somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুক্তমনা আরিফুল
মানুষের মনের কথা, আবেগকে প্রকাশ করার জন্য মানুষ সব সময় একটি মাধ্যম খুজে বেড়ায়। আমার মনে হয় সামহোয়ারইনব্লগ একটি তেমন প্লাটফরম যেখানে আমি কথা গুলো ব্যক্ত করতে পারি। আমি নিজের মনের ভেতর ঘুরতে থাকা চিন্তা গুলোকে ব্লগের মাধ্যমে প্রকাশ করার চেষ্টা করি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর উপর পুলিশের হামলা কেন?

২২ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ঢাকায় যতগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্দ্যালয় রয়েছে তার মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। বিশ্ববিদ্যালয়টি সামগ্রিক ফলাফল এবং অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম সঠিক ভাবে চললেও দূঃখের বিষয় হল এই যে, এখানে রয়েছে হলের অভাব যা একজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর জন্য মূখ্য একটি বিষয়। এই জিনিসটির অভাব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা খুব ভাল ভাবেই উপলব্দি করতে পেরেছে আর তার জন্যই তারা নিজেদের কাঙ্খিত অধিকার আদায়ে নেমেছে রাজপথে। তাদের এই আন্দোলন কি অবৈধ ছিল নাকি এর কোন আলাদা দোষ ছিল ? তারা তো তাদের প্রাপ্প অধিকার টূকু সরকারকে জানাতে চেয়েছিল। কিন্তু সরকার যা করল তাতে জাতি পুরোপুরি হতাশ। কারণ পৃথিবীর আর কোন দেশের হয়ত এমন নজির নেই যেখানে ছাত্রছাত্রীদের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নামতে হয় আর সেখানে সরকার কেনা গোলাম অর্থাৎ পুলিশ সেখানে টিয়ারশেল মারে। আমরা জানি শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড আর মেরুদন্ড তখনই কেবল সোজা থাকবে যখন কিনা সরকার ছাত্রছাত্রীদের তাদের সব রকম সুযোগ সুবিধা প্রদান করবে। পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সব রকম গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার। আমরা যদি পৃথিবীর অন্যান্য দেশের দিকে তাকাই তাহলে দেখি সরকার তাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের জন্য কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করছে। তাহলে তারা কি এই টাকা গুলো বৃথা খরচ করে জলে ফেলে দিচ্ছে। নিসন্দেহে না। কারণ শিক্ষার ব্যাপারে ব্যয় করা অর্থ কখনো বৃথা যায় না। আর ঐ সমস্ত দেশে আমাদের দেশের মত আবাল নীতিনির্ধারকরা হয়ত নেই। আর এজন্যই তারা ছাত্রছাত্রীদের কথা চিন্তা করে তাদের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিতে কোন রকম দ্বিধা করেনা। নাকি আবার আমাদের অর্থমন্ত্রী পড়াশোনা নিয়ে গ্যাসের থিয়োরির মত থিয়োরি দিচ্ছেন। তার থিয়োরি মতে "মূল্যবান গ্যাস নাকি রান্না করে খরচ করাটা বোকামি"। তিনি হয়ত ভাবেন এরা তো জাতির কোন কাজা আসবে না। আর যদি অর্থমন্ত্রী বা সরকারের কেউ এটা ভেবেও থাকেন তাহলে তাদের উদ্দেশ্যে এটাই বলতে চাই ছাত্ররাই এদেশের কর্ণধার। তারাই আমাদের দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। দেশকে নেতৃত্ত্ব দিবে বিশ্বের দরবারে। এজন্য আমি মনে করি তাদের দাবি যুক্তি সঙ্গত এবং এর যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তবে ছাত্রছাত্রীদের এই আন্দোলনকে আমি সাপোর্ট করলেও অনেকে নাক ছিটকাচ্ছেন। কারণ তারা ভাবছে ছাত্রছাত্রীদের জন্য হল তৈরি করা হলে তারা হয়ত সহিংসতার জড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে যে পরিমাণ রাজনীতি চর্চা হয় তাতে এমনটা ভাবাটাও অস্বাভাবিক কোন বিষয় না। আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হল গুলোর এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য কারা দায়ী তা সরকার এবং জনগণ খুব ভাল করেই জানে। এসব যাই কিছু হোক না কেন মোট কথা হল কাটার ভয়ে কি তা বলে মাছ খাওয়া বাদ দেওয়া যাবে। অবশ্যই না। আপনাদের পুলিশ(জনগণের বন্ধু) ভাবে ছাত্রছাত্রীদের উপর তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা চালিয়েছে তাতে আমার মনে হয় না ছাত্রছাত্রীরা এতে দমে গিয়ে তাদের আন্দোলন কে বন্ধ করে দিবে। বরং তারা আরো নতুন উদ্দোমে তাদের আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাবে। পুলিশ দিয়ে জুলুম করে সাধারণ জনগণকে দমাতে পারলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আপনারা দমাতে পারবেন না। কারণ এই ছাত্রছাত্রীরাই কিন্তু ভাষা আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। তাহলে তারা এখনো পারবে। আবার অনেকে ভাবতে পারেন আপনার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নিতে এত চুলকানি কেন। তাদের উত্তরে বলতে চাই আমি সব সময় ন্যায্য অধিকারের আন্দোলনের সাথে আছি, থাকব। সব সময় তাদের অধিকার আদায়ে সাপোর্ট দিব। আমি কে তা না জানলেও হয়ত চলবে। এই স্ট্যাটাস যদি কখনো সরকারের কাছে পড়ে তাহলে বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে তারা যেন ছাত্রছাত্রীদের ন্যাজ্য অধিকার ফিরিয়ে দেয়। তা না হলে তারা পাগলা কুকুরের মত হিংস্র হয়ে যাবে। তখন আর আপনারা থামাতে পারবেন না। আর একটা কথা আর তা হল আপনারা গুরুত্বহীন কাজে টাকা ব্যয় না করে গুরুত্বপূর্ণ কাজে টাকা ব্যয় করুন তাতে দেশের-ই লাভ হবে।

ছবিঃ ইত্তেফাক
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১১:৫২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×