somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাপানের ডায়েরী-৯!

৩১ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশের বাহিরে গেলে সবারই মনে হয় মাতৃভূমিকে বেশি মনে পড়ে! আর এটা যে কতটা বাস্তব আমি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি! কোথাও কিছু হলেই মনে হয়, ইস বাংলাদেশকে যদি ফুটিয়ে তুলতে পারতাম! কাল থেকে জাপানের ইউভার্সিটিগুলোতে শুরু হচ্ছে সাংস্কৃতিক সপ্তাহ, সবাই নিজ নিজ দেশকে উপস্থাপন করবে, থাকবে দেশীয় খাবারের উৎসব। আজ থেকেই দেখছি সাজ সাজ রব, খুটি দিয়ে তাবু টানানো হচ্ছে, কিন্তু যেসব বাংলাদেশী এই ইউনিভার্সিটিতে আগে থেকেই আছেন, তাদের কেন জানি অনিচ্ছায় এবার বাংলাদেশের কোন স্টল হচ্ছে না! তাই মনটা একটু বিষিয়ে ছিলো সকাল থেকেই! আর আমরা যারা এবারই নতুন আসলাম, আমাদের করার কিছুই ছিলো না, কারন এসব স্টল দিতে হলে যে অনুমোদন নিতে হয়, তার ডেডলাইন আমরা আসার আগেই শেষ হয়ে গেছে! যা হোক, একটু আগেই একটা ঘটনায় মনটা অনেকটা ভালো হয়ে গেল! সেটাই শেয়ার করছি!

আজ সত্যিই খুব ভালো লাগছে এই ভেবে যে, অন্তত কজন বিদেশীকে বাংলাদেশের কিছু গৌরব/অর্জন সম্পর্কে জানাতে পেরেছি! কাহিনীটা শুরু এভাবে! জাপানে এসে আমি সেল ফোন নেবার পর পরই ঘাটাঘাটি করছিলাম বিভিন্ন ফিচার নিয়ে, কদিন চেষ্টার পরও আমি আমার সেল ফোন থেকে বাংলাদেশে এসএমএস করতে পারছি না! ল্যাবমেটকে জানানোর পর বলল রেজিঃ করতে হবে আর ইন্টাঃ এসএমএস এর জন্য আর খরচ পড়বে ১০০ইয়েন করে! তখন ল্যাব মেটকে বুঝালাম যে আমারা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে মাত্র ২.৫০ টাকায় এসএমএস করতে পারি! কিন্তু পয়সা বুঝাতে গিয়ে ঝামেলায় পড়লাম! সেন্ট-র সমান্তরাল করে অনেক কষ্টে বুঝালাম! এরপর ওকে বললাম জাপানে ১০০০০ইয়েনের নোট থাকলেও বাংলাদেশে এই সপ্তাহে কেবল ১০০০টাকার নোট বের হয়েছে, ল্যাবমেট শুনেতো থ! এরপর দেখি বাকি ল্যাবমেট গুলোও এগিয়ে আসলো! তখন ওরা বলল আমাদেক বাংলাদেশের নোটগুলা দেখাতে পারবে, আমার মানিব্যাগে কিছু ছিলো, কিন্তু দেখানোর সময় আর পেলাম না! ওদেক একটু ওয়েট করতে দিয়ে নেটে সার্চ দিয়ে হঠাৎ ফেসবুকে পেয়ে গেলাম এই লিঙ্কটা! , যা হোক দেখালাম আর বুঝালাম! এরপর ১০০০টাকার নোটের ছবি দেখতে চাইলো, আবার নেটে ঢ্যু দিয়ে পেলামডেইলি ষ্টারের এই ছবিটা! কিন্তু সবই বুঝলো কিন্তু শহীদ মিনার চেনে না! আবার শহীদ মিনারে ছবির জন্য আবার ঢ্যু দিলাম উইকিতে আর পেয়েও গেলাম দরকারি ছবিটা! তারপর বুঝালাম মায়ের ভাষা বাংলাকে রাষ্টভাষা করার জন্য বাংলার দামাল ছেলেরা রাজপথে মিছিল বের করলে হায়েনা পাকিস্থানী সরকারের নিরাপত্তাবাহিনী নির্বিচারে গুলি চালালে শহীদ হোন বাংলা মায়ের ছালাম,বরকত,রফিক, জব্বারসহ নাম না জানা অনেকেই! তাদেরই স্মরণে ঐ জায়গায় যে স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে উঠেছে সেটাই শহীদ মিনার যা ১০০০টাকার নোটে বিরাজমান! তবে ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষনা করলেও, বাংলাদেশের যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে অনেকই এই দিবস সম্পর্কে কিছুই জানে না! আমার ল্যাবমেটরাও কিছু জানে না! মনে হল এই প্রথম নামটা শুনল।
ওদেক তখন বললাম, বাংলা মায়ের এই দামাল ছেলেদের মত কেউ মায়ের ভাষার প্রতিষ্ঠার দাবীতে এমন জীবন উৎসর্গ করে নাই, তাদের এই দৃষ্টান্তকে অবিস্মরনীর করে রাখতে ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ইউনেস্কো বিশ্বব্যাপী ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে ঘোষনা করেছে! যা হোক অবশেষে ওদেক বুঝাতে পারলাম আমাদের কষ্ট আর গৌরব-অর্জনে! বিদেশে থেকেও মাতৃভূমির কিছু দামাল ছেলে আর আমাদের গৌরবাহ্নিত সাফল্যকে ওদেক বুঝাতে পেরে সাংস্কৃতিক সপ্তাহে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি হয়ত কিছুটা হলেও কমাতে পেরেছি, ভালোই লাগছে নিজের কাছে!

কৃতজ্ঞতাঃ ফেসবুক,ডেইলী ষ্টার, উইকিপেডিয়া!

চলবে..............!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৪
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×