somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্রিটেনে এক ভেতো বাঙালী'র ডায়েরী-২: ইংলিশ ভূত

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমি তখন লেস্টারশায়ারে থাকি তিন রুমের বাসার একটি রুম ভাড়া করে। পাশের রুমেই থাকেন বাঙালী এক ভদ্রলোক। সাধা-সিধা মানুষ, কারো সাতে-পাঁচে নাই। এই বাঙালী ভাইটি’র কাছ থেকে জানতে পারলাম এলাকায় বুঝি ভূতের খুব উপদ্রব। এ নিয়ে ভাইটি আমাকে প্রায়ই গল্প শোনানোর চেষ্টা করেন। এসব শুনে আমি তো হেসেই খুন। মাঝে মাঝে উনার সাথে ভুত সেজে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে মজাও করি বেশ। একদিন তো ভয় দেখাতে গিয়ে দেখি উনার ফিটের মত অবস্থা!

একরাতে ঘুম আসছিলো না গরমে। বিছানায় এ পাশ-ওপাশ করছিলাম। এমন সময় শুনি, বাথরুমে কলের পানি পড়ার আওয়াজ। বুঝতে পারলাম, পাশের রুমের ভদ্রলোকটি বাথরুমে গিয়েছেন। উনাকে ভয় দেখানোর মহা ফিচকেলে এক বুদ্ধি মাথায় এসে সওয়ার হলো। বিছানায় উঠে বসে অপেক্ষা করতে লাগলাম কখন উনি বের হবেন।

কিছুক্ষণ পরেই বাথরুমের দরজা খোলার আওয়াজে বুঝতে পারলাম আসল সময় হাজির। আমার রুমের সামনে উনার পায়ের আওয়াজ পেতেই খুব ফ্যাসফেসে গলায় উনার নাম ধরে ডাক দিলাম। আওয়াজ শুনে বুঝতে পারলাম উনি জায়গায় জমে গেছেন। আমার ঘরটা অন্ধকার। বাইরের লবীটাও। রাতের নিঝুম, নিরীবিলী পরিবেশে জানালা দিয়ে আসা ল্যাম্পপোস্টের ক্ষীণ আলো কেমন যেন এক ভৌতিক আবেশ তৈরী করে। তার উপর আবার এমন একটি ঘটনা। যে কারোরই ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক।

আমি গলাটাকে আরো অদ্ভুতূরে করে উনাকে বললাম যে ঘরের ভিতর একটু আসতে। উত্তর দিতে গিয়ে বেচারার গলা কেঁপে গেলো। বললেন- ''ভাই, ভেতরে আসতে হবে কেন? আমি শুনছি। কোন দরকার হলে বলুন।'' আমি কোন মতে হাসি চেপে গুরু গম্ভীর স্বরে আবারো উনাকে ডেকে বললাম-

''আপনাকে বলছি ঘরে আসার জন্যে। একটু দরকার আছে। আমি বিছানা থেকে উঠতে পারছি না।''

এবারে উনি আরো ভীত স্বরে উত্তর দিলেন, ''ভাই, কিছু মনে করবেন না, আমার একটু সমস্যা আছে। আমি ভিতরে আসতে পারবো না। যা দরকার ঐখান থেকে বলেন। আমি সাহায্য করার চেষ্টা করবো।''

আমি অন্ধকারে ফিক করে হেসে দিলাম। বেচারা জন্যে এবারে বেশ মায়া হলো। উনার নাম ধরে বললাম, ভাই, ভিতরে আসেন। এইটা আমি, অন্য কেউ না।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:৫১
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাকে দিয়ে সেলস হবে না

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৫৫

আমাকে বাংলাদেশের এক ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি তাদের সেলসে সহায়তা করার অনুরোধ করেছে। কোম্পানি ভালো, বাজে কোন রেকর্ড নেই। আমার কাজ হচ্ছে, আমার পরিচিত মানুষদের সাথে তাদের মার্কেটিং টিমের যোগাযোগ করায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×