somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আধুনিক বৈদ্যুতিক ড্রাইসেলের প্রথম আবিষ্কর্তা “অগস্ত্য মুনি”

০৩ রা মে, ২০১৪ বিকাল ৪:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ থেকে ২৩ বছর আগের ঘটনা। সময়টা ১৯৯০ সালের ৭ ই আগস্ট।ওইদিন সকালে নাগপুরে একটি সম্মেলন হচ্ছিল।”স্বদেশী বিজ্ঞান সংশোধন সংস্থা” এর একটি সম্মেলন যেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের বিখ্যাত সব বৈজ্ঞানিকগন। সেখানে নাগপুর ইউনিভার্সিটি অব ইন্জিনিয়ারিং এর তত্কালীন প্রফেসর Dr. P.P Hole একটি তড়িৎ কোষ (ব্যাটারী) প্রদর্শন করলেন।
Dr. M….C Sahastrabuddhe, নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, সংস্কৃত সাহিত্য সমূহের বিশ্লেষন করাই তাঁর কাজ। একদিন ঋষি অগ্যস্তের রচিত “অগস্ত্য সংহিতা” পড়ছিলেন। হঠাৎ সেখানের কয়েকটা শ্লোক বিশেষভাবে তাঁর নজরে কাড়ল।
সংস্থপ্য মৃন্ময় পাত্রে তাম্রপাত্রম সুসংস্কৃতম ছদ্যে শিখিগ্রিবেন ছরদ্রভিহ কাষ্ঠপমসুভিহ।
দস্তালস্থ নিধত্যহ পর্দাচ্ছদিতস্থহ সন্যোগজ্জতে তেজো মিত্রবরুনসংগ্যিতম।।
(অগস্ত্য সংহিতা)
অনুবাদ- একটি মৃত্তিকাপাত্র নাও, তাতে একটি কপার (তাম্র) শীট দাও এবং একটি শিখগ্রীবা স্থাপন কর। এতে কাষ্ঠগুড়ো, জিংক (দস্তা) এবং পারদ ছিটিয়ে দাও, এরপর সেখানে তার সংযুক্ত করলে তুমি মিত্রবরুনশক্তি পাবে।
প্রফেসর সহস্রবুদ্ধি কিঞ্চিৎ বিস্মিত হলেন, তাঁর কাছে বর্ননাটা ড্যানিয়েল সেল এর মত মনে হল। তখন তিনি ব্যাপারটা Dr. P.P Hole কে জানালেন এবং অনুরোধ করলেন তিনি যেন ব্যাপারটা অনুসন্ধান করেন।
ড. হোল তাঁর সহকারীদের সঙ্গে নিয়ে বর্ননামত যন্ত্রপাতি সংগ্রহ শুরু করলেন। সমস্যা হল একটা জায়গায় আর তা হল “শিখিগ্রীবা” শব্দটি নিয়ে। সংস্কৃত অভিধান ঘেটে দেখা গেল শব্দটির অর্থ ময়ুরের ঘাড়। তখন তাঁরা স্থানীয় ‘দুরিঙ্গা’ নামক চিড়িয়াখানায় গেলেন এবং সেখানকার পরিচালকের কাছে সবকিছু বিস্তারিত বর্ননাপূর্বক একটি মৃত ময়ুর চাইলেন। পরিচালক তাঁদেরকে লিখিত দরখাস্ত করতে বললেন এবং সম্ভব হলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন।
এরই মধ্যে একজন আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞের সাথে এ বিষয়ে কথা হল। তিনি সমস্যার কথা শুনেই হাসিতে ফেটে পড়লেন এবং জানালেন ‘শিখিগ্রীবা’ অর্থ ময়ুরের ঘাড় নয় বরং ময়ুরের ঘাড়ের রঙ এর রাসায়নিক বস্তু যা হল কপার সালফেট। সমস্যার সমাধান হল, তড়িৎ কোষ প্রস্তুত হল। ডিজিটাল মাল্টিমিটারে মেপে দেখা গেল যে ব্যাটারীটি Open circuit voltage 1.38Volt এবং Free circuit current of 23 Milli Ampier প্রদান করে।
Dr. M.C Sahastrabuddhe কে সাফল্যের খবরটি জানানো হল। পরবর্তীতে সম্মেলনে তড়িৎ কোষটি প্রদর্শিত হল। সেখানে পুরো শ্লোকটির পটভূমি আলোচিত হল। সকলেই স্বীকার করলেন যে উক্ত বর্ননাটি তড়িৎ কোষেরই ছিল। এছাড়া এর পরবর্তী শ্লোকসমূহ পর্যবেক্ষণে বোঝা গেল যে ঋষি অগস্ত্য এর জ্ঞান এতেই সীমাবদ্ধ ছিলনা। পরবর্তী শ্লোকটি ছিল নিম্নরূপ-
আনেন জলভগ্নোস্তি প্রান দানেসু বায়েসু
ইবম শতনম কুম্ভনমসয়োগকারী অকৃতস্মৃতহ।
অর্থাৎ যদি এরুপ একশটি মৃত্তিকাপাত্রের (ব্যাটারী) এর শক্তি আমরা ব্যবহার করি তবে জল প্রানদানকারী অক্সিজেন ও ভাসমান হাইড্রোজেন এ বিভক্ত হবে।
আধুনিক বিজ্ঞানের বদৌলতে আমরা জানি যে পানিতে তড়িৎ চালনা করলে তা অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন এ বিভক্ত হয়!
পরের শ্লোকটি বলছে,
বায়ুবন্ধকবস্ত্রেন নিবদ্ধ য়েনমস্তকে
উদান স্বলঘুত্বে বিভর্তকষ্যয়ন্কম।
অর্থাৎ হাইড্রোজেনকে বায়ুনিরোধী কাপড়ে বন্দী করলে তাকে আকাশে উড্ডয়ন সম্ভব! (হাইড্রোজেন বেলুন)
উপস্থিত বৈজ্ঞানিকগণ বিস্ময়াবিভূত হলেন। বৈদিক বিজ্ঞানের নির্ভুলতা ও অসাধারনত্ব আরো একবার প্রমানিত হল।
বিশ্বশ্রেষ্ঠ বৈদিক সনাতন ধর্মের জয় হোক।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×