somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আনহ্যাপী ভ্যালেনটাইনস্‌ ডে-০৫

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্ব প্রকাশিতের পর (আনহ্যাপী ভ্যালেনটাইনস্‌ ডে-০১ , আনহ্যাপী ভ্যালেনটাইনস্‌ ডে-০২, আনহ্যাপী ভ্যালেনটাইনস্‌ ডে-০৩, আনহ্যাপী ভ্যালেনটাইনস্‌ ডে-০৪ )

প্রিয়া, আমরা আমাদের ভালবাসার কারণে ধীরে ধীরে একে অপরের সত্ত্বায় এমন ভাবে মিশে গেলাম যে আমদের মাঝে আর কোন দূরত্ব রইল না। হয়ে উঠলাম এক দেহ, এক প্রাণ। আর এমন একটি সময়ে আমি তোমার কাছে চাইলাম আমার ভালবাসার কাঙ্খিত উপহার। তোমার কি সেই মূহুর্তগুলো মনে আছে!! আমায় উপহার দেয়ার অব্যবহিত পরে তুমি লিখেছিলে, “২ জুন দাদার বাসায় থাকাকালীন সময়ে তোমাকে তোমার আকাঙ্খিত উপহার দেয়া পরও আমি তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পেরেছি তোমার কোন ইচ্ছা অপূরণ রয়ে গেছে। কিন্তু তুমি কি চাচ্ছ সেটা না বললে আমি বুঝি কি করে। সেজন্যই আমি তোমাকে এসে ফোনে জিজ্ঞাস করেছিলাম তুমি Satified কিনা। এখন আবার চিঠিতে লিখ তোমার স্বপ্নের বাস্তব রূপ দিতে চেয়েছিলে, তোমার সে ইচ্ছাটা সময়ের স্বল্পতার জন্য হয়ে উঠেনি। তোমার ইচ্ছাটা পূরণ হয়নি জেনে আমার খারাপ লাগল। দাদা কি ভেবে এসব বলে আমি বুঝিনা। তুমি ঐ দিন আসার পূর্বে বার বার আমাকে বুঝাচ্ছে যে তোমার সাথে এরকম দেখা করার সুযোগ সব সময় হবেনা। তাই যখন তুমি আসছ তখন যেন দু’জনে মিলে সময়টা কাজে লাগাই। আমি ওর কথাগুলো কানে তুলিনা, কিন্তু তোমার চিঠি পড়ে দাদার ঐ কথাগুলোর গুরুত্ব একটু অনুধাবন করতে পারলাম। তাই তোমাকে বলি যখন আমার সাথে তোমার দেখা হওয়ার সুযোগ হবে তখন তুমি তোমার সব ইচ্ছা পূরণ করে নিও নিঃসঙ্কোচে।

মনে আছে তোমার, প্রথম যে দিন তোমার সাথে দাদার বাসায় দেখা করি তখন আমার মধ্যে একটু জড়তা ছিল, তোমায় সে কথা মনে হয় একদিন ফোনে বলেছিলাম। কিন্তু ঐদিন দাদার বাসায় যখন তোমার পাশ ঘেঁষে তোমাকে স্বশরীর ছুঁয়ে বসলাম আমার মধ্যে একটু জড়তা ছিলনা। যখন তোমার উপহার দিতে হঠাৎ করেই প্রস্তুত হলাম, মনে হল যেন এটা তোমার প্রাপ্য, তো দিয়ে আমি মুক্ত হলাম। আমার সকল আবেগ, আদর, ভালবাসা সব তোমার জন্যই যেন তুলে রেখেছিলাম। আমার স্পর্শ তোমাকে যেমন আবেগাপ্লুত করেছে তেমনি আবেগাপ্লুত করেছে আমাকে, রিকসায় বসে তোমার কথা তপার জন্য ভাববার অবকাশ পাইনি। বাসায় এসে মনে হয়েছে তোমার ছোঁয়া থাকতে থাকতেই বিছানায় যেন যাই। একান্ত নিজের মতো করে তোমার পরশ অনুভব করি। তাই তাড়াতাড়ি করে খেয়ে, নামাজ পড়েই বিছানায় যাই। কি যে এক আবেশ আমাকে জড়িয়ে রেখেছিলো তোমাকে বুঝাতে পারবো না।”


মাঝে মাঝে আমরা দু’জন দু’জনকে স্বপ্নে দেখতাম নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। এরকম একটা স্বপ্নের বর্ণনা দিয়ে তুমি লিখেছিলে, “কাল রাতে স্বপ্নে দেখেছি, পারিবারিকভাবেই সবার সম্মতিক্রমে তোমার সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। বিয়ের দিন আব্বুরা সবাই তোমাদের অপেক্ষা করছেন, কিন্তু বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা তোমরা আর আসনি। তারপরেই আম্মার ডাকে ঘুম ভাঙলো। ৮টায় ক্লাস ছিলো। তাই আম্মা ডেকেছেন। মাস তিনেক আগে এরকমই স্বপ্নে দেখেছিলাম তুমি আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করছো, বিয়ে হচ্ছে বন্ধন কমিউনিটি সেন্টারে। তিথি বিয়েতে গিয়েছিলো, এসে বলল ..জ..ন ভাই খুব ধুমধাম করে বিয়ে করছে, তোকে দাওয়াত দেয়নি? স্বপ্নে তোমার বিয়ে নিয়ে আমার কোন অভিযোগ নেই, কারণ তুমি আমাকে বলেছ তারপর আমাকে বিয়ে করবে-আর তাতেই আমি খুশী। চিন্তা কর আমি তোমাকে কতটুকু ভালবাসি; বিয়ে করেছো জেনেও সেই বিবাহিত তোমাকে বিয়ে করার জন্য কেমন অস্থির হয়েছি।”কিন্তু সময়ের আবর্তে অনেক কিছুই পাল্টে গেছে এবং যাচ্ছে। আমার জন্য তোমার সেই পূর্বেকার আবেগ আর বর্তমান নেই। এখন তুমি অনেক সমঝদার হয়েছো। তুমি বাস্তববাদী হয়েছো এবং তোমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই উদ্বিগ্ন। আমি তোমার বর্তমান চিন্তাভাবনাকে স্বাগত জানাই। এবং এজন্য বলছি সময় থাকতে নিজের বুঝ বুঝে নাও এবং আমাকে ভুলে যাও।

(চলবে.....)
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:৪৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকীর্ণ মন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮


রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ

কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×