মক্কার মানুষ হজ্ব পায়না প্রবাদটা শুনতাম কিন্তু বিশ্বাস হইতো না।
আমার অবিশ্বাস এক্কেবারে সিলগালা হইয়া গেলো কারন আমি যেইখানে থাকি সেইখান থেইকা পুরান ঢাকা বেশী দূরে না আর পুরান ঢাকাতে যে কত প্রকার খাওন দাওন আছে তা সকল খাদ্যপ্রেমিক জানে।
পুরান ঢাকার কাছাকাছি থাইকা খাওনগুলা চাইখা না দেখাটা মহাপাপের পর্যায়ে পড়ে।
নান্নার মোরগ-পোলাও নামটা শুনতেছিলাম ল্যাংটা কাল থেইকা । শুইনা খুবই আগ্রহ জাগতো খাওয়ার লাইগা। আমি আবার এমন আইলসা যে ঘরে আগুন লাগলে শুইয়া শুইয়া ফায়ার সার্ভিসে ফোন দিমু মাগার বিছানা থেইকা উডুম না। এই আইলসামির লাইগা খাওয়া হইতো না।
তারপর একদিন শইলের সকল আইলসামি ডেটল সাবান দিয়া ধুইয়া ঝাড়া দিয়া উঠলাম।
আইজ আমার একদিন কি নান্নার মোরগ-পোলাওর দুইদিন।
এক বন্ধুরে বগলের তলায় নিয়া হাটা ধরলাম নান্না আংকেলের উদ্দেশ্যে।
বাবুবাজার ব্রিজের তলা থেইকা একটা রিক্সা নিয়া পৌছাইয়া গেলাম বেচারাম দেউড়ির মোড়ে। এইবার পড়লাম বিপদে কারন অই মোড়ে দেখি তিনটা নান্না মিয়ার দুকান। চিন্তা দূর হইলো বন্ধুর কথায় কারন অই এর আগে আইছিলো। কোনডা আসল নান্না অই হেইডা চিনে।
খিদা খুব একটা লাগে নাই। কি করন যায় ভাবতে ভাবতে বন্ধুরে কইলাম চলতো একটু হাইটা আহি তাইলে খিদাডা মাথাচাড়া দিয়া উডবো।
যেইভাবা সেই কাজ ঝাড়া ১৫ টা মিনিট দুইজনে হাটলাম খিদা লাগানের লাইগা।
তারপর দুকানের সামনে আইসা অনুভব করলাম যাক এইবার ঢুকা যায় কারন খিদা লাগছে।
ঢুইকা গেলাম দুই তলা বিশিষ্ট নান্না মিয়ার দুকানে।
এইযে দুকানের ফুডু। যারা যাইবেন দুকানের ফুডুডা ভালামত দেইক্কা লন।
ঢুইকা দুইতলায় উইঠা গেলাম। চেয়ার টেবিল সাজাইন্না। দেখতে ভালাই লাগলো। খাওনের তালিকা দেখলাম।
এই যে খাওনের নাম আর দাম।
লগে যে বন্ধু আছিলো অই নান্নাতে এর আগে আইসা খাইছিলো বিরানী। কিন্তু নান্নার সব থেইকা বেশী পুরানা আর বিখ্যাত হইলো মোরগ-পোলাও। তো দোকানের ওয়েটার আইসা জিগাইলো কি খামু?
কইলাম,আপনেগো বেশী বিখ্যাত খাওন কুনডা?
ব্যাটায় কয়,বিরানী আর মোরগ-পোলাও। যদিও মোরগ-পোলাওটাই বেশী বিখ্যাত।
মোরগ-পোলাও আর বোরহানির অর্ডার দিলাম। তারপর আরেক ওয়েটাররে জিগাইয়া জানতে পারলাম এই মোড়ে তিনটা নান্না আছে এইটা(আমরা যেইটায় খাইলাম আরকি) আর পাশে আরেকটা এই দুইটা একই মালিকের এবং এই দুইটাই সব থেইকা পুরানা। একটায় মানুষ জায়গা দিতে পারে না দেইখা দুইটা দোকান নিছে। আর মোড়ে আরেক পাশে যে নান্না ওইটা ইদানিং হইছে।
কথা কইতে কইতে মোরগ পোলাও আইসা পড়লো। দেইখাই লুল পড়াপড়া ভাব।
কাচের প্লেটে একগাদা পোলাও তার উপরে একখান দেশী মুরগীর রোস্ট,উপরে ঝোল দেয়া । এক পিরিচে সালাদ আরেক পিরিচে একটা জিনিস। প্রথমে মনে করছি চাটনি পরে খাইতে গিয়া দেখি টকটক লাগে আর মুরগীর গলা। খাইতে ভালাই লাগলো চাটনির মত খাওনডা।
এইযে টেবিলের সকল খাবারের ফুডু।
এইটা হইলো খালি মোরগ-পোলাওর ফুডু ।
এক এঙ্গেল থেইকা দেখেন :
এইবার আরেক এঙ্গেল থেইকা /
এই যে চাটনির(যদিও চাটনি না । নাম জানিনা তাই চাটনি কইলাম) ফুডু।
পাশ থেইক্কা দেখেন
এইবার দেখেন উপর থেইক্কা।
এরপর বিসমিল্লাহ কইয়া খাওয়া শুরু করলাম। প্রথমে চাটনি দিয়া শুরু করলাম। আবেগে চোখ বুইজ্জা আইলো। আহারে কি সোয়াদ। চাটনি শেষ কইরা হাত বাড়াইলাম মুরগীর রানের দিকে। রানডা মুনে হইলো আমারে ডাকতাছে। কইসসা দিলাম এক কামুড়। বিশ্বাস করবেন না ভাইয়েরা এত্ত মজা পাইলাম মুনে অইলো …….. (থাক কইলাম না ব্যান খাইতে পারি) ।
হেরপর আইলো বুরহানি।
বোরহানির একটা ফুডু।
প্রথমে মনে করলাম বোরহানি হেরা বাইরে থেইকা কিনা আনে । কিন্তু বোতলের গায়ের লেবেল পইড়া বুঝলাম বোরহানিও তারা বানায়। বানাইয়া বোতলে কইরা সাপ্লাই দেয়।
খাদ্য ভক্ষণের অবস্থায় ঠেলাগাড়ির পাইলটের একটা এক্সক্লুসিভ ফুডু।
পাইলটের চিহারাডা রাজপুত্তুরের(আফ্রিকান রাজপুত্তুরও হইবার পারে) মত বিধায় কল্লাডা সরাই দিলাম।
দুই বন্ধু পেট ভইরা খাইয়া বিল আইলো ২৯০ ট্যাকা। একটা জিনিস বুঝলাম ভালা জিনিস খাইতে পয়সা বেশী লাগে না।
তারপর বিল মিটাইয়া পেট হাতাইতে হাতাইতে বাসায় আইলাম।
যেভাবে যাবেন নান্নার দোকানেঃ নান্না মিয়ার মোরগ-পোলাও এর দোকান হচ্ছে পুরান ঢাকার আরমানিটোলা এরিয়ার বেচারাম দেউড়ীতে। যারা চিনেন না তারা বাবুবাজার ব্রিজে যাবেন। বাবুবাজার ব্রিজ সদরঘাট এরিয়াতে। বাবুবাজার ব্রিজের নীচ থেকে যে কোন রিকশাওয়ালারে কইলেই হইবো নান্নার দোকান। বিশ ট্যাকা ভাড়া নিবো। আর একটা কথা নান্নার খাবারে তেল বেশী দেয় তাই যাদের হার্টে সমস্যা তারা নান্না খাইতে গিয়া হার্ট এট্যাক করিলে কিন্তু ঠেলাগাড়ির পাইলট দায়ী থাকিবে না। এমনিতেই আমি ঠেলাগাড়ীর পাইলট।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০১৪ রাত ১০:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




