নিউইয়র্ক এয়াপোর্টে নেমে গন্তব্য আমার "সেন্ট্রাল পার্ক আপার ওয়েস্টের ৮৭ নং স্ট্রিট". ম্যাপ নিয়ে দেখলাম বাক্কা দূর. টেক্সী ভাড়া ১০০/২০০ ডলার এসে যাবে. ম্যাপ আরেকটু ভাল করে দেখলাম ৮৬ স্ট্রিট পর্যন্ত মেট্রো আছে কিন্তু মেট্রো চেঞ্জ করতে হবে তিনটা. তারপরও ২০০ ডলার সেভ করার জন্য ৩ টা ব্যাগ ঘাড়ে নিয়ে রওয়ানা হলাম. এয়ারপোর্টের শাটাল/এয়ার ট্রেন ধরে ছুটলাম জামাইকা স্টেশনের দিকে. ট্রেনে বসে এক মহিলাকে ঠিকানা দেখিয়ে কনফার্ম হওয়ার জন্য জিজ্ঞেস করতেই এগিয়ে আসলো গুজরাটের যোগী, বয়স ৬০/৬২ হবে. হাত থেকে ঠিকানা নিয়ে আমাকে নিয়ে জামাইকা নামলেন. নেমে নিজ মোবাইল দিয়ে হোস্টেলে ফোন করে জেনে নিলেন জামাইকা থেকে "ই" ট্রেন ধরে স্টেশন৪২ বা টাইম স্কয়ার" নেমে কিছুক্ষন হেটে ট্রেন নাম্বার ১ ধরতে হবে. সেইট্রেনে ৮৬ স্ট্রিটে নেমে একটু সামনের দিকে হাটতে হবে. তাহলেই পেয়ে যাব ৮৭. আমার সাথে কোন মোবাইল নাই তাইযদি ভুলে যাই সে জন্য যোগী সাহেব কাগজে সব লিখে দিয়ে ট্রেনের টিকেট কিভাবে কাটতে হয়, কিভাবে টিকিট পাঞ্চ করতে হয় নিজের মত করে শিখিয়ে দিলেন. নিজের মাল সব সময় সাথে রাখার পরামর্শ দিয়ে বিদায় নিলেন যোগী. আমি ঠিক ঠাক মত ৮৬ পৌছে গেলাম. আন্ডার গ্রাউন্ড থেকে উপরে উঠে এক মার্কিনিকে ঠিকানা দেখাইয়া জিজ্ঞেস করলাম কোন দিকে, ছেলেটির নাম জিকো. ছেলেটি আমাকে নিয়ে বেশ কিছুদুর হেটে একটি রোড দেখিয়ে দিয়ে বললো এই রোডের শেষের বিল্ডিং টায় হবে. পৌছে গেলাম গন্তব্যে. সিট কনফার্ম করে একটু হালকা হয়ে বের হলাম কিছু খাওয়ার জন্যে. একটা দোকানে জিজ্ঞেস করলাম এখানে রাইস টাইপ খাবার পাওয়া যাবে কোথায়. দোকানদার বললো: "ভাইসাব কিতা নতুন আইছোইন"? ভদ্রলোক সিলেটের লিটন. অনেক কথা হলো লিটন সাহেবের সাথে. তিনি মোটামোটি ধারনা দিয়ে দিলেন এই শহরে কিভাবে চলতে হবে. এক মগ গরম কফিও খাওয়াইলো. আর বললো ৯৪ এ একটা সিলেটি রেস্টুরেন্ট আছে, যাইয়া বলবেন মেন্যু টেনু বুঝি না দেশী কি খাবার আছে তারাতারি দাও, এইকথা বললে বিল কম রাখবে, আমি হেসে উঠলাম. তিনি বললেন লজ্জা পাইয়েন না মিয়াসাব, এই শহরের সবাই হেল্পফুল. লিটন আরো বললেন যেহেতু কাছেই আছেন যে কোন হেল্প লাগলে চলে আইসেন. পরদিন সকালে নাস্তার জন্য এক দুকানে ঢুকছি গলার টোন শুনেই এক ভদ্রলোক এগিয়ে আসছেন, পাকিস্তানের ইকবাল. মনে হলো তিনিই দোকানের মালিক. ব্যস্ত দোকান তবু তিনি আমার খুজ খবর নিয়ে মোবাইল চার্জে দিয়ে সিম কার্ড কিনার নিয়ম কানুন সহ সব বুঝিয়ে দিলেন. এবং এক বোতল জুস ফ্রিতে খাইতে বাধ্য করলেন. এবং যে কোন হেল্পার জন্য তারকাছে আসতে বললেন.
এইভাবে যোগী থেকে শুরু করে ইকবাল পর্যন্ত আমার সাথে সাক্ষাত হওয়া প্রত্যেকটা মানুষ আমাকে পরিপূর্ণ সাপোর্ট করেছে. এর পরেও যদি কেহ বলেন: ডিজিটাল জামানায় মানুষ নাকি হার্টলেস হয়ে গেছে. মানবে মানবে প্রেম নাই. কেউ কারো উপকার করে না. যারা এইসব কথা বলেন আমি তাদের সাথে একমত না. আমাকে তো দেখি সবাই উপকার করে. সাহায্য না চাইলেও এগিয়ে হেল্প করতে আসে. হ্যা, দু একজন আছে যাদের কাছে হেল্প চাইলে সরি বলে ক্ষমা চায়, তাদেরটা তো আর উদাহরন হতে পারে না. আমাদের কাছেও তো অনেকে হেল্প চাইলে সরি বলে মানা করে দিই. কাজেই মানুষের ভালটাকে মনে রাখলে প্রতেক মানুষের জন্য সাহায্যের হাত প্রশস্ত রাখতে পারলে দেখবেন আমাদের সমাজটা কত মায়াবী.

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




