জাতি বিদ্বেষের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, “হোটেল রুয়ান্ডা” আমাদের চোখের দৃষ্টি খুলে দেখিয়ে দেয়। আমরা সচেতন হয়ে উঠি নিজেদের বিষয়ে। হোটেল রুয়ান্ডা আমাদের শিখিয়ে দেয়, নিজেরা নিজেদের রক্ষা করতে না পারলে পৃথিবীর কোন শক্তিই রক্ষা করবে না। আর এই কারণেই বিদ্বেষ সংঘাত আর সাংঘর্ষিক রাজনীতিতে বিপর্যস্ত প্রত্যেকটি দেশের নাগরিকদের তাই ‘হোটেল রুয়ান্ডা’ দেখা উচিত সাবধান হবার জন্যে। তাই ‘হোটেল রুয়ান্ডা’র মতো আরও অনেক ছবি নির্মিত হওয়া এই সময়ে বড় প্রয়োজন।।
তবে একটা ব্যাপার খুব মিস করলাম হোটেল রুয়ান্ডা দেখার পর আমার প্রথম যে অনুভুতি হয় তা হল, "আমার দেশে এমন চলচ্চিত্র কেন নেই?"আমরা যদি পাকিস্তানিদের সেই নির্মম আর বর্বর ভয়াবহ হত্যাকান্ডের উপরে এমন মুভি বানিয়ে বিশ্বকে দেখাতে পারতাম তাহলে বিশ্ববাসী বিশেষ করে পশ্চিমারা বুঝতে পারত যে পাকিস্তানিরা কতটা অসভ্য, বর্বর আর রক্তখেকো হায়েনা হতে পারে।
একটা ব্যাপারে আমেরিকার খুব মিল লক্ষ্য করা যায় রুয়ান্ডা আর আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের মাঝে। সেটা হলো রুয়ান্ডার গনহত্যায় তারা দুরে হারিয়ে নিরব দর্শকের ভূমিকায় অট্রহাসি হেসেছে আর আমাদের স্বাধীনতার সময় পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে আমাদের বিরোধিতা করেছে আর বর্বর, অসভ্য আর রক্তখেকো হায়েনা পাকিস্তানিদের অপরাধের সাপোর্ট করেছে এমনকি তাদের সাহার্য্যার্থে সপ্তনৌবহর পাঠানোর পরিকল্পনাও করেছিলো। সুতরাং দুজায়গায় আমেরিকা হলো একটা অপরাধী, আপরাধের দোসর এবং প্রচন্ড ক্ষমতালোভী স্বার্থপর একট দেশ।
সবশেষ কথা হলো আমাদের দেশে এমন চলচ্চিত্র করার মতো নির্মাতা, প্রযোজক দরকার। অভিনেতা-অভিনেত্রী আছে, দরকার ভাল স্ক্রীপ্ট আর দক্ষ কলাকুশলী। একটা সুন্দর স্ক্রীপ্ট নষ্ট হয়ে যেতে পারে অদক্ষদের হাতে পড়লে। সেই সুদিন হয়তো বেশি দূরে নয়, নতুনদের চেষ্টা আছে। সেদিনের প্রত্যাশায় পথ পানে চেয়ে রইলাম।
http://www.sachalayatan.com/guest_writer/46538
http://amaderbudhbar.com/?p=401
http://forum.projanmo.com/topic39755.html

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



