প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে অনেক ছাত্র বিদেশে পড়াশোনা করতে যায়| বড়দের কাছ থেকে অনেক উপদেশের মধ্যে একটা হলো দেশ থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে আসা| আমিও তাই ২০০৯ সালে জাপান আসার আগে "সত্যিকারের বাংলাদেশী ড্রাইভিং লাইসেন্স" নেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগলাম| সে সময় ইন্টারনেটে খুঁজে পেলাম একমাত্র ধানমন্ডির এই ড্রাইভিং স্কুলটির তথ্য: http://www.oneschoolofdriving-shoeb.com/ সে অনুযায়ী ওদের কাছ থেকে শিখলাম Basic Driving Course (Auto Transmission)
প্রশিক্ষণ শেষে ড্রাইভিং স্কুলগুলো সাধারণত কিছু অতিরিক্ত (!) টাকার বিনিময়ে লাইসেন্সের ব্যবস্থা (!) করে দেয়, কিন্তু আমি ভাবলাম আমি সাধারণ জনগনের মতো করেই অতিরিক্ত (!) টাকা না দিয়ে লাইসেন্স তুলবো| আর এটি করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা আজকে সবাইকে জানাবো|
বাংলাদেশী ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম ধাপ হলো "তত্ত্বীয় পরীক্ষা", যা আমি খুব ভালোভাবেই পাশ করলাম কিন্তু ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় দেখা দিল বিপত্তি| যথারীতি সেখানে আমি ফেল করলাম এবং সততার সাথে পরীক্ষক আমাকে পরবর্তী পরীক্ষার জন্য আবার আবেদন করতে বললেন|
দ্বিতীয়বার আমি আর কোন ঝুকি না নিয়ে আমার ড্রাইভিং স্কুলের শোয়েব ভাইকে কিছু অতিরিক্ত (!) টাকার বিনিময়ে আসল লাইসেন্সের ব্যবস্থা (!) করে দিতে বললাম| এর ফলে আমাকে পরীক্ষার দিন ভিআইপিদের সম্মান দেয়া হলো এবং "তত্ত্বীয় পরীক্ষার" সময় আমার খাতায় বিশেষ চিহ্ন দেয়া ছিলো| আমার ড্রাইভিং স্কুল আমাকে এও বলেছিল, ভুল উত্তর না দিয়ে আমার সাদা খাতা জমা দিলেও সমস্যা নাই! দশ মিনিট পরে পরীক্ষা শেষে আমাকে আর আমজনতার মতো ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে হলো না| সুতরাং আমার আসল বাংলাদেশী ড্রাইভিং লাইসেন্সটি আমি পেলাম ব্যবহারিক পরীক্ষা না দিয়েই!
যথারীতি পরের মাসে আমি পেয়ে গেলাম আমার আসল বাংলাদেশী ড্রাইভিং লাইসেন্স| এটা প্রমানিত সত্য যে ড্রাইভিং এর বিন্দুমাত্র জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও আসল বাংলাদেশী ড্রাইভিং লাইসেন্স যে কেউ পেতে পারে কিছু অতিরিক্ত (!) টাকার বিনিময়ে|
আমার ড্রাইভিং লাইসেন্সটি আমার অনেক বন্ধু ভাজ করে ভাঙ্গার চেষ্টা করে দেখেছে আসলেই আসল বাংলাদেশী ড্রাইভিং লাইসেন্স কিনা| তার কারণ তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্সটি তৈরী করা হয়েছে নীলক্ষেত থেকে যা দেখতে আসলের মতই কিন্তু ভাজ করলে ভেঙ্গে যায়!
জাপান আসার পর জানতে পারি জাপানে বাংলাদেশী ড্রাইভিং লাইসেন্সকে খুবই সন্দেহের চোখে দেখা হয়! তার কারণ বিগত ৫ বছরে কয়েক হাজার বাংলাদেশী প্রায় কয়েকশ রকমের বাংলাদেশী ড্রাইভিং লাইসেন্স জমা দিয়েছে, যার ফলে আসল বাংলাদেশী ড্রাইভিং লাইসেন্স হলেও ওরা সন্দেহ করে! সন্দেহ করবে নাই বা কেন? সব নকলের এই দেশে আসল চেনা বড়ই কঠিন!
পরিশেষে একটি কৌতুক:
এক সাংবাদিক এক বাস ড্রাইভার কে জিজ্ঞেস করলো ওই যে ট্রাফিক সাইনটি দেখা যায় দুইটা বাচ্চার ছবি হাতে স্কুল ব্যাগ এটার মানে কি? বাস ড্রাইভার বললো "ছেলে হোক মেয়ে হোক দুটি সন্তানই যথেষ্ট"!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০১১ ভোর ৪:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



