ঈদ, মুসলমানদের জন্য অনেক আনন্দের হলেও আমরা যারা প্রবাসে আছি বাবা-মা, পরিজন থেকে অনেক দুরে তাদের কাছে, এটা যে কতটা কষ্টের তা এখন বুঝি। এবারের রোজার ঈদ আমার প্রবাস জীবনের ২য় ঈদ। ১ম টা পেয়েছিলাম গত বছরের কুরবানীর ঈদ, নিরামিষ অনুভূতি, কেবল ২মাস অতিক্রম করেছিলাম, কি করব, কিভাবে চলব ঠাহর করে উঠতে পারি নাই, কিন্তু সময়ের চাকায় করে আসলো ঈদ। আগের দিনেই মাংস রান্না করে রেখেছিলাম, এরপর ৩বাংলাদেশী আর ২জোন ইন্দোনেশিয়ানের সাথে খুব ভোরে রওনা দিলাম, স্থানীয় মসজিদে। ২বার বাস বদলিয়ে প্রায় ১ঘন্টা পর পৌছেছিলাম মসজিদে, সেটাই জীবনের ১ম প্রবাস ও ইন্টাঃ ঈদ, কত বর্নের যে লোকজন তখন ধারনা পেয়েছিলাম।
এভাবে কালের পরিক্রমায় আবারও আসলো রোজার ঈদ। এবার আগের চেয়ে অনেকটা পরিপক্ক, অনেককিছু শিখেছি, সবচেয়ে আগে থেকেই আনন্দ লাগছিলো, এই ভেবে যে ১ম ঈদে নতুন ছিলাম, তাই নামাজ পড়ে এসে খেয়ে এসেই ল্যাবে গিয়েছিলাম, পরে যদিও জানতে পারলাম না গেলেও হত, কিন্তু এবার উল্টা জাপানের কিছু সরকারী ছুটি কাকতালীয় ভাবে পবিত্র ঈদের সাথে মিলে গেছে, ফলে লম্বা ৫দিনের বন্ধ। যেন বাংলাদেশে সেই চিরচেনা লম্বা ছুটি। আগে থেকেই ঠিক করেছিলাম টোকিওর সেন্ট্রাল মসজিদে নামাজ পড়তে যাব, সাড়ে আটটায় জামাত, সকাল ৬টায় রওনা দিলাম, পৌছলাম প্রায় ৮টার দিকে, অন্যান্য জায়গায় স্বাভাবিক চলাচল, কিন্তু মসজিদের আশেপাশে লোকে লোকারন্য, মসজিদে তিল ধারনের জায়গা নাই। মনে হচ্ছিলো দেশেই আছি আমি, যদিও নানা বর্ন আর আকারের মানুষের সমাগম, কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে একটাই পরিচয় ছিলো যে আমরা সবাই মুসলমান। মসজিদটি টার্কিসদের পরিচালনায়, আর সবকিছু ওদের ঐতিহ্যের ধারন করছে। মসজিদের শৈলীও দেখার মত। আর ইমাম এর দাড়ানোর স্ট্যান্ড বেশ উচু, যাতে সবাই মোতামুটি দেখতে পারে, ও শুনতে পারে। আজ এই মসজিদের ছবি ও ভিডিও আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।
মসজিদের ভেতরেঃ
নামাজ শেষে মসজিদের বাহিরেঃ
মসজিদের কিছু ছবিঃ
যাহোক আপনজন ছাড়া এবারের এই ঈদ, অনেক ভালো কেটেছে। ১ম ঈদের মত আর নিরামিষ মনে হয়নি। সাথে ঘোরাঘুরি আর দাওয়াত তো ছিলোই। সবাইকে একটু দেরিতে হলেও - ঈদ মোবারক!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



