somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তুলুজের অপ্রীতিকর ঘটনা এবং প্যারিসের নাগরিক ভাবনা

১০ ই নভেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অতি সম্প্রতি ফ্রান্সের তুলুজের বাংলাদেশী সমাজে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা আমাদের এ সমাজকে নাড়া দিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের দেশ ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের পরই তুলুজে সবচেয়ে বেশী বাংলাদেশী কুড়ি বছরের ও বেশী সময় ধরে বসতি গেড়েছে। এ শহরটিতে এখন হাজার দুইএর অধিক বাংলাদেশী বাস করে। জাতিগত আবেগ ঝেড়ে ফেলে এখানের বাংলাদেশীরা এক হয়ে পরষ্পর পরষ্পরের বিপদে আপদে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রবাসের প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করছে।
তুলুজে রয়েছে বাংলাদেশী কমিউনিটি। সেখানের প্রতিনিধিরা সকলেই নির্বাচিত হয়েছেন বা হচ্ছেন। প্যারিসে যেটা এখনো সম্ভব হয়ে উঠেনি। একটা নির্বাচিত সমাজ সংঘ থাকায় তুলুজের প্রতিটি বাংলাদেশী ভাই বোনেরা আপাত দৃষ্টিতে সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করছেন। এখানে বাংলাদেশী সমাজ ব্যবস্থার মূল আদর্শ অর্থাৎ মুরুব্বীদের মেনে চলা, ছোট বড় সবার অবস্থান অনুসারে সম্মান ও স্নেহ প্রদর্শন, বিভিন্ন উৎসব বা সামাজিক ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে দল মত নির্বিশেষে যোগ দেয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। তুলুজের বাংলাদেশী সমাজকে প্রবাস জীবনের একটি রোল মডেল হিসেবে ধরা হয়।
অথচ কিছু অবিমৃশ্যকারী ব্যক্তির হটকারী আচরণের কারনে এ রোল মডেলের গায়ে আচড় লেগেছে। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, লিটন নামের এক তরুন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এ তুলুজেরই কিছু বাংলাদেশী তরুণের হাতে। নির্যাতনের শিকার তরুণ কিছুদিন হাসপাতালে কাটানোর পর এখন আশংকামুক্ত বলে জানা গেছে। তুলুজের মতো একটি জায়গায় যেখানে বাংলাদেশী সমাজিক অনুশাসন ও প্রথা মানা হয় সেখানে এ ধরনের ঘটনা কখনোই কাম্য নয়।
লিটন নামের এ তরুণ কেন নির্যাতনের শিকার হলেন এটাও এখন সবার জিজ্ঞাসা। কি এমন অপরাধ করেছিলেন তিনি। এসব প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে অনেকটা কেচো খুড়তে গিয়ে সাপ বের হওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, লিটন নামের এ তরুন মোটের উপর পাঁচ বা একটু বেশী বছর ধরে তুলুজে বাস করছেন। রাজনৈতিক আশ্রয় বঞ্চিত এ তরুণ তুলুজের বাংলাদেশী ভাইদের সহায়তায় কাজ ও করতেন। এ সময় তার সঙ্গে জনৈক তরুনীর পরিচয় হয়।( সঙ্গত কারনেই তরুনীর নাম ও পরিচয় গোপন রাখা হলো)। পরিচয় এক সময় পরিনয়ে রুপ পায়। এরপর লিটন বিভিন্ন সময় সে তরুনীর সঙ্গে মেলা মেশা করেছেন বলে জানা যায়। কোন এক অসতর্ক মুহুর্তে নিজেদের কিছু অন্তরঙ্গ ছবি তুলে রাখে লিটন। (কারো ছাফাই গাওয়ার জন্য নয়, তবে সত্য বলতে, কোন তরুনীই চাইবেন না নিজের দুর্বল মুহুর্তের ছবি তুলতে। এ কারনেই এখানে অসতর্ক শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে)।
পরবর্তীতে এ ছবিগুলিই কাল হলো মেয়েটির জীবনে। মেয়েটির দুর্বলতার সুযোগে লিটন তাকে বিয়ে করতে চায়। এখানে জানিয়ে রাখা দরকার মেয়েটি বিবাহিতা। লিটন এসব জানার পরও মেয়েটার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে।
উদ্দেশ্য, ফ্রান্সে জন্ম নেয়া এ মেয়েকে বিয়ে করে বৈধ হওয়া। যে কোন দিক দিয়ে বিচার করলেই এটা চরম অনৈতিক একটি বিষয়। এদিকে এই তরুনীর স্বামী বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সে আসে। ঠিক তখনই লিটন নামের এ প্রেমিক প্রবরটি আর নিজেকে সংযত রাখতে পারেন নি। তিনি মেয়েটি সহ তার পরিবারকে অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ছবি প্রকাশ করে দেবার হুমকি দেয়া শুরু করেন। এমনকি মেয়েটি যদি তাকে বিয়ে না করে তাহলে এসব ছবি ইন্টরনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ারও হুমকি দেন তিনি। শোনা যায় এ সময় মেয়েটির পরিবারের কাছে মোটা অংকের টাকা ও দাবী করেন। এরপর নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমে এর চুড়ান্ত পরিণতি আসে।
লিটনকে কতিপয় যুবক মারধর করে। তারপর তুলুজের গৌরবের মুকুটে কলঙ্ক তিলক জড়িয়ে পড়ে। পক্ষে বিপক্ষে নানা কথার ফুলঝুরি ছোটে। সচেতন তুলুজবাসী এ ঘটনার বিচার দাবী করে দায়ীদের বিচারের সম্মুখীন করতে চান।
বিষয়টি সবার মনকে নাড়া দিয়েছে সন্দেহ নেই। আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া কোন সভ্য মানুষের কাজ না। আবার কারো দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলিংও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার পরিচায়ক হতে পারে না। আজ লিটনের প্রতি আমরা যেমন সমবেদনা জানাই ঠিক তেমনি মেয়েটার ছবি নিয়ে লিটনের কার্যকলাপকেও কোনভাবেই সমর্থন করিনা।
লিটনের উদ্দেশ্যে আজকের কমিউনিটির অনেক কথা বলার আছে; সারমর্ম হল, বড়র প্রেম কাছে টানেনা অনেক সময় দূরে ও ঠেলে দেয়। তাই অতীতের কথা ভুলে গিয়ে সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনকে স্বাগত জানানোই বুদ্ধিমানের কাজ। পাশাপাশি যারা আজ কৌশলে সব কিছুর সমাধান করতে চেয়েছেন তারাও সে রাস্তা পরিহার করে লিটনের চিকিৎসা সহ সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকারটিকে মানবিক ভাবে সমর্থন করবেন বলে আশা করছে কমিউনিটি। দুটি অবুঝ হৃদয়ের অন্তরঙ্গতা তৈরীর প্রক্রিয়া ও পর্যায়গুলোকে প্রশ্রয় দিয়েছে কিছু অসাবধানতা। আর এ অসাবধানতার ফলাফল তুলুজের বাংলাদেশীদের সমাজকে করেছে কলুষিত। জীবনকে ভেঙে দেয়ার মত এ ধরনের অসাবধানতা যাদের মাঝে জেঁকে বসেছিল, তারাও নিজেদের শুধরে নিয়ে সাম্যের গান গাইবেন বলেই আমাদের প্যারিসের নাগরিক সমাজ মনে করে।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ কি আজন্ম পাপ?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬



রাষ্ট্রের নিরাপত্তা আছে, জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?

বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কি নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারটুকুও আমাদের নেই? সরকার ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকে। কিন্তু সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×