somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিদেশীদের সাথে ফান করার মজাই আলাদা..... :)

১১ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ২:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মিশরীয়রা আহমদ, মুহাম্মদ, মোস্তফা ও মাহমুদ নাম খুব বেশি রাখে। কাজেই আপনি অপরিচিত যে কাউকে এই নামের কোন একনামে ডাকলে কমন পড়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। যাইহোক আমি মাইন্ড ফ্রেশ করতে ও চা খেতে কফিশপ 'আওলাদে বালাদে' আসলাম। এই দোকানে প্রায় সব দিনই আমার আসা হয় ফলে দোকানর সবাই খুব পরিচিত। কিন্তু আজ দোকানে কয়কজন নতুন ছেলেকে দেখলাম। তাদের একজনকে মোস্তফা বলে ডাক দিলাম। সে তো অবাক। কিরে আামর নাম জানলো ক্যামনে!! যাইহোক সে চা দিয়ে চলে গেল কিন্তু তার মনের ভিতরের খুতখুতানি যায় নাই।


কিছুক্ষন পরে এসে জিজ্ঞেস করলো তুই তো বিদেশী তোরে কোন দিন দেখি নাই কিন্তু তুই আমার নাম জানলি ক্যামনে? আমি খুবই স্বাভাবিক ভাবে বল্লাম তোর বাবার নাম মুহাম্মদ না? এইবার তো সে ডবল অবাক... পুলার চোখ বড় বড় হৈয় গেলো... আমরে এইবার আর ছাড়ে না..... বলে, আমার নাম কেমনে জানলি বল... আমি তো আসলে ফাকা ঝাড়ছি এইডা ওরে কেমনে কই? (ওর বাবার নাম যখন মুহাম্মদ বললাম সে যদি বলতো, না আমার বাবার নাম মুহাম্মদ না তখন বলতাম সরি মাহমুদ অথবা আহমদ... আর না মিল্লে তো নাই ই।) যাইহোক যেহেতু মিলা গেছে কিছুটা ভাব নেয়ার অধিকার আমার অটোমেটিক চলে আসছে। আমি তো মনের সুখে চা খাচ্ছি কিন্তু পুলায় হাস ফাস করতেছে। পরে বললাম, তোর নাম যে মোস্তফা এইডা তোর চেহারা দেখেই বুঝা যায়। আর বাবার নাম? ঐডা ও তোর চেহাড়া দেখে বুঝা যায়।


এইবার তো পুলায় আরো বেশি টাস্কি খাইয়া গেলো। আমি আবার রিলাক্স ভাবে মুবাইল গুতাইতে লাগলাম। আমি অন্যমনস্ক ভাব ধরলেও ঐ পুলার উপরে আমার কড়া নজড়। পুলা দোকানের ভিতর চলে গেলো। খেয়াল করলাম ঐ পুলা ওর এক বন্ধুরে উসামা বলে ডাক দিয়ে কিছু একটা আলাপ করতেছে। বুঝতে পারলাম যে তারা আমারে নিয়াই আলাপ করতাছে। আমি তো আরো বেশি অন্যমনস্কের ভান ধরলাম। এবং খুব রিল্যক্সড মুডে চায়ের কাপে আওয়াজ তুলে টানতে লাগলাম। এতক্ষনে ওদের ফিস ফিস শুনে আশে পাশের আরো কয়েকজন বুঝে ফেলছে ঘটনা কি।


একটু পরে মোস্তফা ওর বন্ধুরে নিয়ে আমার কাছে আসছে। মোস্তফার বন্ধু আমারে বলে তুমি নাকি গণক? এইবার তো আমি ইচ্ছে করেই আরবী না বুঝার ভান করলাম। কিন্তু ওরা আমাকে ছাড়বেই না... পরে সে আমাকে বললো: এই পুলা আজকেই প্রথম এই দোকানে আসছে, তুমি ওর নাম ওর বাবার নাম জানলা ক্যমনে? আমি এই ভাব সেই ভাব নিয়ে বুঝাইতে চাইলাম এইডা কোন ব্যপারই না। আমি চাইলে আরো অনেক কিছু বলে দিতে পারি। দোকানের মালিক আরো কয়েকজন দেখলাম খুব ভাল করে বিষয়টা খেয়াল করতেছে। তাদের মনেও কিঞ্চিত নয় বেশ ভালই রহস্য কাজ করতেছে। অনেক চাপাচাপির পরে ঘটনা বিশ্লেশন করে দিলাম।
বল্লাম, দেখ তোদের দেশের অধিকাংশের নাম আহমদ, মুহাম্মদ, মাহমুদ আর মোস্তফা। তাই আমি ওরে মোস্তফা বলে ডাকছি সেইটা মিলে গেছে এইটা কি আমার দোষ?
- তাহলে ওর বাবার নাম জানলি কেমনে?
বললাম, ঐটাও ঝড়িতে মিলা গেছে।
সবাই দেখি আমরে রহস্য মানব মনে করতাছে... আর আমার কথা শুনে মোটা মালিক লোকটি মিটি মিটি হাসতেছে...
এইবার মোস্তফার বন্ধু বলতেছে: ওকে, তাহলে এখন বলো আমার নাম কি?
আমি কইলাম, তোমার নাম আমি জানমু ক্যমনে?
কয়, না তোমার কইতেই হৈবো।
আমি কইলাম দে তোর আইডি দে, দেইখা কই।
বলে, না নাদেখেই কইতে হৈবো।
আমি বললাম পারমু না।

সবাই আমার দিকে বেশ মনোযোগি। ঘটনা প্রায় শেষের দিকে, কারণ সবাই রহস্য মানুষের ফেক রহস্য জেনে গেছে...তাই সবাই বিষয়টা ঢিলা দিয়ে ফেলছে।

কিন্তু ওদের দুইজনের রহস্য মনে হইলো যায় নাই।
তাই মোস্তফা বলতেছে, ওকে তুই বল ওর নাম কি...
মিলুক আর না মিলুক একটা নাম বল।
আমি বললাম ওকে একটু চিন্তা করতে দে।
সবাই আবার নজড় আমার দিকে ঘুড়ায় আনছে। সবার মধ্যে একটা চাপা উত্তেজনা কাজ করতেছে।
আর আমিও ওর দিকে ভাল করে নজড় বুলাইলাম ............. চোখ দুই তিবার মিট মিট করলাম .... মাথায় আংগুল দিয়ে একটু ঘষে নিলাম, কপাল একটু কুচকাইলাম।

তারপর ঠাস করে বলে দিলাম:
তোর নাম ওসামা..... এইবার আর কেউ মিটি মিটি হাসা নয় সমোস্যরে হো হো হা হা করেই হেসে উঠলো.....
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×