মুসলমানদের বিখ্যাত পাঁচটি মাযহাব হচ্ছে হানাফি, শাফেঈ, হাম্বালী, মালেকি ও জাফারি। আর এদের মধ্যে আহলে সুন্নতের চারটি ও একটি হল শীয়া। নামাযের সময় দুই হাতকে কিভাবে রাখতে হবে, এ নিয়ে পাঁচটি মাযহাবের মধ্যে দৃষ্টিগত পার্থক্য রয়েছে। আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের তিনটি মাযহাব অবশ্য হাত বেঁধে নামায পড়ে। আর সুন্নি একটি ও শীয়া, এই দু’টি মাযহাবের অনুসারিরা হাত ছেড়ে দিয়ে নামায আদায় করেন। কথা হল রাসুল(সা.) তো নামায আদায় করতেন এবং অবশ্যই সাহাবা কেরামদের তা দেখার এবং জানার কথা। নাউযুবিল্লাহ রাসুল(সা.) তো বে নামাযি ছিলেন না। আর লুকিয়েও নামায পড়ার কোন প্রয়োজন বা যুক্তি আমরা পাইনা। তবে এত প্রকার নামায পড়ার তয় তরিকা কোথা থেকে এল? মুসলমানদের এই সবচেয়ে বড় ইবাদতের বিকৃত করার পেছনে কোন ষড়যন্ত্র নেইতো? কেননা হাদীসে এসেছে:
إذا قبلت، قبلت ما سواها و إذا ردّت، ردّت ما سواها
অর্থ: “যদি নামায (খোদার দরবারে) কবুল হয়ে যায়, তবে অন্যান্য সব কর্মও কবুল হয়ে যাবে, আর যদি নামায গ্রহণীয় না হয় তাহলে (বান্দার) আর কোন কিছুই কবুল করা হবেনা”।
এতে বুঝা যায় যে, অবশ্যই কোন বড় রকমের ষড়যন্ত্র বা কোন অদৃশ্য হাত এর পেছনে রয়েছে। যে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজকে যদি নষ্ট করে মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ততে ফেলে দেয়া যায় তাহলে অন্যান্য সব বিষয়ে অনায়াসেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হবে। কারা করেছিল এ কাজটি?
এটা অবশ্য ঠিক যে, হাত বাঁধার ব্যপারে বিভিন্ন রকম দৃষ্টি ভঙ্গি রয়েছে। আর এই দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে যা নিয়ে ঐক্যের সৃষ্টি হতে পারে তা হল এই যে, কেউই এটাকে (হাত বাধা) ওয়াজিব বা অবশ্য করণীয় বলে দাবী করেনি। তাহলে একে অপরের জামাতে শরিক হয়ে ঐক্যের খাতিরে তাদের মত নামায পড়বোনা কেন? এতে « انما المؤمنون اخوة » ও “মুমিনরা একে অপরের ভাই ভাই” কথাটা দৃঢ়তর হয়। আর মুসলমানদের শত্রুর বিরুদ্ধে আমাদের করণীয় ও দায়িত্ব পরিস্কার হয়ে যায়। তাহলে মুসলমানদেরকে নিজেদের মধ্যে লেলিয়ে দেওযাতে লাভটি কার? অবশ্যই শত্রু পক্ষের। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথাগুলো বেশীরভাগ আমরা আমাদের মুসলমান ভাইদের মুখে শুনে থাকি। এরা দালাল কিনা জানিনা খোদা বলতে পারবেন। এমনকি মুসলমান একদল অপরদলকে কাফের বলতেও দ্বিধাবোধ করেনা। আর শুনেছি এসব ফতোবাজি যে আলেমরা করে, তার বেশীভাগ হয় সৌদির টাকায় রক্ত মাংশ করেছেন অথবা জামাতের লোক। যদি কথাটা সত্য হয় আল্লাহই তাদের হেদায়াত করুক। কমপক্ষে সুস্থমস্তিষ্কের লোকদের হুশিয়ার থাকা উচিৎ।
যাইহোক যা বলছিলাম তা হচ্ছে এই যে, শীয়ারা হাত বেঁধে নামায পড়াকে হারাম মনে করে এবং তাতে নামায বাতিল হয় বলে মত পোষণ করে। আর আহলে সুন্নতের কোন মাযহাবেই হাত বাঁধাকে ওয়াজিব বলা হয়নি। অবশ্য কেউ কেউ এটাকে মুস্তাহাব আবার একদল ওয়াজিব নামাযে এটাকে মাকরুহও বলেছেন। আর নবী করিম(সা.) ও প্রথম খলিফার সময়ে, সব সাহাবারা হাত ছেড়ে দিয়ে বা হাত খুলে নামায পড়তেন, দ্বিতীয় খলিফা পযর্ন্ত সময়ে এসে এই হাত বাঁধার বিদআত শুরু হয়।
আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের একজন বিখ্যাত আলেম ইবনে রুশদ কুরতুবি ওন্দোলুসি তার বিদায়াতুল মুজতাহীদ, ১’ম খন্ড, কেতাবুস সালাত, ২’য় অধ্যায়, পৃষ্ঠা: ১৩৬-১৯৩, ৫’ম বিষয়ে উল্লেখ করেন: হাতের উপর হাত রেখে (হাত বেঁধে) নামায আদায় করা সম্পর্কে (আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের) ওলামাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। মালেক ইবনে আনাস ওয়াজিব নামাজে এটাকে মাকরুহ ও নফল নামাজে জায়েজ বলে মনে করেন, বেশীর ভাগ লোক এটাকে মুস্তাহাব মনে করেন। আর এই মতপার্থক্যের কারণ হিসেবে যা আমরা পাই, তা হচ্ছে কিছু সহীহ হাদীস বা রেওয়ায়্যাত। যেখানে নবী করিমের(সা.) নামাযের বর্ণনা দেয়া আছে। কিন্তু সেখানে বর্ণনা করা হয়নি যে রাসুল(সা.) বাম হাতের উপর ডান হাতটি রাখতেন। অপরদিকে জনগণকে হাত বেঁধে নামায পড়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই নির্দেশ দেনে ওয়ালা সম্মন্ধে কোন তথ্য নেই যে, কে এই নির্দেশ দিয়েছে বা কার পক্ষ হতে হুকুম এসেছে।
আর আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের ভায়েরা যে বিশেষ দলীল প্রমানের উপর ভর করে এ কাজটি করে থাকেন তা হচ্ছে মাত্র দু’টো রেওয়ায়্যাত বা হাদীস:
১। সাহল ইবনে সা’দ হতে বুখারি বণর্না করেন যে, জনগণকে হাতের উপর হাত রেখে (হাত বেঁধে) নামায পড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আবু হাযেম বলেন: নবী করিমের(সা.) হুকুম না হলে (যা কোথাও নেই) এ হাদীসকে সহীহ বলে মনে করি না। (সহীহ বুখারি ১’ম খন্ড, পৃষ্ঠা: ১৩৫।)
২। এ দ্বিতীয় হাদীসটি অবশ্য মুরসাল বা সব বণর্নাকারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি; কেননা আলকামা ইবনে ওয়ায়েল তার বাবা থেকে যে সকল হদীস বণর্না করেছেন আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত সেগুলোকে মুরসাল মনে করে আর বলে এসব হাদীস বিশ্বস্ত নয়।
কিছু কিছু রেওয়ায়্যাতের বণর্না মতে একদিন মাজুসের (অগ্নি পূজারী) কিছু বন্দী ওমরের(র.) কাছে আসে এবং সম্মানের উদ্দেশ্যে তাদের দুটি হাত বুকের উপরে ছিল। তার কারণ জিজ্ঞেস করাতে তারা বলল: আমরা বড়দের সম্মানের খাতিরে এ কাজটি করি। ওমরকে(র) এ কাজটি পছন্দ হল এবং নির্দেশ দিল যে, অধিক বিনয়ের উদ্দেশ্যে নামাযে এমনই করা হোক। (জাওয়াহিরুল কালাম, ১১’তম খন্ড, পৃষ্ঠা: ১৯; ভুল ধারণার অপনোদন, তাবাসি।।)
আর এই কারণে শীয়া মাযহাবের লোকেরা হাত বেঁধে নামায পড়াকে জায়েজ মনে করে না।
তাহলে কি কোরান ও হাদীসে রাসুল(সা.) যথেষ্ট ছিল না যে মাজুসের (অগ্ন পূজারক) কাছ থেকে ইসলামের তয়-ত্বরিকা গ্রহণ করতে হবে।! তাহলে কোনটি ঠিক? শীয়ারা যা করে সেটিই ঠিক নাকি আমাদের আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের ভায়েরা যেরুপ নামায পড়ে সেটা? আমাদের অবশ্যই জানতে হবে এবং নবী করিমের(সা.) ন্যায় সঠিক রুপে নামাজ আদায় করতে হবে।
فاسئلوا اهل الذکر إن کنتم لا تعلمون
অর্থ: “যদি তোমরা না জান তাহলে আহলে জিকিরের (যারা কোরান বিষয়ে জ্ঞানী) কাছে জিজ্ঞেস কর”।
আলোচিত ব্লগ
মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ পাখির জগত

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোহভঙ্গ!

পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।