somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সোহানী
হাজার হাজার অসাধারন লেখক+ব্লগারের মাঝে আমি এক ক্ষুদ্র ব্লগার। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া লেখালেখির গুণটা চালিয়ে যাচ্ছি ব্লগ লিখে। যখন যা দেখি, যা মনে দাগ কাটে তা লিখি এই ব্লগে। আমার ফেসবুক এড্রেস: https://www.facebook.com/sohani2018/

নিজের জন্য কতটুকু সময় রাখছি আমরা??

২০ শে জুন, ২০২৪ সকাল ৯:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনটা ভীষনরকম খারাপ। গত বছরই দু'জন খুব কাছের বন্ধুকে চির বিদায় দিয়েছি। তাদের মৃত্যুটা কষ্টের ছিল কিন্তু কিছুটা প্রস্তুতি পর্ব ছিল কারন তারা যে অসুখে ভুগছিল তার থেকে ফিরে আসা সত্যিই কঠিন ছিল। তাই শকিং এর মাত্রাটা সহনীয় ছিল বলা যায়। কিন্তু এবারের বন্ধুর মৃত্যুটা ভীষন রকমের শকিং ছিল। যতটুকু দেখেছি সে বরাবরেই যথেস্ট এ্যাক্টিভ ছিল ও আমাদের সব প্রোগ্রামগুলোতে এ্যাটেন্ড করতো। প্রফেশনাল জীবনে বলা যায় বেশ সাক্সেস ছিল। কারন একজন ডক্টরেট প্রফেসর ও Financial Reporting Council (FRC) এর চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে সফল বলতেই পারি। এবং সে সুস্থ্য ছিল বলেই জানতাম। কিন্তু হঠাৎ করে সামান্য হার্ট ইস্যু থেকে ক'দিনের মাঝেই একবারে চলে যাওয়াটা বড্ড হতবাক করেছে।

নিজেকে প্রশ্ন করছিলাম কেন সে এরকমভাবে হঠাৎ চলে গেল? সে কি একটুও টের পায়নি যে ভীতরে ভীতরে সে ক্ষয়ে যাচ্ছে?

উত্তরটা হলো, আমরা সংসার বা ক্যারিয়ার নিয়ে এতো বেশী ব্যাস্ত থাকি যে অন্য কিছুর দিকে মনোযোগ দেবার মতো সময় থাকে না। এবং এটি আমাদের দেশের প্রতিটা মানুষের জন্য সত্য সেটা পুরুষ কিংবা নারী। আমরা সংসারের সবার দিকে নজর রাখি, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা..... কে কি খেলো, কি করলো, কি করবে? কিন্তু নিজের যত্ন নিতে জানি না। নিজে কিভাবে ভালো থাকবো তার কথা কখনোই চিন্তা করি না।

আমি নিজেও এর বাইরে না। জীবনভর শুধু চিন্তা করেছি আমার স্বামী-সন্তান কিভাবে ভালো থাকবে, আমার মা-বাবাকে কিভাবে ভালো রাখবো, আমার ভাই-বোনদের জন্য কিভাবে একটু কিছু করবো, আত্বীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব........... সবার জন্য চিন্তা ছিল। কিন্তু কখনই চিন্তা করিনি নিজে কিভাবে ভালো থাকবো, কিভাবে নিজের যত্ন নিবো।

তবে কঠিন সত্যটা আমি শিখেছি কানাডায় এসে। আমার দেখা প্রায় প্রতিটা কানাডিয়ানই সবার আগে নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা করে, কেরিয়ার নিয়ে ভাবে, ভবিষ্যত রিটায়ারমেন্ট নিয়ে প্লান করে। তারা ছেলে-মেয়ে, স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মায়ের বা সংসারের চিন্তা অবশ্যই করে কিন্তু সেটার নিজের প্রয়োজনকে বাদ দিয়ে নয়, নিজের কেরিয়ার ধ্বংস করে নয়। তারা মারাত্বক রকমের সেল্ফ কনসাস।

তারা জিমে যায়, দেশ-বিদেশে ঘুরতে যায়, ক্লাবে যায়, সর্ট-লং ট্রিপে যায়, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে কটেজে যায়, বারবিকিউ করে, কনসার্টে যায়, স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে যায়............... হাজার রকমের আনন্দ খুঁজে বেড়ায়। বছরের ভ্যাকেশান লিভ, পার্সোনাল লিভ কোনটাই বাকি রাখে না।

ঠিক আমার সে বন্ধুটির কথাই ভাবছি। সে কি কখনো এরকম ছুটি কাটিয়েছে? নিজের আনন্দের জন্য সময় বের করেছে? তার হার্ট, কিডনি, লাংকস সুস্থ্য রাখার কথা একবারও ভেবেছে? হয়তো কখনই তা চিন্তা করেনি, শুধু দৈাড়েছে আর দৈাড়েছে। একবার কেরিয়ার, একবার স্ত্রী, একবার সন্তান, একবার ভাই-বোন..........। তারপর একদিন দেখলো সব শেষ, ফেরার কোনই পথ নেই।

তাই সময় থাকতে নিজের দিকে তাকাতে হবে, নিজের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখতে হবে, নিজের ভবিষ্যতের চিন্তা করতে হবে। দিন শেষে আপনার ভালো-মন্দ থাকার দায়িত্ব আপনার, আর কারো নয় কিছুতেই। আপনি চলে গেলেন তো, সবাই কিছুদিন শোক পালন করবে, তারপর? সবই আগের মতই চলবে, কেউই কারো জন্য ঠেকে না।

ভালো থাকিস ওপারে বন্ধু।

সোহানী
জুন ২০২৪
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০২৪ রাত ২:২৫
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৯

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।
=======================================
অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ও অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি নামের ব্রিটেনের কিছু প্রবাসী বাংলাদেশিদের ছোট সংগঠন থেকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদিক হাসনাতের প্রোগামে রাকাজার মঈনুদ্দীন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



এই ছবিটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিজেস্ব অর্থায়নে সাদিক হাসনাতের প্রোগামের। অসংখ্য আঙ্কেল আন্টিদের মাঝে একজন বিশেশ লোককে দেখা গেল সেখানে। লোকটাকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ছবিতে। এই লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×