somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আম্মা ও উনার বই পড়া ।

১৬ ই জুন, ২০১৩ বিকাল ৫:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মা ছোট্ট একটি বাক্য । কতইনা মধুর । মা নামের আরও উপনাম আছে আম্মা , মাম্মি , মাম ।

আমরা আমাদের মাকে কখনও মা ডাকিনি । আমরা সব সময় আম্মা বলে ডাকতাম । অসুখে হোক , বিপদে হোক , আনন্দে হোক, বেদনায় হোক আমরা সব সময় আম্মা বলেই ডাকতাম। আমার আম্মা ছিলেন হুবহু বাংলাদেশের একজন প্রধান মন্ত্রীর মতন । চেহারায়, গায়ের রংয়ে, লম্বায়, এমনকি ব্যাক্তিত্বে প্রায় এক রকম। তবে প্রধান মন্ত্রীর মতন আর্টিফিশিয়াল কোন মেকাপ করতেন না । সাধারন সাজগোছেই আম্মা থাকতেন অসাধারন । উনার আত্মসম্মান বোধ ছিল খুবই প্রখর । আমারা আম্মাকে আপনি বলে সম্বোধন করতাম । একদিন আমি কি কারনে যেন তুমি বলে সম্বোধন করেছিল । যেই না তুমি বলেছি তারপর আমার উপর শুরু হয়েছিল কঠিন তিরষ্কার আর বকাবকি । এরপর আর কোনদিনও তুমি ডাকার মত ভুল করিনি। আম্মা ছিলেন শিক্ষিত রুচিশীল সদা হাস্যময় প্রানচান্চল্য ভরপুর। যে কোন অনুষ্ঠানে গেলে আমার আম্মা একাই মেয়ে মহলটাকে হাস্যরসে ভরপুর করে রাখতেন। এজন্য ছোট বড় সব মহিলারা যে কোন অনুষ্ঠানে আম্মাকে পেলে আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠত। এত গল্প কৌতুক তিনি জানতেন যে কখনও তার জানার পরিধি পরিমাপ করা যেত না। আর জানবেন নাই বা কেন । কারণ তিনি প্রচুর বই পড়তেন । আমার নানিও ছিলেন নাকি বইয়ের পোকা । আমরা চার ভাইও তেমন বইয়ের পোকা । আমার মেয়েতো হুবহু আমার আম্মার মত গঠনে গাঠনে মেজাজ চলাফেরা এমনকি বই পড়াটাও ,এতটুকু অমিল নাই । যদিও ওর বয়স মাত্র সাড়ে এগার।

বই পড়ার ব্যাপারে আম্মার কোন বাছ বিচার ছিল না । ছোট কালে দেখেছি চুলার পাড়ে রান্না করতে করতে বই পড়ছেন । অনেক সময় বই পড়ায় মশগুল থাকাতে চুলার দুধ বা ডাল উথলে নিচে পড়ে যেত । অসম্ভব বইয়ের পোকা ছিলেন তিনি। বাজারে ঠোংগার নিচে যে কাগজটা থাকত সেটাও উনার পড়া চাই । ( আমাদেরও এই স্বভাবটা আছে । উনার থেকেই পাওয়া। )। উনি একজনের একটি বিছানায় একাই শুতেন। এশার নামাযের পর অনেকক্ষন কোরান শরীফ পড়তেন । তারপর ভাত খেয়ে শুয়ে পড়তেন । বেশ মোটা ছিলেন তাই শুয়ে শুয়ে বই পড়তেন। বয়স হওয়ার পর রাতে সহজে ঘুম আসতনা বলে অনেক রাত পর্যন্ত লাইট জ্বালিয়ে বই পড়তেন । পড়তে পড়তে চোখ ঘুম আসলে গভীর রাতে বিছানা থেকে উঠে লাইট নিভাতে কষ্ট হত বলে , উনার বিছানার পাশে ছোট একফুটি টিউব লাইট লাগিয়ে দিতে হয়েছিল। উনার বিছানায় সারাদিন নানা ধরনের বই পড়ে থাকত । মাসিক মদিনা , ইসলামিক গল্প ,বেগম ( মহিলা লেখিকাদের পত্রিকা ) ঝিনুক ( অনেক আগের সিনেমা পত্রিকা ) ভ্রমন কাহিনী, মাসুদ রানা , রহস্য পত্রিকা , বিচিত্রা, শারদীয় পূজা সংখ্যা , আরও কত কি বই । এর মাঝে উর্দু গল্পের বইও ছিল। তিনি উর্দু ও হিন্দি দুই ভাষাই পড়তে ও লিখতে পারতেন । উনার জন্য আমি অমর বই ঘর , ফুটপাতের পুরাতন বই বিক্রেতার কাছ থাকে উর্দু বই খুজে খুজে আনতাম। রহস্য পত্রিকা হকার থেকে নিতাম। আমার পিঠেপিঠি ছোট ভাই মেজটা আনত শারদীয় পূজা সংখ্যা ।

জীবনের শেষ দিকে উনার যখন ক্যান্সার রোগ ধরা পড়ে তখন একবার কেমো থেরাপি দেওয়ার পরই চোখের দৃষ্টির চরম ক্ষতি হয় । তখন উনার সেকি কান্না । বার বার আমাদের বকাবকি করছেন চশমার পাওয়ার বাড়িয়ে আনার জন্য। আমরাও উনার আবদার মত পাওয়ার দ্বিগুন করে আয়না এনে দিলাম তারপরও পড়তে পারছেন না, তাই আবার আরও দ্বিগুন পাওয়ারের আয়না এনে দিলাম তারপরও বই পড়তে পারেন নি। বই পড়তে না পারার যে আক্ষেপ ও বেদনা উনার হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ করত তা বাইরে থেকেও বোঝা যেত । বিছানায় মাথার পাশে রাখা ছড়ানো ছিটানো বই গুলো দেখে দেখে বইগুলোর উপর উনার দুর্বল কোমল হাত বুলিয়ে দিতেন আর নোনা চোখের জলে স্রষ্টার কাছে অভিযোগ করতেন হে প্রভূ রোগ দিয়েছ মেনে নিয়েছি, চোখের দৃষ্টি কেন কেড়ে নিলে ? যে কদিন বেচে আছি সে কদিন কোরান তেলোয়াত আর বই পড়া ছাড়া কি করে বাচব ?
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×