
১৯৪৩ সন(১৩৫০ বঙ্গাব্দ) বাংলাদেশে যে দুর্ভিক্ষ হয় তাতে বিক্রমপুরের প্রায় দুই লক্ষ লোক খাদ্যের অভাবে অনাহারে মৃত্যুবরণ করেন। বিক্রমপুরের শ্রীনগর,লৌহজং ও সিরাজদিখানে মৃত্যুর হার বেশী ছিল। মুসলিমদের মধ্য তাঁতি সম্প্রদায়ের লোক এই দুর্ভিক্ষে সবচেয়ে বেশি মারা যায়।
ঐ সময়ে বিক্রমপুরে কর্তব্যরত এসডিও অশোক মিত্র অনাহারক্লিষ্ট মানুষকে বাঁচাতে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের সার্বিক সহায়তার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। শ্রীনগরের শ্রীনাথ হাসপাতালের ডাক্তার মন্মথনাথ নন্দী, কোলা গ্রামের সুকুমার ডাক্তার, দেউলভোগ গ্রামের ডাক্তার চৌধুরী, লৌহজং এর পাট ব্যবসায়ী ব্রিটিশ নাগরিক এ ডব্লিউ ম্যাকারিটিজি ও রাণীগাও গ্রামের রহমান মাস্টার দুর্ভিক্ষের সময় অনাহারক্লিষ্ট মানুষদের রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। অশোক মিত্র খাদ্য সামগ্রী মওজুদ বিরোধী ভূমিকা রাখেন।সামান্য খাদ্য মওজুদ করার জন্য তৎকালীন পূর্ববঙ্গ বণিক সমিতির সভাপতি বসন্ত মন্ডলকে তিনি পুলিশ দিয়ে কমলাঘাট থেকে হাজতে নিয়ে আসেন।
দুর্ভিক্ষের কারন ও অন্যান্য খবর সংবলিত কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র জনযুদ্ধ বিক্রমপুরে বিলি করতেন শফিউদ্দিন আহম্মেদ।
দুর্ভিক্ষের সময়ে বিক্রমপুরে কংগ্রেস ও কৃষক সমিতি ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। চপলা ও চারু নামক দুজন মহিলা গড়ে তোলেন পশ্চিম বিক্রমপুরে মহিলা সমিতি।
মাওয়া, কুটকুটিয়া ও কুমারভোগ গ্রামে খোলা হয়েছিল লঙ্গরখানা।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ১১:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




