somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলাম ধর্মে হতাশার স্থান

২৭ শে জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৩:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনার কি কখন মনে হয়েছে আপনি একা ? নিজেকে মনে হয়েছে সবার থেকে, সব কিছু থেকে গুটিয়ে ফেলতে? মনটা ভরে উঠেছে হতাশায়, জীবনটাকে অসহনীয় আর দীর্ঘ মনে হয়েছে। শুধু মনে হয়েছে কেন আপনার উপর এতো চাপ, কেন আপনাকে এতো দুঃসময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এর কোন একটা যদি আপনার অবস্থার সাথে মিলে যায়, তবে আপনি একা নন। আপনার মত আরও অনেক মানুষ একই রকম অবস্থার মধ্যে দিয়ে যায়। এখন দেখা যাক, ইসলাম ধর্মে এ সম্পর্কে কি বলা হয়েছে।

পবিত্র কোরান শরীফে সুরা আল বাকারায় (২:১৫৫) বলা হয়েছে, “আমি তোমাদের অবশ্যই আতংক, ক্ষুধা, সম্পদ, ও ফসল দিয়ে পরীক্ষা করবো।” এখানে আরও বলা হয়েছে, যারা ধৈর্য নিয়ে খারাপ সময় মোকাবেলা করে এবং বলে, “আমরা আল্লাহ কাছ থেকে এসেছি আর তার কাছেই আমরা ফিরে যাব ; তাদের জন্য সুখবর রয়েছে।” আবার সুরা আম মাইদায় বলা হচ্ছে (৫:৬), “আল্লাহ তোমাদের ভারাক্রান্ত করতে চান না; বরং তোমাদের বিশুদ্ধ করে, তার নেয়ামত তোমাদের উপর পরিপূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ থাক।” সুরা আল মু মিনুন এ বলা হচ্ছে, কোন আত্মাকে তার ক্ষমতার বেশী, পরীক্ষায় করা হয় না। সুরা আল হাদীদ সহ একাধিক সুরায় বলা আছে, পৃথিবীর এই ক্ষণস্থায়ী জীবন হল একটা মরীচিকা। সাথে সাথে সুরা ইউসুফে (১২:৮৭) বলা হয়েছে, কখনই আল্লাহ’র ক্ষমা সম্পর্কে আশা ছেড়ে দিও না।” সুরা আত তালাক-এ (৬৫:৭) বলা হচ্ছে, “শিগ্রই কষ্টের পরে, আল্লাহ, জীবন সহজ করে দিবেন।” এবং , সুরা আল আন আম (৬:৫৯)–এ আল্লাহ নিজেই ঘোষনা করেছেন, তার ইচ্ছা ছাড়া গাছের পাতা পর্যন্ত পড়ে না।

উপরের কথাগুলোকে আমাদের জীবনের সাথে মিলিয়ে ভাবলে, বিষয়টা অনেকটা এমন দাঁড়ায়ঃ আমাদের প্রত্যেককেই মহান আল্লাহ তা’লা পরীক্ষা করেন। আমরা বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ি । এই বিপর্যয় আল্লাহ তরফ থেকেই আসে। কারণ তার ইচ্ছা ছাড়া কোন পাতা পর্যন্ত পড়ে না। এই পরীক্ষার মধ্যে আমরা যখন পড়ি, আমাদেরকে ধৈর্য আর বিশ্বাস অবিচল রাখার জন্যে বলা হয়েছে। মহান সৃষ্টি কর্তা শিগ্রই আমাদের এ অবস্থার অবসান করবেন। আমরা সামাল দিতে পারব না, এমন কোন পরীক্ষায় আল্লাহ আমাদের ফেলেন না। বরং, আমরা আতঙ্কিত হয়ে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলি। নিজেকে, অন্যদেরকে, সৃষ্টিকর্তাকে দোষারোপ করি। কেউ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে, কেউ বা বিপথে চলে যায়, আত্ম ধ্বংসকারী কাজ করে। এমনকি জীবন নিয়ে ক্লান্ত হয়ে আত্মহত্যার কথা চিন্তা ভাবনা পর্যন্ত করে। জয় হয় শয়তানের কু মন্ত্রনার। আমারা আল্লাহ’র নির্দেশিত পথ থেকে দূরে সরে যাই।

ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর প্রত্যেকটা ঘটনার সমাপ্তি আছে। এখন যা বর্তমান, পরের মুহূর্তেই তা অতীত। মরুভুমিতে মরীচিকা দেখার মত। আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা করেন, যাতে তিনি তার নেয়ামত কোন কার্পণ্য ছাড়াই আমাদের দিতে পারেন।

কিছু মানুষ বিপর্যয়ে ভারাক্রান্ত হয়ে অস্থির হয়ে পড়েন। ভাবতে থাকেন, আর কত পরীক্ষা! এর শেষ কোথায়!! এই কথার উত্তরে বলা যায়, আল্লাহ যাকে বেশী ভালোবাসেন; তাকে হয়তো পরীক্ষাও বেশী করেন। সফলভাবে পরীক্ষা দিতে পারলে, আল্লাহ তা’লা বেহেস্তের অঙ্গীকার করেই রেখেছেন।

শেষে এই কথা বলি, ইহকাল এবং পরকাল নিয়ে আমাদের সম্পূর্ণ জীবন। আমরা আমাদের কিছু কাজের ফল ইহকালে না পেলেও, আল্লাহ’র রহমতে, পরকালে অবশ্যই পাব। আল্লাহ’কে পরম বিশ্বাসে ডাকলে, আল্লাহ প্রত্যেকের ডাকে সাড়া দেন। তবে তার “সাড়া” আমরা এখন অনেকে বুঝতে পারি না। কিন্তু আমাদের শেষ বিচারের দিন যখন এই “সাড়া” র সব চেয়ে বেশী প্রয়োজন হবে, তখন আমরা তার উপকার পাব, ইনশা আল্লাহ। আল্লাহ রাব্বুল আল আমীনের দরজা প্রত্যেক বিশ্বাসীর জন্য সব সময় খোলা
সংগ্রিহিত

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৩:৫৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৩ কফি শপ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:০৬

আলোর-ছায়ার দোলাচলে এক কাপ কফি পান করার সুযোগ কি পাওয়া যেতে পারে?



ছবি ব্লগ - ২ টরন্টোর আকাশ
ছবি ব্লগ - ১ মেঘলা আকাশ
...বাকিটুকু পড়ুন

×