somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তালেবানদের আফগান শাসনের রোডম্যাপ (ইশতেহার) প্রকাশ । কোন পথে এবং কতদূর নিয়ে যেতে চাচ্ছে তালেবানরা আফগানিস্তানকে ? (তালেবানদের কাবুল দখল পরবর্তী ফলোআপ পোস্ট - ৩)।

২৫ শে আগস্ট, ২০২১ দুপুর ১২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবি - bbc.com

গত ১৫/০৮/২০২১ রোববার ,কাবুল দখল করেছে তালেবানরা। এর আগেও ১৯৯৬-২০০১ সালের কাবুল শাসন করেছে তালেবানরা। তখন তালেবানরা নারীদের স্কুল ও কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। পুরুষ আত্মীয় ছাড়া নারীদের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। এমনকি বাইরে বের হওয়ার সময় নারীদের চেহারা দেখানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ ছিল। তবে এবার তালেবানরা নিজেদের রক্ষণশীল মনোভাব থেকে অনেকটাই সরে এসেছে বলে মনে করা হয়।যদিও তারা এখনো সরকারে আসীন হয়নি বা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়নি তবে তাদের সরকার গঠনের ব্যাপারে আলোচনা চলছে । হয়ত কিছুদিনের মাঝেই তালেবানরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হবে এবং আফগান শাসন করবে ।এরই ধারাহিকতায় তারা আফগান শাসনের রোডম্যাপ (ইশতেহার) প্রকাশ করেছে বা ভবিষ্যতে কিভাবে আফগান শাসন করবে বা কিভাবে চলবে তার রুপরেখা (ইশতেহার) দিয়েছে।দিয়েছে বেশ কয়েকটি প্রতিশ্রুতিও। আসুন দেখি সেগুলি কি বা কিভাবে দেশ চালাতে চাচ্ছে তালেবানরা এবং কতদূর নিয়ে যেতে চাচ্ছে আফগানিস্তানকে -

১। আশরাফ গনি ও আমরুল্লাহ সালেহকে ক্ষমা ঘোষনা এবং সকল সরকারী চাকুরীজীবিকে নিজ নিজ কাজে যোগদানের অনুরোধ এবং কোন আফগানকে দেশ ত্যাগ না করতে অনুরোধ -

ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহকে ক্ষমা করে দিয়ে তালেবান বলেছে, " তারা ইচ্ছা করলে আফগানিস্তানে ফিরে আসতে পারে"। জিও নিউজকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাতকারে সিনিয়র তালেবান নেতা খলিলুর রহমান হাক্কানি বলেন, " আশরাফ গনি, আমরুল্লাহ সালেহ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হামদুল্লাহ মুহিবের সাথে তালেবানের কোনো বিরোধ নেই।
তিনি বলেন, আমরা আশরাফ গনি, আমরুল্লাহ সালেহ ও হামদুল্লাহ মুহিবকে ক্ষমা করে দিয়েছি"।তিনি আরো বলেন, "আমাদের পক্ষ থেকে সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছি"।হাক্কানি আরো বলেন, যারা পালাচ্ছে, " তারা ঠিক করছে না। তাদের কারণে শত্রুরা প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে যে তালেবান তাদের ওপর প্রতিশোধ নেবে"।তিনি বলেন, সকল আফগান তথা তাজিক, বালুচ, হাজারা ও পশতুনরা সবাই আমাদের ভাই।তিনি আরো বলেন, " সব আফগান আমাদের ভাই। আর এ কারণে যারা দেশের বাইরে আছে তারাও সবাই চাইলেই দেশে ফিরতে পারে। আমাদের মধ্যকার বিরোধের একমাত্র কারণ হলো, সিস্টেম পরিবর্তনের উচ্চাভিলাষ নিয়ে।কোন আফগান নাগরিকের সাথে নয়।"তিনি আরো বলেন, " তালেবানরা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চায় না। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেশে হামলা চালানোর কারণে আমরা তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিয়েছি। আমরা আমাদের সংস্কৃতি, ধর্ম ও দেশকে রক্ষার জন্য তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি"।


ছবি - এএফপি

২। কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়,সবার সংগে বন্ধুত্ব -

কাবুল দখলে নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তালেবান মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ আন্তর্জাতিক পক্ষের সঙ্গে যেকোনো সংঘাত এড়ানোর কথা বলেন। তিনি বলেন, "কারো প্রতি ইসলামিক এমিরেটের শত্রুতা বা বৈরিতা নেই। বৈরিতার অবসান হয়েছে এবং আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ও সকলের সাথে মিলেমিশে বসবাস করতে চাই। আমরা কোনো অভ্যন্তরীন বা বহিরাগত শত্রু চাই না।

৩। কারো প্রতি কোন প্রতিশোধ নেওয়া হবে না -

তালেবানরা কাবুল দখলের পর ভীত সন্ত্রস্ত আফগান দেশ ছাড়তে উন্মুখ হয়ে ওঠেন। তালেবান মুখপাত্র তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, " আমি আমার স্বদেশিদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমরিকার অনুবাদক, সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে বা সাধারণ নাগরিক যারাই আছেন না কেন সবাইকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। কারো প্রতি প্রতিশোধমূলক আচরণ করা হবে না।

৪। সকল বিদেশিদের নিরাপত্তা থাকবে -

কাবুলে অবস্থিত বিদেশি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে তালেবান মুখপাত্র বলেন, "দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, আমরা নিশ্চিত করতে চাই যেসব এলাকায় দূতাবাস আছে সেখানে পুরোপুরি নিরাপত্তা থাকবে। সব বিদেশি রাষ্ট্র, প্রতিনিধি, দূতাবাস, মিশন, আন্তর্জাতিক সংস্থা দাতা সংস্থাগুলোকে আমি আশ্বস্ত করতে চাই তাদের বিপক্ষে আমরা কিছু করতে দিব না। আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

৫। সকল প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা হবে -

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, " আমি আমাদের প্রতিবেশী দেশ, আঞ্চলিক দেশগুলোকে আশ্বস্ত করতে চাই যে তাদের বিরুদ্ধে বা কোনো দেশের ক্ষতিসাধনে আমাদের ভূমি ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। আমরা আন্তর্জাতিক সীমানা ও যোগাযোগকে স্বীকৃতি দেই। আমাদের সেভাবেই বিবেচনা করা উচিত যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আমাদের কোন সমস্যা নেই"।

৬। নারীদের অধিকার ও তাদের মর্যাদা রক্ষা করা হবে -

সংবাদ সম্মেলন মুজাহিদ বলেন, "ইসলামিক এমিরেট শরিয়া কাঠামোর আলোকে নারীদের অধিকার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের বোন, আমাদের পুরুষরা একই অধিকার ভোগ করবেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা আমাদের নিয়ম ও নীতির আলোকে কাজ কাজ করতে পারবেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই নারীদের প্রতি কোনো বৈষম্য করা হবে না, তবে অবশ্যই সেটি আমাদের সামজিক কাঠামোর মধ্যে হবে"।

৭। গণমাধ্যমে নারীরা কাজ করতে পারবে -

সংবাদ সম্মেলনে মুজাহিদ জানান, " নতুন সরকারের গঠন হলে তাদের ইসলামিক শরীয়া আইন অনুযায়ী নারীরা গণমাধ্যম থেকে শুরু করে অন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতেও কাজ করতে পারবে। তবে দ্রুতই বিষয়টি পরিস্কার করা হবে"।

৮। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা হবে -

মুজাহিদ বলেন, " আমরা গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করতে চাই যে আমরা আমাদের সাংস্কৃতিক কাঠামোর মধ্যে গণমাধ্যমের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বেসরকারি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অব্যহত থাকবে। তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে। এমন আশ্বাস দিলেও মুজাহিদ বলেন, গণমাধ্যমের কার্যক্রমে ইসলামি মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকতে হবে। গণমাধ্যমকে নিরপেক্ষ হতে হবে।তারা আমাদের কাজের সমালোচনা করতে পারবে যাতে আমরা উন্নতি করতে পারি।

৯। মাদক ও চোরাচালান রোধ করা হবে -

মুজাহিদ সংবাদ সম্মেলনে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, " আমরা দেশের পুরুষ, নারী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলতে চাই কোন ধরনের মাদক আমরা উৎপাদন করব না। কেউ মাদক চোরাচালানে জড়িত থাকতে পারবে না। তবে মাদকমুক্ত আফগানিস্তান গড়তে ও বিকল্প শস্যের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছেও সহায়তা চান।

১০ । অর্থনীতি পুনর্গঠন করা হবে -

দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তালেবান মুখপাত্র বলেন, " আমরা দেশের জন্য শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবকাঠামো গড়ে তুলব। এজন্য অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালুর ব্যবস্থা করা হবে। অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা, বিনির্মাণ ও সমৃদ্ধির জন্য আমরা প্রাকৃতিক সম্পদ ও অন্য যে সম্পদ আছে তা নিয়ে কাজ করব। এজন্য আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অনুরোধ করছি যে খুব দ্রুতই পুরো পরিস্থিতি, আমাদের অর্থনীতি আমরা বদলে ফেলতে পারব।

১১। সরকারে সকল পক্ষের অংশগ্রহণ থাকবে -

সবার অংশগ্রহণে অংশীদারমূলক সরকার নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে মুজাহিদ জানান, " আফগানিস্তানে একটি শক্তিশালী ইসলামিক সরকার থাকবে। নাম কী হবে কিংবা আর কী করা হবে সেটি রাজনৈতিক নেতাদের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি আমরা। তারা এ নিয়ে জরুরিভিত্তিতে আলোচনা করছেন। কিন্তু একটা বিষয় নিশ্চিত যে আমাদের মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে একটি ইসলামিক ও শক্তিশালী সরকার গঠন করা হবে এবং আমাদের নাগরিকদের মূল্যবোধ বা স্বার্থবিরোধী হবে না "।

তালেবানের ইশতেহার অনুসারে কোন পথে আফগানিস্তান ?

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল নিয়ন্ত্রণে আসার পর তালেবান (ইসলামিক এমিরেটস আফগানিস্তান-আইইএ) যুদ্ধের অবসান ঘোষণা করে বলেছে, শিগগিরই নতুন সরকার গঠন করা হচ্ছে। এই সরকার গঠনের পরিণতির দিকে নেয়ার জন্য তালেবানরা তাদের দেশ শাসনের রোডম্যাপ বা ইশতেহার প্রকাশ করেছে। ইশতেহার অনুসারে যা দেখা যাচছে -

১। তালেবানরা তাদের শাসন ক্ষমতায় ক্ষমা উদারতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে যাচছে -

তালেবানদের এবারের ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে যে বিষয়টি বিশেষভাবে দেখা গেছে সেটি হলো, তারা ক্ষমা উদার মনোভাব অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা আর মৌলিক বিষয়ে বিচ্যুত না হওয়ার নীতি অনুসরণ করেছে। ক্ষমতায় যাওয়ার পরও সেই নীতিই তারা অনুসরণ করবে বলে মনে হচ্ছে। তারা রাষ্ট্রের সব ধরনের পরিষেবা প্রদানকারী ব্যবস্থায় কর্মরতরা যেভাবে আছে সেভাবেই রাখবে এবং তাদের উদ্দীপ্ত করার জন্য ৫ শতাংশ বেতন বাড়িয়ে দেবে বলে ঘোষনা করেছে। আফগান নিরাপত্তাবাহিনীর যেসব সদস্য রয়েছেন তাদের মধ্যে যারা চাকরিতে বহাল থাকতে চাইবে তাদের তিন থেকে ছয় মাসের একটি উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এতে যারা সততা ও কমিটমেন্টের ব্যাপারে উপযুক্ত প্রমাণীত হবে তারা সেনাবাহিনী বা পুলিশ বাহিনীর চাকরিতে ফিরে যেতে পারবে। আর তালেবান মিলিশিয়া বা যোদ্ধাদের মধ্যে যারা সামরিক বাহিনী বা পুলিশে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মত বয়স ও অন্যান্য বিবেচনায় যোগ্য হবেন তারাই এর অন্তর্ভুক্ত হবেন। বাস্তবে তালেবান প্রশাসনের ধরন ঠিক কী হবে সেটি একেবারে নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে তালেবানের এখন নেতৃত্বের যে কয়েকটা স্তর রয়েছে তাতে জাতিগত পশতুন তাজিক উজবেক হাজারা তুর্কমেন সব পক্ষের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এবারের লড়াইটাও সেভাবেই হয়েছে।


ছবি - বিবিসি।

তালেবানদের অতীতেও রাষ্ট্র চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে ২০ বছর আগের পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট থেকে এখন অনেকটাই ভিন্ন। এক দিকে চল্লিশ বছরের এক যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, অন্য দিকে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে বিভক্তি এবং আন্তর্জাতিক শক্তিসমূহের নতুন করে প্রক্সি-যুদ্ধে জড়ানোর আশঙ্কা আর বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে যে বৈশ্বিক দ্বন্দ্ব সঙ্ঘাত রয়েছে তার প্রভাব পড়া। তালেবান নেতৃত্বের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে এই ক্ষেত্রে যে বিশেষ প্রভাব লক্ষণীয় সেটি হলো তারা আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর মধ্যে আফগানিস্তানে যার যতটুকু সম্পৃক্ততা ঠিক ততটুকু আলোচনা সমঝোতা করে যেতে চেষ্টা করেছেন।আমেরিকা - চীন ও রাশিয়ার সাথে তালেবানদের আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সমঝোতা হয়েছে।এর বাইরে অন্য প্রতিবেশীদের সাথেও তালেবানরা ক্ষমতা গ্রহণের আগে একধরনের সমঝোতায় গেছেন।

এসব সমঝোতায় যে কয়েকটি মৌলিক বিষয় উঠে এসেছে তা হলো -

১। আফগানিস্তানের বাইরের কোনো দেশের বিরুদ্ধে দেশটির ভূমি ব্যবহার করে কোনো ধরনের তৎপরতা চালানোর সুযোগ দেয়া হবে না। আবার আফগানিস্তানও বাইরের কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের সাথে যুক্ত হবে না।
২। অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও অন্যান্য সহযোগিতা গ্রহণের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত হবে, এ ক্ষেত্রে কেবল আফগানিস্তানের জাতীয় স্বার্থ মুখ্য বিবেচিত হবে।
৩।আফগানিস্তানের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা এবং ন্যায়ভিত্তিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর হওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হবে।
৪।অভ্যন্তরীণভাবে ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকব্যবস্থা অনুসরণ করা হবে আর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, মানবাধিকার রক্ষা ইত্যাদি বৈশ্বিক অনুশাসনের সাথে সমন্বয় করা হবে।

২। তালেবানের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ বা তাদের যা মোকাবেলা করতে হতে পারে -

রাষ্ট্র হিসেবে আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বা বৈশ্বিক অংশীদার এবং পক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তিন বৃহৎ বৈশ্বিক শক্তি আমেরিকা,চীন ও রাশিয়া। এই তিন পক্ষের তিনটি ভিন্ন নিরাপত্তাগত উদ্বেগ রয়েছে। যেমন -

*** আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে আলকায়েদা ও আইএস-এর মতো উগ্রবাদী শক্তি যারা আমেরিকার স্বার্থে আঘাত হানতে চায়। এ ধরনের শক্তি যাতে আফগানিস্তানে প্রশ্রয় না পেতে পারে তার জন্য য়ুক্তরাষ্ট্রের সাথে তালেবানদের চুক্তি হয়েছে। মার্কিন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কাবুলে ক্ষমতা হস্তান্তরের স্বীকৃতি এখনো দেয়নি আর পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারাও বলতে অস্বীকার করেছেন যে, আমেরিকা এখনো আশরাফ গনিকে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয় কি না। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ভবিষ্যতের আফগান সম্পর্ক তালেবানদের কর্মের ওপর নির্ভর করবে। আফগানিস্তানে তালেবান সরকারকে কেবল তখনই স্বীকৃতি দেয়া হবে যদি সরকার নারীর অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং সন্ত্রাসীদের থেকে দূরে থাকে।


ছবি - বিবিসি।

*** চীনের প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগ হলো জিংজিয়াং। আফগানিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৩৮ শতাংশ তাদের একই বৃহত্তর জাতিগোষ্ঠীর সদস্য আর ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও রয়েছে অভিন্নতা। যুক্তরাষ্ট্র এই চীনা উইঘুরদের সমর্থনের জন্য আফগানিস্তানের ভূমিকে অতীতে ব্যবহার করেছে। সেটি যাতে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে তার নিশ্চয়তা বিধান করতে তালেবানরা চেিনর সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

*** রাশিয়ার উদ্বেগ হলো মধ্য এশিয়া এবং তার ককেসাস অংশ নিয়ে। এই অঞ্চলের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী তুর্কি জাতিগোষ্ঠী ধারার এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সুন্নি মুসলিম। আফগানিস্তানকে যাতে এই অঞ্চলের কোনো শক্তি ব্যবহার করতে না পারে তা নিশ্চিত হতে চায়, যেটি আমেরিকার একটি কৌশলগত কাজের অংশ হতে পারে বলে মস্কোর আশঙ্কা রয়েছে। তালেবানরা মস্কোর এই নিরাপত্তা উদ্বেগের ব্যাপারেও প্রতিশ্রতিবদ্ধ।

*** আবার দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও ইরানের নিরাপত্তা উদ্বেগ হলো দেশ দু’টির অন্তর্ঘাত ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়া। আগের শাসনে পাকিস্তানের প্রধান উদ্বেগ ছিল আফগান ফ্রন্ট। এখান থেকে মদদ নিয়ে খাইবারপাখতুন খোয়ায় টিটিপি ও বেলুচিস্তানে বালুচ বিদ্রোহীরা অন্তর্ঘাতী কাজ চালিয়ে গেছে। তালেবান সরকার কোনোভাবেই এ ধরনের কোনো সুযোগ দেবে না বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর ইরানের বেলুচদের মধ্যে যে বিদ্রোহী তৎপরতা রয়েছে তারাও যাতে কাবুল সরকারের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ মদদ না পায় সেটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

*** কিছুটা দূরবর্তী প্রতিবেশী ভারতের সাথে তালেবানের কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হওয়ার কথা এখনো জানা যায়নি। তবে তালেবান দিল্লির প্রতি যে বার্তা দিয়েছে সেটি হলো তারা ভারত আফগানিস্তানের উন্নয়নে যে ভূমিকা রেখেছে সেটিকে স্বাগত জানায়। তবে একই সাথে ভারত যদি আফগানিস্তানের কোনো শত্রুকে এ দেশে অস্থিরতা তৈরির কোনো তৎপরতায় ইন্ধন না দেয় তাহলে আফগানিস্তানও তার মাটিকে ভারতের বিরুদ্ধে কোনো কাজে ব্যবহার হতে দেবে না। ভারতের সাথে তালেবানের সম্পর্কের বিষয়টি রিসিপ্রোকাল বা পরস্পরমুখী।

ক্ষমতা নেয়ার পর আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে সব পক্ষের কূটনৈতিক অংশীদার বা বিদেশী শক্তির কাছে যে অঙ্গীকার দেয়া হয়েছে সেটি রক্ষা করা। এটি করতে হলে অভ্যন্তরীণ জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সহনশীল ও সমন্বয়ের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সামাজিক ক্ষোভ ও বিরোধের বিষয়গুলো যথাসম্ভব দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সদস্য বেশ ক’টি দেশ আফগানিস্তানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তাদের নীতিনির্ধারণের কথা বলেছে। কেউ কেউ সর্বাত্মক অবরোধের হুমকিও দিয়েছে। অবরোধ বা প্রক্সি-যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার মতো কোনো নীতি বা পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয় তার জন্য কঠোর থাকতে হবে তালেবান নেতৃত্বকে। তবে এ কথা সত্যি, যে আদর্শ ও মূল্যবোধ তালেবানকে ২০ বছরের কঠিন যুদ্ধে বিজয়ের এই পর্যন্ত এনে দিয়েছে সেটি তারা পরিত্যাগ করবে না।

এটি ঠিক যে, এখনি আফগানিস্তানে তালেবান শাসিত সরকারের প্রকৃতি কেমন হতে পারে তা বলা মুশকিল, কিন্তু এটাও ঠিক যে,বর্তমানে আফগান তালেবান নেতাদের একটি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে, যারা বিশ্ব ভ্রমণ করেছে, বিশ্ব দেখেছে এবং অন্যান্য অনেক সরকারের সাথে আলোচনা করেছে। যে কেউ আশা করবে যে তারা তাদের নির্বাসনের সময় যা কিছু দেখেছে-শিখেছে, প্রধানত অমুসলিম শক্তির আন্তর্জাতিক পরিবেশে বসবাসের বাস্তবতাকে স্বীকার করা ছাড়া তাদের কাছে অন্য কোনো বিকল্প নেই এবং সেসব মেনেই তাদের শাসন পদ্ধতি সাজাতে হবে।

৩। জটিল ভূরাজনৈতিক হিসাব নিকাশ -

রাজনৈতিক বিশ্লেষক গ্রাহাম ই ফুলার মনে করেন, " আফগানিস্তানে ওয়াশিংটন যে নীতি অবলম্বন করেছিল তা সম্পূর্ণ অবাস্তব উচ্চাকাংখী এবং দুর্বল নীতি বাস্তবায়ন দ্বারা চালিত ছিল যেখানে স্থানীয় জনগনের অংশগ্রহণ ছিলনা বললেই চলে। এই কারণে বর্তমানে তাদের এই পরিণতি যা দীর্ঘ দিন ধরেই অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। নব্য-সাম্রাজ্যবাদী নিউ কনজারভেটিভরা যুক্তি দেন যে, আমেরিকান প্রস্থান এবং পরবর্তী কাবুল সরকারের পতন বিশ্বের একটি পরাশক্তি হিসেবে আমেরিকান ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ গভীরভাবে নষ্ট করবে। এই দৃষ্টিভঙ্গির একটি অন্তর্নিহিত আদর্শ এই যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সর্বত্র বৈশ্বিক পুলিশ হিসেবে কাজ করতে হবে এবং এটি করতে ব্যর্থ হওয়া দুর্বলতা এবং পতনের লক্ষণ"।

তবে এটি ঠিক যে, সামগ্রিকভাবে আমেরিকার পতন দেশীয় এবং ভূরাজনৈতিকভাবে তার গভীর দুর্বলতার প্রতীকী চিহ্ন, ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ধারণা রয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক আধিপত্য বজায় রাখার বিষয়ে অস্বীকারের একটি ফ্যান্টাসি বুদ্বুদে বাস করছে। যদি আফগানিস্তানে ২০ বছরের মার্কিন সামরিক উপস্থিতির প্রকৃতপক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যের দিকে অগ্রগতি দেখায়, তবে এই একটি জিনিসই হবে।

মানবিক স্তরে অবশ্যই এটা গুরুত্বপূর্ণ যে, নতুন তালেবান সরকারের অধীনে আফগানরা কেমন ভাগ্যের মুখোমুখি হবে। আফগান জনগণ ১৯৭৮ সাল থেকে ক্রমাগত যুদ্ধ এবং সামরিক হস্তক্ষেপের শিকার হচ্ছে। আফগান কমিউনিস্টদের একটি অভ্যন্তরীণ অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে সোভিয়েত আক্রমণ, পরবর্তী সময়ে মার্কিন সমর্থিত মুজাহিদীন গোষ্ঠী দ্বারা সোভিয়েতদের বিতাড়িত করার লড়াই, পরবর্তীকালে মুজাহিদীনদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়া এবং অবশেষে তালেবানরা জাতীয় শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করে একটি সরকার গঠন পর্যন্ত এটি ঘটেছে।

বাস্তবে আফগানিস্তানের প্রতি ওয়াশিংটনের মনোযোগ আফগানদের জন্য একটি উন্নত এবং অধিকতর ন্যায়সঙ্গত সমাজ প্রতিষ্ঠার সাথে খুব কমই জড়িত ছিল। আফগানিস্তানে আলকায়েদার উপস্থিতি ধ্বংস করার জন্য আমেরিকান আক্রমণের কথা বলা হয়। কিন্তু আমেরিকান আক্রমণ এবং দীর্ঘ দখলের গভীর এবং অধিকতর গভীর কারণ ছিল রাশিয়া এবং চীনের সীমান্তে মধ্য এশিয়ায় সামরিক ও ভূরাজনৈতিক উপস্থিতি তৈরি করা।যদিও সেই উচ্চাকাংক্ষা কখনোই নগ্নভাবে প্রকাশ করা হয়নি কিন্তু সব আঞ্চলিক শক্তি স্পষ্টভাবে তা বুঝতে পেরেছিল তাদের সেই মনোভাব। আফগানদের জন্য " জাতি-নির্মাণ,মহিলাদের অধিকার রক্ষা এবং মানবিক " এসব ছিল মূলত আমেরিকার ভূরাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে আড়াল করার বাহানা মাত্র ।আমেরিকা যদিও পরাজিত হয়ে বেড়িয়ে যাচছে তবে আমেরিকান হস্তক্ষেপকারীদের মধ্যে সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষাগুলো এখনো পুরোপুরি মারা যায়নি।

আগে, তালেবানরা হয়তো এই প্রতিবেশী দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে খুব কমই চিন্তা করত,তবে আজ মধ্য এশিয়া একটি ভিন্ন জায়গা। আফগানিস্তান ভেঙে পড়েছে এবং তালেবানের সামাজিক নীতি যাই হোক না কেন, তাদের দেশকে ন্যূনতম সমৃদ্ধি এবং শান্তিতে ফিরিয়ে আনতে হবে। বিশেষ করে আফগানিস্তানের ভবিষ্যতে সাহায্য করার জন্য চীনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা রয়েছে। আফগানিস্তান মধ্য এশিয়ায় বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের চীনা উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনায় অর্থনৈতিকভাবে সংযুক্ত হয়ে নিজের পুনঃনির্মাণ করতে পারে। চীন তালেবানের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং তাদের বিরুদ্ধে যে কোন আন্দোলনের বিস্তার এড়ানোর সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে, যা কেবল জিনজিয়াংয়ে চীনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে না, বরং ককেসাস ও মধ্য এশিয়ার রাশিয়া এবং শিয়া ইরানের নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করে।

ইরান, চীন বা রাশিয়া- এ রাষ্ট্রগুলোর কেউই যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের আঙিনায় তথা সামরিকভাবে মধ্য এশিয়ার প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত দেখতে চায় না। মধ্য এশিয়ার কেন্দ্র থেকে মার্কিন সামরিক প্রভাব দূর হয়ে গেলে, এটা ধারনা করা যেতেই পারে একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল আফগানিস্তান আসতে পারে সবার ইচ্ছা ও স্বার্থে ।তবে এসবের জন্য তালেবানদের পাড়ি দিতে হবে অনেক পথ,নিতে হবে বহু বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত, রক্ষা করতে দেশের আইন-শৃংখলা ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং দরকার আন্তর্জাতিক সব পক্ষের সক্রিয় সহযোগীতা।আর এর ফলেই হয়ত আফগান জাতি রক্ষা পেতে পারে দীর্ঘ মেয়াদী যুদ্ধ থেকে এবং সফল হতে পারে তালেবান শাসন । আর তাই তালেবানদের সফলতা কিংবা ব্যর্থতা যাই হোক দেখার জন্য এবং তালেবানরা কোথা-কতদূর যেতে পারে দেখার জন্য আমাদের আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

===============================================================
পূববতী পোস্ট -

তালেবানদের কাবুল দখল পরবর্তী ফলোআপ পোস্ট - ২ Click This Link
" তালেবানদের আফগানিস্তান দখল " - কেন এবং কি কারণে আফগান সেনাদের এত দ্রুত পরাজয়?

তালেবানদের কাবুল দখল পরবর্তী ফলোআপ পোস্ট - ১ Click This Link
" আফগানিস্তানে আমেরিকার ২০ বছর " - আমেরিকা কি নিয়ে এবং আফগানিস্তানকে কোথায় রেখে যাচছে ? এ ব্যাপারে বিশ্ব নেতৃবৃন্দদের প্রতিক্রিয়া কি ?

তথ্যসূত্র ও সহযোগীতায় - গালফ নিউজ ,বিবিসি, আল জাজিরা,এএফপি ওপার্স টুডে ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে আগস্ট, ২০২১ বিকাল ৫:৩৯
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সে কোন বনের হরিণ ছিলো আমার মনে-১৯

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৫ শে নভেম্বর, ২০২২ রাত ৯:৩৫



আজকাল আমি রোজ বিকেলে সিদ্দিকা কবিরের বই দেখে দেখে ডালপুরি, সিঙ্গাড়া, সামুচা বানাই। বাবার বাড়িতে আমি কিছুই রান্না শিখিনি, এমনকি ভাতও টিপ দিয়ে বুঝতে শিখিনি সিদ্ধ হলো নাকি হলো না... ...বাকিটুকু পড়ুন

নূর মোহাম্মদ নূরু ভাইয়া আর কখনও ফিরবেনা আমাদের মাঝে

লিখেছেন শায়মা, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ রাত ২:০২


নূর মোহাম্মদ নূরু
আমরা কিছু সামু পাগল আছি যাদের সামুতে না লিখলে কিছুই ভালো লাগে না। নুরুভাইয়া মনে হয় ছিলেন সেই দলে। প্রথমদিকে উনাকে ফুল ফল ও মনিষীদের জীবন নিয়েই লিখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোক সংবাদঃ ব্লগার নূর মোহাম্মদ নূর আর আমাদের মাঝে নেই।

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ রাত ৩:০৪



সুপ্রিয় ব্লগারবৃন্দ,
আমরা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাতে চাই যে, সামহোয়্যারইন ব্লগের ব্লগার নূর মোহাম্মদ নূরু (নূর মোহাম্মদ বালী) আর আমাদের মাঝে নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন। গত ২৯ অক্টোবর রাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেকোনো মৃত্যু: বড় কষ্টের, বড় বেদনার.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:৪৯

যেকোনো মৃত্যু: বড় কষ্টের, বড় বেদনার.....

ছড়াকার সাংবাদিক ব্লগার বন্ধু নুর মোহাম্মদ নুরু ভাইর চলে যাওয়া খুব কষ্টের। আরও বেশী কষ্ট পেয়েছি ব্লগার শায়মার পোস্টে নুরু ভাইয়ের মেয়ের হৃদয়বিদারক লেখা পড়ে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ মাস গত হয়ে যাবার পর?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ দুপুর ১:২৮





ব্লগে রেজিস্ট্রেশন করে লিখতে শুরু করলেন, সময় গত হবার পর আপনি পরিচিতি পেলেন, সবাই আপনার পোস্ট, কমেন্ট চায় ; আপনি যথেষ্ট সক্রিয় ব্লগে।হঠাৎ আপনি অসুস্থ হয়ে অনিয়মিত, অসুস্থতায় আপনি মৃত্যুবরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×