somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গাজীপুর জেলায় মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৎপর

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

? প্রশ্নবিদ্ধ প্রশাসন!
গাজীপুর মহানগরসহ পুরো জেলা জুড়ে তৎপর রয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট। মাদকের করাল গ্রাসে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় যুব-সমাজ। একের পর এক শহর ও গ্রাম্য জনপদ চলে যাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীদের দখলে। নেশায় আশক্ত হয়ে পড়ছে সম্ভাবনাময় অসংখ্য তরুন-তরুনী। অথচ মাদক নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে হয়ে পড়ছে কুনঠাষা। এছাড়া স্বল্প সংখ্যক জনবল থাকলেও প্রয়োজনীয় লজিষ্টিক সাপোর্ট না থাকায় এ অঞ্চলের মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত কয়েকদিন আগে জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল মাদক বিরোধী বিশাল র‌্যালী। আর প্রতিনিয়তই জেলা সদরসহ বিভিন্ন থানায় চলছে সভা সমাবেশ। এছাড়াও স্থানীয় ভাবে জেলা পুলিশের সহযোগীতা পাওয়ার আশায় কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে প্রতিটি থানা এলাকায়। অথচ গাজীপুর থেকে যেন কোন ভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না মাদক সিন্ডিকেটদের। সম্প্রতি টঙ্গী মডেল থানা কম্পাউন্ডে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা চালূকরন সভায় বক্তারা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকেই এ মাদক নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থতার জন্য সরাসরি দায়ী করেছেন। এছাড়াও সভায় মাদক সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত টঙ্গী মডেল থানার কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার অপসারনের দাবীও জানান বক্তারা।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, গাজীপুরের পুলিশ প্রশাসনই মাদক ব্যবসার সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। গাজীপুর মহানগর টঙ্গী অঞ্চলের এরশাদনগর, মাজার বস্তি, কেরানীরটেক বস্তি, মিলগেট, আমতলীসহ ১৯ টি বস্তি ছাড়াও পুবাইল, কালিগঞ্জ ও জেলা সদরের প্রায় সকল শাখা রাস্তা গুলোতে অহরহ পাওয়া যায় ইয়াবা, দেশী বিদেশী মদ, হেরোইন ও গাজাসহ অন্যান্য মাদক সমগ্রী। অপর দিকে রেল ষ্টেশনগলোতে জেলা পুলিশের তেমন তৎপরতা না থাকায় প্রত্যেকটি রেল ষ্টেশন যেন এ ব্যবসা ওপেন সিক্রেট। গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া, নাওজোড়, কোনাবাড়ী আর সদর উপজেলার ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান, মির্জাপুর বাজার, মনিপুরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এর কমতি নেই।
সম্প্রতি পূরো জেলায় এ মাদকসহ অন্যান্য সামাজিক সমস্যা দুর করার জন্য নতুন ভাবে গড়ে তুলছে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা। গত ৬ মাসে প্রতি সপ্তাহেই জেলার প্রতিটি থানার পুলিশ ও সাদা পোশাকি বাহিনী দিয়ে মদ, গাজা, ইয়াবাসহ ছোট-খাটো কিছু অভিযান পরিচালনা হলেও এ পর্যন্ত মাদকের বড় কোন চালান বা মাদক ব্যবসায়ীদের গড ফাদারকে ধরতে পারেনি জেলা পুলিশ প্রশাসন। এছাড়াও উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় মাদক বিক্রি ও সেবনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে গাজীপুর জেলা পুলিশ প্রশাসন। এসব অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং কথিত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারও করা হচ্ছে হর হামেশাই। মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে জেল হাজতে পাঠানো হচ্ছে। পরবর্তীতে আইনের ফাঁক ফোকড়ে বের হয়ে পূণরায় তারা এ ব্যবসার সাথেই সম্পৃক্ত হচ্ছে। এর কারন প্রশাসনের সোর্স নামের ঘাতকরাই সবচেয়ে বড় দায়ী। যার কারনে কার্যত: এসব অভিযানে সুফল বয়ে আনতে ব্যর্থ হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। পুলিশ প্রশাসন আসামী ধরতে গেলে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক মাসোয়ারা পাওয়ার আশায় সোর্সরা মাদক ব্যবসায়ীদের সাবধান করে দেয়। যার ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা সটকে পড়ে বা সাধু বনে গিয়ে লোকালয়ে আড্ডা জমায়। ফের পুলিশ চলে গেলে চালু করে তাদের এ অবৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রম।
এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, মাদক সেবন এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের তথ্য পাওয়া মাত্রই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় অভিযানে সফলতা আনতে পারছেনা বলে জানান এ কর্মকর্তা।
এব্যপারে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে মাদক নির্মূলের বিষয়ে। জেলা পুলিশও তৎপর রয়েছে। অচিরেই এ জেলা থেকে মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও মাদক আমদানী এবং মজুদকারীদের ধরে আইনের আওতায় আনতে পারবো বলে আমি আশাবাদি।
অপরদিকে সচেতন মহল মনে করেন, জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের পকেট ভারীর আশা ছেড়ে দিয়ে পরিচ্ছন্ন মন নিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রনে কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহন করলেই সমাজ থেকে মাদক চোরাচালান ও মাদক সেবনের মত অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ করা সম্ভব। মাদক নিয়ন্ত্রনের নামে এসব র‌্যালি আর সভা-সমাবেশ করে অযথা সরকারী অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে বলেও ধারনা করছেন গাজীপুরের সচেতন মহল।
###
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×