somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গঙ্গার জল

২৯ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গঙ্গার জল কেন এত পবিত্র .....???

.......................................বাপন


একজন হিন্দু ছোট থেকে বড়ো হওয়া অবধি দেখে আসেযে সকল কাজে গঙ্গাজল ছিটিয়ে পবিত্র করার রীতি। আসলেই কি গঙ্গার জলে এমন কোনো উপাদান আছে যা সকল কিছু পবিত্র করে দিতে পারে না এটা শুধুই ধর্মীয় নিয়ম। চলুন আমরা সে বিষয়ে কিছু তথ্য দেখে আসি।

১).গঙ্গাজলের ব্যাকটেরিয়া বিরোধী স্বভাব :
হিন্দুরা গঙ্গাজলকে সবসময় পবিত্র ও পানযোগ্য বলে বিশ্বাস করে আসছে। হিন্দুধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতে (জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি) গঙ্গাজলকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে দেখা হয়। কিন্তু এটা প্রমাণ করার সত্যিকার অর্থে কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি আছে কিনা? ১৮৯৬ সালে ব্রিটিশ ব্যাকটেরিয়াবিদ আর্নেস্ট হ্যানবুরি হ্যানকিন গঙ্গাজলকে পরীক্ষা করে একটি প্রবন্ধ লেখেন যা এ প্রকাশিত হয়। এখানে বর্ণনা করা হয়েছে যে, কলেরা রোগের প্রধান কারণ ব্যাকটেরিয়া জীবাণুকে গঙ্গাজলে রেখে দিলে তা তিন ঘন্টার মধ্যে মারা যায়। টিক এই ব্যাকটেরিয়াই আবার ছেঁকে নেয়া জলে আটচল্লিশ ঘণ্টা পর্যন্ত বিস্তার লাভ করতে থাকে। তিনি প্রবন্ধে আরও উল্লেখ করেন- এ নদীর জল এবং এর পার্শ্ববর্তী যমুনা নদীর জল সেই সময়কার ভয়াবহ কলেরা রোগের জন্য দায়ী ছিল, একইভাবে ১৯২৭ সালে ফরাসী বংশোদ্ভুত কানাডিয়ার অণুজীববিদ কলেরা ও ডায়রিয়ায় মারা যাওয়া লোকদের ভাসমান দেহের কয়েক ফুট নিচ থেকে সংগৃহীত জলে কোন জীবাণু না পেয়ে বিস্মিত হন। ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী ভাইরাসের উপস্থিতিকেই গঙ্গাজলের গুণ ও পবিত্রতার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২).গঙ্গার পঁচন বিরোধী উপাদান :
নদীর জল সাধারণত পঁচে যায় যখন অক্সিজেনের অভাবে ব্যাকটেরিয়া জন্ম দেয় যা জলকে একটি ভিন্ন গন্ধ ও পঁচা স্বাদ প্রদান করে। গঙ্গা জলকে যদিও সবচেয়ে ময়লাযুক্ত বিবেচনা করা হয়। অনেকদিন ময়লায় ভরে থাকলেও এর জল পঁচে না। প্রকৃতপক্ষে, ব্রিটিশ চিকিৎসক সি. ই নেলসন নিরীক্ষা করে দেখছেন যে, গঙ্গার অন্যতম অপরিস্কার জায়গা হুগলী নদী থেকে ইংল্যান্ডে ফিরে যাওয়া জাহাজ কর্তৃক সংগৃহীত জল পুরো যাত্রাপথ জুড়েই নির্মল, পরিষ্কার ও সতেজ ছিল। একারণেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জাহাজগুলো ইংল্যান্ডে ফিরে যাওয়া সময় তিন মাসের পানীয় জল হিসেবে শুধুই গঙ্গাজল ব্যবহার করত। কারণ এটা থাকত স্বাদু ও সজীব। নয়া দিল্লীর ম্যালেরিয়া গবেষণা কেন্দ্র (Malaria Research Centre) পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, গঙ্গার উপরিস্তরের জলে মশা জন্মায়নি এবং এজল যখন অন্য জলের সাথে যুক্ত করা হলে সেখানেও মশার বংশবৃদ্ধিকে প্রতিরোধ করত।

৩).গঙ্গার উচ্চ দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা :
ভারতীয় পরিবেশ প্রকৌশলী ডি. এস. ভার্গব গঙ্গা নিয়ে তিন বছর গবেষণার মাধ্যমে এসিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, অন্যান্য নদীর তুলনায় গঙ্গা অত্যন্ত দ্রুত তার জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা কমিয়ে আনতে সক্ষম। ভার্গব বলেন, সাধারণত জৈব উপাদানগুলো নদীর অক্সিজেনকে নিঃশেষ করে এবং পঁচতে শুরু করে। কিন্তু গঙ্গার এক অজ্ঞাত উপাদান এ জৈব উপাদান ও ব্যাকটেরিয়ার উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং তাদেরকে হত্যা করে। তিনি আরো বলেন, গঙ্গার নিজেকে পরিশুদ্ধ রাখার গুণ পৃথিবীর অন্যান্য নদীর তুলনায় পঁচিশ গুণ অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি করে।

৪).গঙ্গার ফ্যান :
নদীগর্ভস্থ ফ্যান হলো নদীর অত্যাধিক মাত্রার পলি থেকে গঠিত এক ভূমিরূপ। গঙ্গার (Bengal Fan) হলো পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ নদীগর্ভস্থ ফ্যান। এটি প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং প্রায় ১০০০ কি.মি. প্রস্থ যার সর্বোচ্চ পুরুত্ব ১৬.৫ কি.মি. বলা হয় যে, এ ফ্যান বঙ্গোপসাগর জুড়ে বিস্তৃত। স্রোত পলিকে স্থানান্তরিত করেছে কয়েকটি নদী গর্ভস্থ গিরিখাতের মাধ্যমে যেগুলোর কোনটি ১৫০০ মাইলের চেয়েও দীর্ঘ। এ ফ্যান এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে ভারতে কারণে এটা বিপুল পরিমাণ হাইড্রোকার্বনের গঠিত পদার্থ যেমন বেনজিন, প্যারাফিন, কয়লার গ্যাস মজুদের সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করে।

৫.গঙ্গার বিশাল আকৃতি :কাগজের পাতায় চোখ বুলিয়ে গঙ্গার সুবিশাল আকৃতিকে পরিমাণ উপলব্ধি করা খুবই দুরূহ। গঙ্গার প্রবাহ খুবই জটিল বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলে। বাংলায় অবস্থিত এর জটিল শাখা প্রশাখা সঠিক দৈর্ঘ্য নির্ণয়ে জটিলতা সৃষ্টি করেছে। যা হোক, তারপরও এটা বিশ্বাস করা হয় যে এর দৈর্ঘ্য ২৫০০ কিলোমিটারের সামান্য বেশি। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের পলিবাহিত গঙ্গা ব-দ্বীপ (বাংলাদেশ) পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ব-দ্বীপ। এটা প্রায় ৫৯০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। শুধু আমাজান ও কঙ্গো নদীর জলের প্রবাহ গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের সম্মিলিত পানির প্রবাহের চেয়ে বেশি।

৬).গঙ্গা ব-দ্বীপ অব্যাখ্যাত ধ্বনি :
Mistpouffers or Barisal Guns হলো বিমানের শব্দের সাথে সামঞ্জস্য এক ধরনের ধ্বনি সে সম্পর্কে পৃথিবীব্যাপী নদীর তীরে বসবাসরত মানুষের কাছ থেকে শোনা গেছে বিশেষ করে ভারতে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের অঞ্চলে এ ধ্বনি শোনা গেছে। যদিও বলা হয় যে, এ ধ্বনির জেট বিমানের শব্দের সাথে মিল রয়েছে কিন্তু রহস্যজনক বিষয় হলো এ ধ্বনিগুলো বিমান আবিষ্কারের কয়েকগুণ সময় আগে থেকেই শোনা যাচ্ছে। ব্রিটিশ কর্মকর্তা T D La Touche ১৮৯০ সালের তাঁর একটি জার্নালে এসম্পর্কে লেখেন। তিনি লিখলেন, “ভূমিকম্পের সময় Barisal Guns ঘটে। কিন্তু এগুলো ভূমিকম্প ব্যতীত এবং বড় ভূমিকম্পের পূর্বেও কয়েকবার ঘটতে পারে। এই অস্পষ্ট ধ্বনিগুলো সম্পর্কে ভূমিকম্প, শিলা বিস্ফোরণ, ভূ-অগ্নুৎপাত, বিস্ফোরণধর্মী গ্যাসের নির্গমণ, ঝড়ের দ্বারা সৃষ্ট ঢেউ, সুনামি, উল্কা, দূরবর্তী বজ্রপাত এবং তথাকথিত গুরুগর্জনকারী বালুরাশি সম্পৃক্ত করে আপতত সৃষ্টি যথাযথ বেশ কয়েকটি ব্যাখ্যা রয়েছে।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×