somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনার ব্যাক্তিগত এবং সম্পত্তির নিরাপত্তায় বজ্রনিরোধক স্থাপন করুন।

০৩ রা জুন, ২০২২ রাত ১০:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি নদীমাতৃক আমাদের এই বাংলাদেশ। ঋতুবৈচিত্রের কারনে আরামদায়ক পরিবেশ এবং অন্যান্য সুবিদার কারনে বিশ্বের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম একটি আবাসভুমি ষড়ঋতুর এই দেশ। তবে ঋতুবৈচিত্রের সুফলের পাশাপাশি কালবৈশাখী, বন্যা, সাইক্লোন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাধ্যমে কুফল ও ভোগ করতে হয় দেশবাসীকে। বিগত কয়েক দশকে আরো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে তা হল বজ্রপাত(Lightning Strike)। শুধু মাত্র গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই বুঝা যাবে কেন এটাকে মহামারী বলা হচ্ছে। ২০১৬ সালে মে মাসের ২য় সাপ্তাহে প্রায় ৮১ জন লোকের প্রাণহানির ঘটনা পত্রিকায় এসেছে। শুধু তাই নয় বিশ্বে প্রতিবছর গড়ে প্রায় চার হাজার লোকের প্রাণহানির জন্য দায়ী বজ্রপাত। বাংলাদেশে এই সংখ্যা ২০০ থেকে ৩০০ তবে আশঙ্কার কথা হল দিন দিন প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছেই।

বজ্রপাত কেন হয় বা ঘটে? এটি নিঃসন্দেহে একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন। সকলের বুঝার সুবিদার্থে এবং লেখার কলেবর সীমিত রাখার জন্য এটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যাব না। বজ্রপাত এর মূল উৎস হচ্ছে বায়ুমন্ডলে প্রবাহমান মেঘমালা। বাতাসে ভাসতে ভাসতে মেঘ ঘনীভূত হবার পাশাপাশি আয়নিত বা চার্জ(Charge) হতে থাকে। এই প্রকৃয়ায় ধনাত্মক(Positive Charge) চার্জ মেঘের উপরের দিকে এবং ঋনাত্মক চার্জ(Negative Charge) নিচের দিকে জমা হতে থাকে। এভাবে বিশাল মেঘে বিপুল পরিমান বৈদ্যুতিক আয়ন বা চার্জ জমা হয়। মেঘের নিচের দিকে থাকা ঋনাত্মক চার্জ মেঘ বরাবর ভুপৃষ্ঠের ইলেক্ট্রনকে বিকর্ষণ করে ফলে উক্ত অঞ্চল ধনাত্মক আধানে আহিত হয়। বিশাল চার্জের কারনে বাতাস আয়নিত হয়ে ডাই-ইলেক্ট্রিক(Dielectric) আচরণ করে। ফলে মেঘে জমা থাকা চার্জ আয়নিত বাতাসকে পথ হিসেবে ব্যবহার করে ভুপৃষ্ঠে ডিসচার্জ(Discharge) হয়। এই ঘটনাকেই আমরা বজ্রপাত হিসেবে দেখে থাকি।

একেকটি বজ্রপাতে দশ কোটি পর্যন্ত ভিবব শক্তি (Potential Volt)থাকে যার ক্ষমতা ১০০০ গিগা ওয়াট পর্যন্ত। বজ্রপাত থেকে উৎপন্ন এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ শক্তিকে ধারণ করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে এইবিষয়ে উৎসাহী বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এই বিদ্যুৎ ব্যাবহারের চেয়ে এর থেকে নিরাপদ থাকার জন্য বেশি সংখ্যক বিজ্ঞানী প্রযুক্তিবিদ নিয়োজিত রয়েছে। কারন ব্যাপক ধ্বংসক্ষমতা সম্পন্ন একটি বজ্রপাতের কারনে আপনার স্থাপনায় আগুন ধরে যেতে পারে, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট করে দিতে পারে, এমনকি কনক্রিটের স্থাপনায়ও ফাটল ধরিয়ে দিতে পারে। উঁচু খুটি বা গাছের উপর আঘাত হানলে তাতে আগুন ধরে যায়, মানুষ বা পশুর উপর বজ্রাঘাতে (Thunder Protection System ) মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

বজ্রপাত থেকে নিরাপদ থাকতে করণীয়: মোবাইল ফোনে আবহাওয়া সম্পর্কিত অ্যাপস ব্যাবহার করে বজ্রপাত সম্মপর্কে অগ্রীম ধারনা পেতে পারেন। বজ্রঝড় সাধারণত ৩০-৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়। এ সময়টুকু ঘরে অবস্থান করা। গভীর ও উলম্ব মেঘ(Vertical Cloud) দেখা দিলে ঘরের বাইরে বের না হওয়া। বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা বা মাঠ অথবা উঁচু স্থানে না থাকা। বজ্রপাতের আশঙ্কা হলে যত দ্রুত সম্ভব দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নেয়া। উঁচু গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি(Electric Pole) ও তার, ধাতব খুঁটি(Metal Pole) ইত্যাদি থেকে নিরাপদ দূরে থাকতে হবে। বজ্রপাতের সময় ধাতব হাতলযুক্ত ছাতা থাকলে তা বন্ধ করে ফেলা। এগুলো আপনাকে বজ্রপাতের কবলে পড়লে তাৎক্ষনিক ভাবে সয়হতা করবে।

বজ্রপাতে ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা ছাড়াও স্থাপনা তথা আপনার ঘড় বাড়ি বা দালানকোঠা রক্ষায় অবশ্যই আপনাকে বজ্রপাত নিরোধক ব্যাবস্থা(Lightning Protection System) স্থাপন করতে হবে। বাংলাদেশ ইমারত নির্মাণ বিঁধিমালা ২০০৬(BNBC 2006) অনুযায়ী প্রত্যেক স্থাপনায় ঝুকি সুচক পরিমাপ (Risk Index Calculation) সাপেক্ষ বজ্রনিরোধক ব্যাবস্থা স্থাপন করতে হবে। বিঁধিমালায় ম্যাশ কন্ডাকটর(Mesh Conductor) ব্যাবস্থার কথা সুপারিশ করা আছে যা বিশ্বব্যাপি স্বীকৃত একটি পদ্ধটি। আমেরিকান ন্যাশনাল ফায়ার এসেম্বলি(NFPA), ব্রিটিশ স্ট্যান্ডার্ড(BS) সহ অনেক দেশীয় (e.g. AUS/NZ) এবং আন্তর্জাতিক (e.g. IEEE)স্ট্যান্ডার্ড এ ম্যাশ কন্ডাক্টর ব্যাবস্থার সুপারিশ(recommended) করা হয়েছে। একটি আদর্শ ম্যাশ কন্ডাকটর বজ্রনিরোধক ব্যাবস্থায় বজ্রনিরোধক দন্ড (Lightning Protection System), ম্যাশ কন্ডাকটর (Mesh Conductor), নিম্নগামী পরিবাহী (Down Conductor), গ্রাউন্ড ইলেকট্রড (Ground Electrode) এবং ইকো-পটেনশিয়াল বন্ডিং(Equipotential Bonding) ইত্যাদি থাকে।

এই বজ্রপাত থেকে নিজেকে রক্ষা করবার মত যথেষ্ট প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আমরা করতে পেরেছি।যাকে বলা হচ্ছে Lightning Protection System। এর দুটি পদ্ধতি, একটি conventional আরেকটি ESE (Early Streamer Emission)। এগুলো আমাদের মত দুর্যোগ প্রবণ দেশে খুব ই দরকারি। আর সেটা অনুধাবন করেই Protart শুরু থেকেই এসব সিস্টেম বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে। যা আপনি পেয়ে যাচ্ছেন মুহূর্তের মধ্যেই।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০২২ রাত ১০:২৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×