হাত বেধে নামায আদায় করা, ও একটি বিদআত
إذا قبلت، قبلت ما سواها و إذا ردّت، ردّت ما سواها
অর্থ: “যদি নামায (খোদার দরবারে) কবুল হয়ে যায়, তবে অন্যান্য সব কর্মও কবুল হয়ে যাবে, আর যদি নামায গ্রহণীয় না হয় তাহলে (বান্দার) আর কোন কিছুই কবুল করা হবেনা”।
এতে বুঝা যায় যে, অবশ্যই কোন বড় রকমের ষড়যন্ত্র বা কোন অদৃশ্য হাত এর পেছনে রয়েছে। যে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজকে যদি নষ্ট করে মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ততে ফেলে দেয়া যায় তাহলে অন্যান্য সব বিষয়ে অনায়াসেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হবে। কারা করেছিল এ কাজটি?
এটা অবশ্য ঠিক যে, হাত বাঁধার ব্যপারে বিভিন্ন রকম দৃষ্টি ভঙ্গি রয়েছে। আর এই দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে যা নিয়ে ঐক্যের সৃষ্টি হতে পারে তা হল এই যে, কেউই এটাকে (হাত বাধা) ওয়াজিব বা অবশ্য করণীয় বলে দাবী করেনি। তাহলে একে অপরের জামাতে শরিক হয়ে ঐক্যের খাতিরে তাদের মত নামায পড়বোনা কেন? এতে « انما المؤمنون اخوة » ও “মুমিনরা একে অপরের ভাই ভাই” কথাটা দৃঢ়তর হয়। আর মুসলমানদের শত্রুর বিরুদ্ধে আমাদের করণীয় ও দায়িত্ব পরিস্কার হয়ে যায়। তাহলে মুসলমানদেরকে নিজেদের মধ্যে লেলিয়ে দেওযাতে লাভটি কার? অবশ্যই শত্রু পক্ষের। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথাগুলো বেশীরভাগ আমরা আমাদের মুসলমান ভাইদের মুখে শুনে থাকি। এরা দালাল কিনা জানিনা খোদা বলতে পারবেন। এমনকি মুসলমান একদল অপরদলকে কাফের বলতেও দ্বিধাবোধ করেনা। আর শুনেছি এসব ফতোবাজি যে আলেমরা করে, তার বেশীভাগ হয় সৌদির টাকায় রক্ত মাংশ করেছেন অথবা জামাতের লোক। যদি কথাটা সত্য হয় আল্লাহই তাদের হেদায়াত করুক। কমপক্ষে সুস্থমস্তিষ্কের লোকদের হুশিয়ার থাকা উচিৎ।
যাইহোক যা বলছিলাম তা হচ্ছে এই যে, শীয়ারা হাত বেঁধে নামায পড়াকে হারাম মনে করে এবং তাতে নামায বাতিল হয় বলে মত পোষণ করে। আর আহলে সুন্নতের কোন মাযহাবেই হাত বাঁধাকে ওয়াজিব বলা হয়নি। অবশ্য কেউ কেউ এটাকে মুস্তাহাব আবার একদল ওয়াজিব নামাযে এটাকে মাকরুহও বলেছেন। আর নবী করিম(সা.) ও প্রথম খলিফার সময়ে, সব সাহাবারা হাত ছেড়ে দিয়ে বা হাত খুলে নামায পড়তেন, দ্বিতীয় খলিফা পযর্ন্ত সময়ে এসে এই হাত বাঁধার বিদআত শুরু হয়।
আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের একজন বিখ্যাত আলেম ইবনে রুশদ কুরতুবি ওন্দোলুসি তার বিদায়াতুল মুজতাহীদ, ১’ম খন্ড, কেতাবুস সালাত, ২’য় অধ্যায়, পৃষ্ঠা: ১৩৬-১৯৩, ৫’ম বিষয়ে উল্লেখ করেন: হাতের উপর হাত রেখে (হাত বেঁধে) নামায আদায় করা সম্পর্কে (আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের) ওলামাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। মালেক ইবনে আনাস ওয়াজিব নামাজে এটাকে মাকরুহ ও নফল নামাজে জায়েজ বলে মনে করেন, বেশীর ভাগ লোক এটাকে মুস্তাহাব মনে করেন। আর এই মতপার্থক্যের কারণ হিসেবে যা আমরা পাই, তা হচ্ছে কিছু সহীহ হাদীস বা রেওয়ায়্যাত। যেখানে নবী করিমের(সা.) নামাযের বর্ণনা দেয়া আছে। কিন্তু সেখানে বর্ণনা করা হয়নি যে রাসুল(সা.) বাম হাতের উপর ডান হাতটি রাখতেন। অপরদিকে জনগণকে হাত বেঁধে নামায পড়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই নির্দেশ দেনে ওয়ালা সম্মন্ধে কোন তথ্য নেই যে, কে এই নির্দেশ দিয়েছে বা কার পক্ষ হতে হুকুম এসেছে।
আর আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের ভায়েরা যে বিশেষ দলীল প্রমানের উপর ভর করে এ কাজটি করে থাকেন তা হচ্ছে মাত্র দু’টো রেওয়ায়্যাত বা হাদীস:
১। সাহল ইবনে সা’দ হতে বুখারি বণর্না করেন যে, জনগণকে হাতের উপর হাত রেখে (হাত বেঁধে) নামায পড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আবু হাযেম বলেন: নবী করিমের(সা.) হুকুম না হলে (যা কোথাও নেই) এ হাদীসকে সহীহ বলে মনে করি না। (সহীহ বুখারি ১’ম খন্ড, পৃষ্ঠা: ১৩৫।)
২। এ দ্বিতীয় হাদীসটি অবশ্য মুরসাল বা সব বণর্নাকারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি; কেননা আলকামা ইবনে ওয়ায়েল তার বাবা থেকে যে সকল হদীস বণর্না করেছেন আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত সেগুলোকে মুরসাল মনে করে আর বলে এসব হাদীস বিশ্বস্ত নয়।
কিছু কিছু রেওয়ায়্যাতের বণর্না মতে একদিন মাজুসের (অগ্নি পূজারী) কিছু বন্দী ওমরের(র.) কাছে আসে এবং সম্মানের উদ্দেশ্যে তাদের দুটি হাত বুকের উপরে ছিল। তার কারণ জিজ্ঞেস করাতে তারা বলল: আমরা বড়দের সম্মানের খাতিরে এ কাজটি করি। ওমরকে(র) এ কাজটি পছন্দ হল এবং নির্দেশ দিল যে, অধিক বিনয়ের উদ্দেশ্যে নামাযে এমনই করা হোক। (জাওয়াহিরুল কালাম, ১১’তম খন্ড, পৃষ্ঠা: ১৯; ভুল ধারণার অপনোদন, তাবাসি।।)
আর এই কারণে শীয়া মাযহাবের লোকেরা হাত বেঁধে নামায পড়াকে জায়েজ মনে করে না।
তাহলে কি কোরান ও হাদীসে রাসুল(সা.) যথেষ্ট ছিল না যে মাজুসের (অগ্ন পূজারক) কাছ থেকে ইসলামের তয়-ত্বরিকা গ্রহণ করতে হবে।! তাহলে কোনটি ঠিক? শীয়ারা যা করে সেটিই ঠিক নাকি আমাদের আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের ভায়েরা যেরুপ নামায পড়ে সেটা? আমাদের অবশ্যই জানতে হবে এবং নবী করিমের(সা.) ন্যায় সঠিক রুপে নামাজ আদায় করতে হবে।
فاسئلوا اهل الذکر إن کنتم لا تعلمون
অর্থ: “যদি তোমরা না জান তাহলে আহলে জিকিরের (যারা কোরান বিষয়ে জ্ঞানী) কাছে জিজ্ঞেস কর”।
মিথ্যাবাদী কাউবয় "ট্রাম্প" এবং ইরান যুদ্ধের খবর

দিনের শুরুটা হলো ট্রাম্পের মিথ্যা দিয়ে। তিনি লিখলেন: "ইরানে সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে, যা আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করবে।" পরে জানা গেলো, ট্রাম্প যথারীতি মিথ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার হারিয়ে যাবার গল্প
তোমাকে আমি কোথায় রাখি বলো,
চোখের ভিতর রাখলে
ঘুম ভেঙে যায় বারবার,
বালিশের নিচে রাখলে
স্বপ্নে এসে কাঁদো।
তুমি কি জানো
আমার এই শরীরটা এখন
পুরোনো বাড়ির মতো,
দরজায় হাত দিলেই কেঁপে ওঠে,
জানালায় হাওয়া লাগলেই
তোমার নাম ধরে ডাকে।
আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন
মানব সভ্যতার নতুন অধ্যায়

আজ মানব জাতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
তারিখঃ ২৪ শে মার্চ, ২০২৬
সময়ঃ বিকাল ৪টা, (নর্থ আমেরিকা)
আমেরিকার কংগ্রেস স্বীকার করে নিল ভীন গ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব। স্বীকার করে নিল পৃথিবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন
আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।
আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।
আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই কালরাতে Operation Searchlight নামের বর্বর অভিযানের মাধ্যমে পাক আর্মি নিরস্ত্র বাঙালির উপর ইতিহাসের জঘন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন
ওয়ান-ইলেভেন: স্মৃতিহীন জাতির হঠাৎ জাগরণ!
কাভার- সরাসরি আপলোড না হওয়াতে!!
ওয়ান-ইলেভেন: স্মৃতিহীন জাতির হঠাৎ জাগরণ!
জেনারেল মাসুদের গ্রেপ্তার হতেই হঠাৎ দেখি-
সবাই একসাথে ওয়ান-ইলেভেন-কে ধুয়ে দিচ্ছে!
মনে হচ্ছে, এই জাতির কোনো অতীতই নেই।
বাঙালির স্মৃতিশক্তি আসলেই কচুপাতার পানির মতো-এক ঝাপটায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।