
ছবি - গুগল।
চরিত্র মানুষের অমূল্য সম্পদ ।পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহপাক বলেছেন,"চরিত্রহীনা নারী চরিত্রহীন পুরুষদের জন্য, আর চরিত্রহীন পুরুষ চরিত্রহীনা নারীদের জন্য, চরিত্রবতী নারী চরিত্রবান পুরুষের জন্য, আর চরিত্রবান পুরুষ চরিত্রবতী নারীর জন্য। লোকেরা যা বলে তাত্থেকে তারা পবিত্র। তাদের জন্য আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা"।---সূরা আন নূর-২
"সুন্দর চরিত্র ফুলের চেয়েও পবিত্র আর খারপ চরিত্র ময়লার চেয়েও অপবিত্র"-সুন্দর চেহারা থাকলেই চরিত্র সুন্দর হয় না, কিন্তু সুন্দর চরিত্রের মানুষ সত্যিকারের সুন্দর মানুষ হয়।চরিত্র হলো এমন উত্তম স্বভাব যা মানুষকে মহৎ কর্মে উদ্বুদ্ধ করে। অনেকে বলেন, উন্নত চরিত্র এমন প্রশংসনীয়, যা মানুষকে পশুত্ব থেকে টেনে এনে সৃষ্টিকুলের সেরা আসন তথা আশরাফুল মাখলুকাতের মঞ্চে অধিষ্ঠিত করে। যে চরিত্রে মনুষত্বের যাবতীয় উত্তম গুণাবলীর সমাহার ঘটে, তাকেই প্রশংসনীয় চরিত্র বলে।
চরিত্রবান পুরুষ বা চরিত্রবতী নারী তথা স্বামী-স্ত্রী এ দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্পদ একে অপরের জন্য।একজন নারীর সংশ্রব ব্যতীত পুরুষের জীবনের পরিপূর্ণতা আসে না। সুখে-দুঃখে নারীই মানুষের জীবনসঙ্গিনী। সুতরাং দাম্পত্য জীবনে এ নারী যদি পূত-পবিত্র সচ্চরিত্রবান হয়, তাহলে সংসার তথা জীবন স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়। সমস্যাসঙ্কুল জীবনেও শান্তির ফল্গুধারা বয়ে যায়। যে শান্তি নারী-পুরুষের বৈবাহিক জীবনের মাধ্যমে শুরু হয়। বিবাহিত জীবনে নেককার স্ত্রীর গুরুত্ব অত্যধিক। তাই ইসলাম স্ত্রীকে দিয়েছে সর্বোত্তম মর্যাদা।
একজন স্ত্রীর ওপর নির্ভর করে ব্যক্তি ,পরিবার ,সমাজ, রাষ্ট্রীয় ও পরকালীন জীবনের কল্যাণ ও সফলতা। আবার একজন নারীর জন্য স্বামী নির্বাচনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।মনে রাখতে হবে পৃথিবীতে মানুষের সেরা সম্পদ নেককার স্ত্রী। আবার নেককার স্ত্রীর জন্য সেরা সম্পদ হল আদর্শবান স্বামী। তাই একজন নারী ,স্ত্রী হিসেবে যে সব গুণ সম্পন্ন পুরুষকে বিয়ে করলে ব্যক্তি ,পরিবার তথা সমাজের জন্য মংগলজনক তার মাঝে নেককার স্বামীর যেসব চারিত্রিক গুন অন্যতম তাদের মধ্যে পর্দা একটি অন্যতম অনুসংগ ।

ছবি - গুগল।
পর্দা ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান । কারন আল্লাহপাক মুমীন নর-নারী উভয়ের জন্য পর্দা ফরজ করেছেন।পবিত্র কোরআনের কয়েকটি সুরায় মহান আল্লাহপাক পর্দার বিধান সম্পর্কিত আয়াত নাজিল করার মাধ্যমে নর-নারী উভয়কে পর্দার আদেশ দিয়েছেন।তাই পর্দার বিধান মানা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য ঈমানেরও দাবী।
আমাদের সমাজে নারীর পর্দার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে।অথচ মহান আল্লাহপাক নারীর পাশাপাশী পুরুষদেরকেও পর্দার নির্দেশ দিয়েছেন।তবে নারী-পুরুষের পর্দার জন্য আল্লাহপাক প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা সীমানা নির্ধারন করে দিয়েছেন।
আল্লাহপাক সুরা নূরে মুমিন পুরুষদেরকে দৃষ্টি অবনত রাখার মাধ্যমে পরনারীর প্রতি দৃষ্টিপাত করতে নিষেধ করেছেন।মহান আল্লাহপাক বলেন ," হে নবী,মুমিন পুরুষদেরকে বলে দিন তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং পবিত্রতা রক্ষা করে চলে।এটাই তাদের জন্য পবিত্রতম পন্থা।নিশ্চিয়ই তারা যা কিছু করেন আল্লাহ এ সম্পর্কে অবগত"। (সুরা নূর - ৩০)।
এরপর আল্লাহতায়ালা পর্দার সুফল ঘোষনা করে বলেন,"এই বিধান তোমাদের ও তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারন।-(সুরা আযহাব - ৫৩) ।
রসুল (সঃ) একাধিক হাদিসে পুরুষদেরকে পর্দার নির্দেশ দিয়েছেন।মুসলিম শরিফে বলা হয়েছে,"কোন পুরুষ কোন পুরুষকে এবং কোন নারী কোন নারীকে যেন বিবস্ত্র অবস্থায় না দেখে"।আলোচ্য হাদিসে একজন পুরুষকে অপর পুরুষ থেকেও পর্দা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এছাড়াও একাধিক হাদিসে একজন পরপুরুষ এবং পরনারীর দেখা সাক্ষাত করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।
রসুল (সঃ) বলেন,"সাবধান!কোন পরপুরুষ যেন কোন পরনারীর সাথে নির্জনে দেখা ও অবস্থান না করে " (বুখারী শরীফ - ৩০০৬)।
অতঃপর এর কুফল বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,"কেননা,যখনই তারা নিরিবিলিতে মিলিত হয় তখন শয়তান তাদের মাঝে তৃতীয়জন হয় এবং উভয়কে কুকর্মে মিলিত করার প্রচেষ্টায় তাদের পিছু লেগে যায়" ( তিরমিযি)।
রসুল (সঃ) আরও বলেন,"মহরামের অনুপস্থিতিতে কোন পুরুষ কোন নারীর সংগে নির্জনে দেখা করবেনা"( বুখারী শরিফ -১৮৬২)।অন্য একটি হাদিসে শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে হেফাজত থাকার জন্য পুরুষদেরকে সতর্ক করে বলেছেন,"স্বামীর অনুপস্থিতিতে কোন নারীর নিকট যেওনা।কারন শয়তান তোমাদের যে কোন একজনের মধ্যে রক্তের ন্যায় প্রবাহিত হবে"(তিরমিযি)।
তারপরও স্বামীর অনুপস্থিতিতে কোন নারীর ঘরে যদি একান্তই প্রবেশের প্রয়োজন হয় এ ব্যাপারে আল্লাহপাক সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেছেন,"হে ঈমানদারগন - স্বামীর অনুমতি ছাড়া কারওর গৃহে প্রবেশ করবেনা "(সুরা নূর - ২৮)
আলোচ্য আয়াত থেকে বুঝা যায়,স্বামীর অনুপস্থিতিতে কোন নারীর ঘরে একান্তই প্রবেশের প্রয়োজন হলেও স্বামীর অনুমতি নেওয়া আবশ্যক হবে।কারন রসুল(সঃ) অনুমতি না নিয়ে কারও ঘরে উকি দিয়ে দেখলেও কঠিন শাস্তির ঘোষনা দিয়েছেন।
মোট কথা,ইসলামে নারীদের পাশাপাশী পুরুষদের জন্য ও পর্দা আবশ্যক করেছে যা উপরের আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয়।পুরুষদের সহযোগীতা নারীদের জন্য পর্দা করার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।তাই আল্লাহপাকের বিধান পর্দা পালনে পুরুষদেরকেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
একজন পুরুষের জন্য নির্ধারিত কিছু সংখ্যক নারীকে দেখা ইসলামে জায়েজ বা বৈধতা রয়েছে। তারা হলেন -
১।মা (আপন ও সৎ মা উভয়) ২।দাদী-পরদাদী ৩।নানী-পরনানী ৪।মেয়ে (বৈপাত্রেয়া ও বৈমামাত্রিয়া মেয়ে ও দুধ মেয়ে) ৫।নাতনী (দুধ মেয়ে ও বৈপাত্রেয়া মেয়ের মেয়ে ) ৬।বোন (আপন,বৈপাত্রেয়া ,বৈমামাত্রিয়া ও দুধ ফুফু ) ৭।ফুফু (আপন,বৈপাত্রেয়া ও বৈমামাত্রিয়া ) ৮।খালা (আপন,বৈপাত্রেয়া, বৈমামাত্রিয়া ও দুধ খালা ) ৯।ভাতিজী ১০। ভাগ্নী ১১।দুধ মা (আড়াই বছরের মধ্যে যার দুধ পান করা হয়েছে) ১২। দুধ বোন ১৩।শাশুড়ি (শুধু আপন শাশুড়ি ) ১৪।ঔরসজাত ও দুধ পুত্রের বধু ১৫।অতি বয়সী মহিলা (যাদের প্রতি তাকালে আকর্ষন অনুভব হয়না )।
পরিশেষে একথা বলা যায় যে , পর্দার বিধান নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।সমাজ থেকে খারাপ আচরণ,পাপাচার-অনাচার, ধর্ষন,অবাধ যৌনতা ইত্যাদি রোধ করার ক্ষেত্রে পর্দা প্রথা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।পর্দা প্রথা অনুশীলনের মাধ্যমে সমাজ,রাষ্ট্র থেকে এ জাতীয় অপরাধ নির্মুল করা সম্ভব ।মহান আল্লাহপাক নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে পর্দা প্রথার গুরুত্ব অনুধাবন করার ও পর্দা প্রথা অনুসরন করার তওফিক দিন।তওফিক দিন সকল ফেতনা ফ্যাসাদ থেকে নিজেকে হেফাজত করার এবং উন্নত ও নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হওয়ার তথা দেশ ও সমাজ থেকে সকল যেনা-ধর্ষন,ব্যাভিচার রোধ করার।
রি-পোস্ট
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



