somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাপানের ডায়েরীঃ আমরা ও জাপানীজরা!

১৭ ই মে, ২০১০ দুপুর ২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জাপানে থাকাকালীন নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা নিয়ে আমার এই সিরিজ লেখা। মাঝে অনেকদিন লেখা হয়ে ওঠেনি। শারিরীক অসুস্থতার কারনে বাসায় রেষ্টে আছি, এই সুযোগের সদ্বব্যবহার করছি।


মানুষ অনুকরনপ্রিয়, সেটা অবশ্যই ভালো কিছু হওয়া উচিত। কিন্তু আমরা মনে হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খারাপটা অনুসরন করি। উদাহরন মনে হয়, আশেপাশের জ্বলজ্বল করছে। জাপানীজদের যে ব্যাপারগুলি দৃষ্টি কাড়ে, এর অন্যতম হল নিচু স্বরে কথা বলা। ১০জন জাপানীজ একসাথে থাকলেও কোন হইচই নাই, কথা বলছে অথচ কত নম্র আর নিচু স্বরে, কিন্তু ভাবুন আমাদের কথা। আমাদের দুইজন একসাথে হলেই, আর কিছু লাগে না, মোটামুটি মাইক বাজার মত অবস্থা।

আবার সৌন্দর্য্য সচেতনতা জাপানীজদের মাঝে ব্যাপক। বিশেষ করে প্রকৃতিকে নিয়ে। সবকিছু ঝকঝকে তকতকে। কেউ কোথাও ইচ্ছামত নোংরা ফেলছে না, নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলছে। একটা ছোট বাচ্চাও চকলেট খেয়ে সে প্যাকেটটি নিজের পকেটে রাখে, পরে বাসায় বা রাস্তায় গোমির জায়গা পেলে সেখানে ফেলবে। আর আমাদের? আমরা বুড়ারাই বাপদাদার পৈত্রিক জায়গার মত যেখানে সেখানে ময়লা ফেলছি, পানের পিক ফেলছি, সেখানে ছোটদের দোষ দিয়ে কি হবে?? সাধারন মানুষের কথা বাদই দিলাম, ভাবুন নিজের কথা। নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেওয়ালে কি সুন্দর রাজকীয় স্টাইলে পা দিয়ে গল্প করে, দেওয়ালের চেহারাই বদলে দিয়েছেন??? অথচ আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে যদি একটু করে বদলানোর চেষ্টা করি, তাহলেই সন্মিলিত প্রয়াসে পরিবর্তন আসবে। আগে দরকার নিজেকে বদলানো, এরপরতো নিজের উদাহরন দেখিয়ে, অন্যকে বলা যাবে, আসুন বদলে যাই? সিগারেট নিজে খাওয়া বন্ধ না করে, কাউকে কি বলা যায়, প্লিজ সিগারেট খাবেন না, সিগারেট খেলে অনেক ক্ষতি হয়???

সকালে জাপানের রাস্তার বের হলে দেখা যাবে, অনেকেই হাতে একটা পলিথিনের ব্যাগ আর অন্যহাতে আংটা জাতীয় একটা লড়ি নিয়ে ঘুরছে। সকালের প্রাতঃভ্রমনের সাথে রাস্তায় থাকা টুকটাক ময়লা পলিথিনে ভরছে। নিজের বাড়ির চারপাশের রাস্তা এরা নিজেরাই পরিস্কার রাখে। শুধু তাই না, সন্মিলিতভাবে পার্কগুলিতে স্বেচ্ছা শ্রমে পরিস্কার করে।বিশ্বাস না হলে নিচের ছবিগুলি দেখুন, আজকের তোলা।




আমাদের কি এমন সম্ভব? বাস্তবায়ন দুরে থাক, আমরা চিন্তাও করতে পারবো না। কেউ ভাববে আমি এ্ত বড় ব্যবসায়ী/ডেলিগেট/কর্মকর্তা/সমাজপতি,, এসব করলে প্রেস্টিজ পাঙ্চার হয়ে যাবে। সেই ব্রিটিশরা দেশ ছেড়েছে '৪৭ এ, কিন্তু আমাদের মাঝে বপন করে গেছে মিথ্যা জৌলুশ ভাবনা....
১৭টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছিঁচকাঁদুনে ছেলে আর চোখ মোছানো মেয়ে...

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৪ সকাল ১১:০৯

ছিঁচকাঁদুনে ছেলে আর চোখ মোছানো মেয়ে,
পড়তো তারা প্লে গ্রুপে এক প্রিপারেটরি স্কুলে।
রোজ সকালে মা তাদের বিছানা থেকে তুলে,
টেনে টুনে রেডি করাতেন মহা হুলস্থূলে।

মেয়ের মুখে থাকতো হাসি, ছেলের চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অহমিকা পাগলা

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৪ সকাল ১১:১৪


এক আবেগ অনুভূতি আর
উপলব্ধির গন্ধ নিলো না
কি পাষাণ ধর্মলয় মানুষ;
আশপাশ কবর দেখে না
কি মাটির প্রণয় ভাবে না-
এই হলো বাস্তবতা আর
আবেগ, তাই না শুধু বাতাস
গায়ে লাগে না, মন জুড়ায় না;
বলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

হার জিত চ্যাপ্টার ৩০

লিখেছেন স্প্যানকড, ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১:৩৩




তোমার হুটহাট
চলে আসার অপেক্ষায় থাকি
কি যে এক ছটফটানি
তোমার ফিরে আসা
যেন প্রিয় কারো সনে
কোথাও ঘুরতে যাবার মতো আনন্দ
বারবার ঘড়ি দেখা
বারবার অস্থির হতে হতে
ঘুম ছুটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনাস্ত

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১:৪৪



ভোরবেলা তুমি নিশ্চুপ হয়ে গেলে একদম,
তোমার বাম হাত আমার গলায় পেঁচিয়ে নেই,
ভাবলাম,তুমি অতিনিদ্রায় আচ্ছন্ন ,
কিন্তু এমন তো কখনো হয়নি
তুমি বরফ জমা নিথর হয়ে আছ ,
আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে দেশে সকাল শুরু হয় দুর্ঘটনার খবর দেখে

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৮:১১

প্রতি মিনিটে দুর্ঘটনার খবর দেখে অভ্যস্ত। প্রতিনিয়ত বন্যা জলোচ্ছ্বাস আসে না, প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার খবর আসে। আগে খুব ভোরে হকার এসে বাসায় পত্রিকা দিয়ে যেত। বর্তমানেও প্রচলিত আছে তবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×