somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাপানের ডায়েরীঃ প্রবাসে বাংলাদেশকে খোঁজা।

২০ শে জুন, ২০১০ সকাল ৮:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি মনে করি, দেশে প্রতি সবচেয়ে বেশি টান অনুভব হয় কেউ যদি একবার দেশের বাহিরে আসে। গরীব আর নানা অপ্রাপ্তির পরেও জন্মভূমিতে যে অনাবিল আনন্দ, সেটা প্রবাস জীবনেই টের পাওয়া যায়। তবে, হ্যাঁ এর ব্যতিক্রমও আছে, অনেকের কাছে আবার ৩য় বিশ্বের এই গরীব দেশ ছেড়ে উন্নত সভ্যতার নাগরিক হওয়াকেই জীবনের আরাধ্য মনে করে। যাহোক এটা যার যার ব্যাপার।


এবার পোষ্ট প্রসঙ্গে আসি। প্রবাসে এসে সবসময়ই দেশের লোকজন/প্রতিষ্ঠান/ বাংলা লেখা খুজি। দেশের সম্পর্কিত কিছু পেলেই মনটা ভরে ওঠে, এই সুদূর প্রবাসে। গতবার ক্যাম্পাসের পাশে স্থানীয় লোকজনের এক বস্ত্রমেলার হঠাৎ চোখ আটকে গেল কয়েকটি ব্যাগে, দেখলাম ব্যাগের গায়ে বাংলায় বাংলাদেশ লেখা। বিক্রেতা জাপানীজ, জিজ্ঞাস করায় বলল বাংলাদেশ বেড়াতে গিয়ে কয়েকটি ব্যাগ কিনেছিলো, সেগুলোই বিক্রি করতেছে। বেশ ভালো লাগলো, নিজের মায়ের ভাষার লেখা দেখে। একটা প্রাপ্তিতে মনটা ভরে গেল, এই সুদূর থেকে।

পড়াশুনার সাথে সম্পর্কিত এমন কিছু ইন্ডাস্টিয়াল ভিজিটে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে গিয়েছিলাম ল্যাবমেট ও প্রফেসরের সাথে। সেসব বড় বড় কারখানার উৎপাদিত প্রোডাক্ট এর ক্রেতা বাংলাদেশ কিনা খুজতাম। কারন আমার ল্যাবমেট একজন ভিয়েতনামিজ আর একজন ইন্ডোনেশিয়ান, সবাই আমরা প্রায় একই স্ট্যান্ডার্ডের দেশ, তাই একটা মনস্তাত্বিক প্রতিযোগিতা কাজ করতো। তেমনি গিয়েছিলাম এবারা কর্পোরেশনে এরা গৃহস্থালি এবং বানিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত পাম্প এবং পাওয়ার জেনারেশন টারবাইন তৈরি করে।







প্রথমে সারাবিশ্বব্যাপী ওদের শাখা সমূহ এর মাঝে বাংলাদেশ এর নাম না থাকায় হতাশ হলাম। কারন অন্য ল্যাবমেটদের মুখে তখন হাসির রেখা, কারন ইন্দোনেশিয়া এবং ভিয়েতনামে এদের শাখা আছে। মনটা আরো খারাপ হলো যখন দেখলাম সামনের ফাইনাল ফিনিশং কৃত টারবাইন দু'টি ইন্দোনেশিয়ার জন্য।
[ছবি গুগল থেকে, টারবাইন সেকশনে ছবি ঊঠানো নিষিদ্ধ, তাই তুলতে পারি নাই।]
নতুন পাওয়ার প্লান্ট করবে ইন্দোনেশিয়ায়, এজন্য এগুলো সামনের মাসে জাহাজে করে চলে যাবে। আমাদের দেশে সেই ব্রিটিশ আমলের বানানো সেই পাওয়ার প্লান্ট বার্ধ্যকের ভারে এখনও বিদ্যুত উতপাদনে ব্যবহার হচ্ছে। পাশের সেকশনে দেখলাম ইন্ডিয়ার জন্য কয়েকটি ইঊনিট এর কাজ চলছে।


এরপর গত শুক্রবার গিয়েছিলাম মিতসুবিসি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ, কানাগাওয়া ইয়কোহামা প্লান্ট এর উইন্ড টারবাইন সেকশনে। এলাহি কাজ কারবার। এই প্রথম খুব কাছে থেকে পাওয়ার জেনারেশনে ব্যবহৃত উইন্ড টারবাইন দেখলাম। মাথার উপড় বেশ শব্দ করে ঘুরছে, ঠিক নিচে একবার দাড়ালাম মাথার মাঝ বরাবর ব্লেড রেখে:P ভয়ও লাগছিলো যদি মাথা বরাবর নেমে পড়ে স্রেফ দু'ভাগ হয়ে যাব। যদিও সেই সম্ভাবনা নেই:D

ছবি তোলা নিষিদ্ধ, এরপরও চুরি করে তুলেছিলাম। ভূমি থেকে হাব এর উচ্চতা ৭০মিটার, আর ব্লেড ৫০মিটার লম্বা। ক্যাপাসিটি ১০গিগাওয়াট/বছর। কোন পেরিমিটার না বদলিয়ে এটা চালাতে নূন্যতম ৩মি./সে. বেগের বাতাস লাগে।

এরপর গেলাম বানানো দেখতে। প্রথমেই বিশ্বব্যাপী এদের কার্য্যক্রম আর কোন দেশে কতটি ইউনিট বিদ্যুত উতপাদন করছে, ভারতে এদের তৈরিকৃত দুই শতাধিক ঊইন্ড টারবাইন চালু আছে। বাংলাদেশে এদের কোন সাপ্লাই নাই :(( আমাদের দেশের ঊপকূলীয় অঞ্চলে বেশ সম্ভাবনা আছে, সাম্প্রতীক সন্দ্বীপে চালু হয়েছে।


এদের বানানো হেভী ক্যাপাসিটির ঊইন্ড টারবাইন যদি উপকূলীয় অঞ্চলে বসানো হয়, দেশে বিদ্যুত ঘাটতি অনেক কমে আসবে।




আগের পর্বঃ জাপানের ডায়েরীঃ আমরা ও জাপানীজরা!
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট : প্রত্যাশা, বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ একটি বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৪১


বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট শুধু একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন কৌশল এবং আগামী কয়েক বছরের অর্থনৈতিক রূপরেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। নতুন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য লাস্ট সাপার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩



কক্সবাজার ডিবি কার্যালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষ। টেবিলজুড়ে সাজানো নামী রেস্তোরাঁ থেকে আনা রূপচাঁদা ফ্রাই আর কোরাল মাছের দো পেঁয়াজা। টেবিলের একপাশে বসা এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

উন্মাদ; নেতা না জনগন

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩



১। জনগন উন্মাদ, নাকি নেতা-পাতি নেতারা !!?? যেহেতেু জনগনই ভোট দিয়ে (বাংলাদেশ ছাড়া) নেতা নির্বাচন করে; বলা যায় জনগনের উন্মাদনা-ই নেতা-পাতি নেতাদের উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দেয় !!... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত! বহুবার বলেছি, যারা আমার সাথে আছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন। সরকার যে কোন সিধান্ত দেবার আগে তার হাতে গবেষণা পত্র (কোন শিক্ষক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×