ইহুদি একটি মতবাদ আছে, 'তোমরা যদি কোন মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাও তাহলে সেই কথাটিকে বার বার বলতে থাকো'। মতবাদটি বাস্তবেও সত্য। একটি মিথ্যাকে বার বার বললে সেটা সত্যের মতই শুনা্য আর একটি সত্যকে বার বার বলা হলে সেটি মিথ্যার মত শুনায়।
আওয়ামীলীগ দীর্ঘদিন যাবৎ শিবিরের সমস্ত কর্মীদের রাজাকার রাজাকার বলে গালি দিয়ে আসছে। পাশাপাশি তাদের অধিনস্ত মিডিয়া দিয়েও কাজটা করিয়ে নিচ্ছে। এতে বেশ ভাল কাজও হয়েছে। সাধারণ মানুষদের মনে শিবিরের কর্মীদের উপর রাজাকারের একটি ছা্যা ফেলতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু এতে সমাজের অনেক বড় ক্ষতিও হয়েছে। আর সেটা হলো, রাজাকার বলতে আমরা ভয়াবহ নিষ্ঠুর যেই প্রাণীটিকে বুঝতাম সেটা থেকে অনেক সরে এসেছি। আগে রাজাকার বলতে বুঝাতাম কুখ্যাত সেই মীরজাফরের মত ব্যক্তিকে। রাজাকার বলতে বুঝতাম ঐ মানুষদের যারা সর্বদা দেশ এবং দেশের স্বাধীণতার বিরুদ্ধে কাজ করে যায়। রাজাকার বলতে বুঝতাম ঐ সব হায়নাদের যারা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেই কেবল ক্ষান্ত হয় নি সাথে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের পাক বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দিত। মুক্তিবাহীনির স্ত্রী, মা, বোন কন্যাদের পাকি সেনাদের হাতে তুলে দিত। তাদের বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দিত, সম্পদ লুট করত। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিগত দিন গুলিতে আওয়ামীলীগ সেই নিষ্ঠুর ঘৃণিত শব্দটিকে এত বেশি নিজেদের স্বার্থে ব্যাবহার করেছে যে, এখন রাজাকার বললে বুঝায় কেবল এ্যন্টি আওয়ামীলীগ। আওয়ামীলীগের কোন নেতার মুখে যদি বলতে শুনাযায়, অমুক ব্যাক্তি রাজাকার এর অর্থ এই দাড়ায় যে অমুক ব্যাক্তিটি আওয়ামী বিরোধী, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।
তেমনি ভাবে আওয়ামীলীগ ও তার নেতা কর্মীরা মুক্তিযোদ্ধা শব্দটিকেও এত বেশি অপাত্রে ব্যাবহার করেছে যে এতে করে মুক্তিযোদ্ধা শব্দের যে একটি ওজন আছে সেটিই নষ্ট হয়ে গেছে। উল্লেখ্য যে, 'মুক্তিযুদ্ধ' একটি ব্যাপক অর্থবহ শব্দ। এখানে দুটি পুর্ন অর্থপুর্ণ শব্দ রয়েছে। 'মুক্তি' ও 'যুদ্ধ'। মুক্তি মানে মুক্ত হওয়া আর যুদ্ধ মানে শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে কারো বিরুদ্ধে কোন কিছু অর্জনের জন্য লড়াই করা। এখানে যুদ্ধের সাথে অবশ্য শারিরীক পরিশ্রমের পাশাপাশী নিজের জীবনের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকতে হবে। তা না হলে একে যুদ্ধ বা যোদ্ধা বলা যাবে না। অথচ আওয়ামীলীগ নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ গুষ্ঠিকে কথিত এ যুগের মুক্তিযোদ্ধা উপাধী দিয়ে মহান মুক্তিযোদ্ধাদের কেবল অপমানিতই করেনি বরং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথেও বেয়াদবি করেছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে যাকে তাকে মুক্তিযুদ্ধের ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে কিংবা কখনো মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট বিক্রি করে মুক্তিযুদ্ধকে একটি পণ্যে রুপান্তরিত করেছে। সর্বশেষ আজ বিএনপি চলমান আন্দোলনকারীদের এ যুগের মুক্তিযোদ্ধা বলে ঘোষণা দিয়ে প্রমান করলো যে ক্ষমতায় গেলে তারাও মুক্তিযুদ্ধের ব্যাবসা খুলে বসবে। এভাবে আর কিছুদিন চলতে থাকলে বর্তমান প্রজন্মের নিকট মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেটকে কেবল সাধারণ একটি সার্টিফিকেটই মনে হবে। এই মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযোদ্ধা শব্দ দুটির যে মাহাত্ম এর সাথে জড়ানো যে মায়া ভালবাসা সম্মান ও স্মৃতি রয়েছে সেটা তারা কখনোই উপলব্ধি করতে পারবে না।
কাজেই যাকে তাকে মুক্তিযোদ্ধা বলে আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান কমানো যাবে না তেমনিভাবে যাকে তাকে রাজাকার বলে অাসল রাজাকারদের প্রতি আমাদের ঘৃণা কমনা যাবে না। মোট কথা কারো দলীর স্বার্থে শব্দগুলো ব্যবহার করা যাবে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



