা ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।
লজ্জা জান্নাত-জাহান্নামের প্রবেশদ্বার: রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘লজ্জা ঈমানের একটি শাখা। ঈমান মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ করায়। আর অশ্লীল কথাবার্তা দুশ্চরিত্রের একটি শাখা। আর দুশ্চরিত্র মানুষকে জাহান্নামে প্রবেশ করায়।
হাদিসে কুদসীতে আল্লাহপাক বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তিনটি বস্তু ব্যতীত অন্যসব কিছু সরাসরি স্বীয় হস্তে সৃষ্টি করেননি। তিনি যাবতীয় বস্তুকে বলেছেন- হও, তখন তা হয়ে গেছে। আল্লাহ পাক আদম ও ফেরদাউসকে স্বহস্তে সৃষ্টি করলেন এবং তাকে (ফেরদাউসকে) বললেন, আমার ইজ্জত ও মর্যাদার কসম! তোমার মধ্যে কোনো কৃপণ আমার সান্নিধ্যে বাস করতে পারবে না। আর কোনো নির্লজ্জ ব্যক্তি তোমার সুগন্ধ পাবে না।’ (দায়লামী)
লজ্জাহীন ব্যক্তির কাজের কোনো বিচার বিশ্লেষণ নেই
নির্লজ্জ ব্যক্তি মান-ইজ্জত, হালাল-হারাম, ভালো-মন্দ, উৎকৃষ্ট-নিকৃষ্ট, অনাচার-দূরাচার ও চক্ষুলজ্জা বলতে কোনো বাছবিচার নেই। লজ্জাহীন ব্যক্তি গর্বের ন্যায় নিকৃষ্ট কাজ করতেও দ্বিধাবোধ করে না। নির্লজ্জ ব্যক্তি উলঙ্গপনা, অশ্লীলতা, বেপর্দা, বেহায়াপনা, বেআদবী ও মানব চরিত্রের যত নিকৃষ্ট ও নোংরামি কাজ আছে সবই করতে পারে।
হাদিসে এসেছে, হজরত আবু মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) বলেছেন, যখন তোমার লজ্জা না থাকে, তখন তুমি যা ইচ্ছে তা করতে পার।’ (আবু দাউদ)
তাই লজ্জাহীনতা ও অশ্লীলতা বর্জনের উদ্দেশ্যে আল্লাহপাক বলেছেন, ‘আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসঙ্গত কাজ এবং অবাধ্যতা করতে বারণ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ (সুরা নাহল, আয়াত : ৯০)
সুতরাং লজ্জার মতো শ্রেষ্ঠগুণের সমাহারে মানব চরিত্রকে বিকল্পিত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন ঈমানকে পরিপুর্ণভাবে সজীব করে তোলা। ঈমানের পুর্ণ সজীবতা এলে লজ্জাহীনতা আস্তে আস্তে দূর হতে থাকবে এবং লজ্জানামীয় শ্রেষ্ঠ গুণটি অন্তরে স্থান পাবে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×