somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চলো প্রশ্ন করি

১০ ই জুলাই, ২০১৪ রাত ৮:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আচ্ছা, অনেক বড় কিছু করতে গেলে কী লাগে? পৃথিবীতে কত বড় বড় মানুষ! কত বড় বড় কাজ! বড় বড় নাম! আর আমি? এখনও বাবা-মা, শিক্ষকরা বলেন, ‘মানুষ হ’! আমিও মানুষ তারাও মানুষ। কিন্তু, সেই মানুষগুলোর সাথে আমার কত আকাশ পাতাল পার্থক্য। এই ধর, ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের কথা- বয়সে বুঝি আমার সমান হবে। কিন্তু কোথায় সে আর কোথায় আমি? তাকে সবাই এক নামে চেনে। আর আমি কোথাকার কে? তাকে সবাই পূজা করে (বাংলালিংকের ভাষায়- প্রিয়জনেরা একটু বেশিই পায়।), আর আমাকে খোঁচা মারে! বাংলাদেশের প্রথম সঙ্গীত বিষয়ক টিভি অনুষ্ঠানের (ক্লোজ আপ ১ তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ) ‘থিম সং’ হচ্ছে,
‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট, বিশ্বাস হৃদয়ে-
হবে হবেই দেখা, দেখা হবে বিজয়ে।’

আচ্ছা ‘লক্ষ্য’ মানে কী ‘স্বপ্ন’? আমারও তো স্বপ্ন আছে। প্রতি রাতে কত হাজারো স্বপ্ন দেখি। কিন্তু, ঘুম ভাঙলেই দেখি বিছানায়- প্রকৃতির প্রবল আহবান! তাহলে ‘স্বপ্ন’ কী? ছোট বেলায় স্বপ্ন নিয়ে একটা লেখায় পড়েছিলাম, ‘মানুষ ঘুমিয়ে যত দীর্ঘ স্বপ্নই দেখুক, তার স্থায়িত্ব ৯ সেকেন্ড! স্বপ্ন নাকি আবার বর্ণান্ধ (কালার ব্লাইন্ড)। স্বপ্নে নাকি রূপ, রস, বর্ণ, গন্ধ নেই। তাহলে স্বপ্ন কী? ঘুম ভাঙলেই দেখি স্বপ্ন টুটে (ভেঙে) যায়। তাহলে স্বপ্ন অটুট হবে কী করে?
আমার এক বন্ধু (বন্ধবী) আছে। সে মনে করে, ‘তার জীবনে কী ঘটবে? তা নাকি আল্লাহ পূর্বেই তাকে স্বপ্নের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়।’ তাহলে সাকিব আল হাসান, নীল আর্মস্ট্রং, কলম্বাস, স্যার আইজাক নিউটন এদেরও কী সৃষ্টিকর্তা স্বপ্নে এসে বলে দিয়েছিলেন? আমাকে কেন দেন না? আমার কী অপরাধ? আমিও তো অনেক বড় হতে চাই! আমিও অনেক কিছু করতে চাই!

ভারতের ইতিহাসের প্রথম মুসলমান রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবুল কালাম আজাদ এর নাম আমরা সবাই জানি। তিনি ভারতের একজন পরমাণু বিজ্ঞানীও। তার সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। তিনি নিম্ন শ্রেণীর মুসলমান ঘরে জন্ম গ্রহণ করেও দেশের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে ছিলেন। তাকে স্কুলে বসতে দেয়া হতো না। তিনি বারান্দায় দাঁড়িয়ে জানালা দিয়ে স্কুলের ক্লাস করতেন। তিনি অনেক সুন্দর সুন্দর কথার মাধ্যমে তার জীবনের গল্প শুনিয়েছেন। তার স্বপ্ন নিয়ে একটা সুন্দর কথা রয়েছে-
“ যা তুমি ঘুমিয়ে দেখ তা স্বপ্ন নয়; যা তোমাকে ঘুমাতে দেয় না তাই স্বপ্ন।”
কথাটা আমার খুব প্রিয়। সম্ভবত, এ.পি. জে. আবুল কালাম আজাদ এর স্বপ্ন ছিল এমন। যে স্বপ্ন তাকে ঘুমাতে দিত না। যে স্বপ্নের ফলে তিনি দিনের চব্বিশ ঘন্টা সময়কে টেনে ৪৮ ঘন্টা করেছিলেন। আর তাই আজ তিনি স্বপ্ন দেখেন না। স্বপ্ন দেখান। তাই আমাদেরও তার স্বপ্নের সাথে মিলিয়ে স্বপ্ন দেখতে হবে।
আচ্ছা বুঝলাম, বড় হতে হলে আমাকে স্বপ্ন দেখতে হবে। যে স্বপ্ন আমাকে খেতে, বসতে, ঘুমাতে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াবে। কিন্তু, কী স্বপ্ন দেখব? কেমন স্বপ্ন? কিসের স্বপ্ন?
আচ্ছা কীভাবে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ‘নবুয়াত’ পেলেন? কীভাবে নিউটন ‘মধ্যাকর্ষণ’ শক্তি আবিষ্কার করলেন? কীভাবে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ‘মহাত্মা’ হলেন? এই ৩ জনের নাম, পরিচয়, ধর্ম এবং দেশ ভিন্ন হলেও তাদের মধ্যে কিন্তু একটা বড় মিল রয়েছে। আর সেটি হচ্ছে- তারা ‘প্রশ্ন’ করতে পারতেন। খুবই আশ্চর্য তাই না?
কীভাবে শুধু প্রশ্ন করে একজন সাধারণ মানুষ এত বড় অসাধারণ হতে পারে? আমি ক্লাসে প্রশ্ন করলেই শিক্ষক বলেন, ‘গাধা’! বোকার মত প্রশ্ন করিস কেন? মুখটা তখন কালো হয়ে যায়। মা-বাবাকে প্রশ্ন করলে ধমক দিয়ে বলেন, বেয়াদপ! বড্ড পেঁকে গেছো! তখন মনে মনে কান ধরে বলি, জীবনে আর কখনো কাউকে মরে গেলেও প্রশ্ন কররো না। তাইতো বিশ্বাস হয় না! কীভাবে একজন মানুষ প্রশ্ন করার মাধ্যমে বড় হতে পারে?

একটু চিন্তা করো। মহানবী (সঃ) এর প্রশ্ন ছিল- ‘আমি কে? কে আমাকে সৃষ্টি করলো? কে এই মহাবিশ্বকে সৃষ্টি করলো?’ এই প্রশ্ন তিনি কার কাছে করেছিলেন? হয়তো তার সহপাঠী, বন্ধু কিংবা চাচা অথবা বয়স্ক কারও কাছে। তারা কী করলো?

হাসি ঠাট্টা করল। পাগল ভাবল। তিনি কী প্রশ্ন করা বন্ধ করলেন? না তিনি যখন অন্য কোথাও তার প্রশ্নের উত্তর পেলেন না। তখন তিনি নিজের কাছে প্রশ্ন করলেন? শুধু নিজের কাছে প্রশ্ন করে বসে থাকলেন না। নিজে নিজে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করলেন এবং প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়ে হয়ে গেলেন ‘বিশ্বনবী’, ‘মহানবী’। অর্থাৎ তিনি প্রশ্ন করলেন নিজের কাছে।
একই ভাবে স্যার আইজাক নিউটন প্রশ্ন করলেন, ‘কেন আপেল নিচে পড়ল? এত জায়গা থাকতে কেন আপেলকে নিচে আসতে হবে? আপেল নিচে নামার প্রশ্নের উত্তর যখন খুঁজে পেলেন তখন তিনি হয়ে গেলেন তার সময়কার শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী। তিনিও বড় হলেন নিজেকে প্রশ্ন এবং উত্তর খোঁজার মাধ্যমে।
মহাত্মা গান্ধী যখন দক্ষিন আফ্রিকায় ছিলেন। তখন তিনি সেখানকার এক রেলস্টেশনে চরম লাঞ্ছনার শিকার হন। সেই রেলস্টেশনের প্লাটফর্মের সাইনবোর্ডে লেখা ছিল,

“Dogs and Indians are not allowed”

মানুষ হয়েও কেন মানুষের সাথে পশুরমত আচরণ। তার মন কেঁদে উঠল। কেন এমন হবে? তিনি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য প্রচার করলেন অহিংসার বানী। কোন পাশবিক যুদ্ধ, বিগ্রহ, বিদ্রোহ নয়। তাই তো তিনি আজ ‘মহান+আত্মা’= ‘মহাত্মা’।

বুঝলে, কীভাবে প্রশ্ন মানুষকে বড় করে তোলে! তবে প্রশ্ন অবশ্যই নিজের কাছে। আর একটা বিষয় প্রশ্ন ভুল, অবান্তর বা অযৌক্তিক নয়। প্রশ্ন প্রশ্নই। ভাল প্রশ্ন, খারাপ প্রশ্ন বলে কিছু নেই। তাই মনে কোন দ্বিধা, সংশয়, সন্দেহ এর উদয় হলেই প্রশ্ন করো। আর প্রশ্ন করে বসে থাকলে হবে না। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হবে, যেভাবেই হোক (by hook or crook)। নুবাবা-মায়ের কাছে অনুরোধ- আপনাদের সন্তান যদি বেশি প্রশ্ন করে। তবে বিরক্ত হবেন না। দয়া করে আপনার সন্তানকে বকবেন না। বরঞ্চ, প্রশ্ন করতে উদ্বুদ্ধ করুন এবং তাকেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সাহায্য করবেন। দেখবেন সে নিশ্চয় পারবে এবং ভবিষ্যৎ প্রশ্নের জন্য আপনাকে বিরক্ত করবে না। নিজে নিজেই খুঁজে নেবে।

প্রশ্নের উত্তর খুঁজে কী লাভ? অনেক লাভ! নিজের শক্তি-সামর্থ্য, নিজের সম্পদ-সম্পত্তি, আত্মবিশ্বাস-আত্মতৃপ্তি সবকিছুই খুঁজে পাওয়া যায়- প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মাধ্যমে। নিজের হৃদয়ে আত্মবিশ্বাস জন্ম নেয়। তাই তো, এভারেস্ট বিজয়ী মুসা ইব্রাহীম দৃঢ় চিত্তে বলেন,- ‘পৃথিবীর একজন মানুষও যদি পারে। তাহলে মুসা ইব্রাহিমও পারবে।’

প্রশ্নের উত্তর খোঁজা কী খুব সহজ? কক্ষনোই না! তোমার মনে যে প্রশ্ন। তার উত্তর বাজারে প্রচলিত কোন গাইড বইয়ে নেই। যে বাজর থেকে গাইড বই কিনে এনে উত্তর খুঁজে পেলাম। আর মুখস্থ করে পরীক্ষার খাতায় লিখে দিলাম। ব্যস, পেয়ে গেলাম গোল্ডেন ‘এ’ প্লাস।

এই প্রশ্নের উত্তর জীবনের পরতে পরতে লুকায়িত। খুঁজে পাওয়া খুবই কষ্ট সাধ্য। সাপের মাথার মানিকের মত। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পৃথিবীর নিয়ম ভাঙতে হয়। এ.পি.জে. আবুল কালাম আজাদ এর আরেকটি কথায় ফিরে যাই। তিনি বলেছেন, ‘পৃথিবীতে কিছু মানুষের জন্ম হয় পৃথিবীর নিয়ম মেনে চলতে। আর কিছু মানুষের জন্ম হয় পৃথিবীর নিয়ম ভাঙতে। আমার দরকার নিয়ম ভাঙার মানুষ গুলোকে।’

সুতরাং, যা চলে আসছে তাই যে, ‘সত্য’, তা কিন্তু, ঠিক নয়। নতুন কিছু হতে পারে আরো সঠিক বা যর্থার্থ। তাইতো, আমাদেরকে নিয়ম ভাঙার দলে ভিড়তে হবে। ভাবতে হবে নতুন কিছু। হতে হবে সৃজনশীল, কৌশলী। দৃঢ় প্রত্যাশার (প্রত্যয়+আশা)সাথে থাকবে আত্মবিশ্বাস; হতে হবে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ- অবশ্যই নিজের কাছে। হতে হবে পরমতসহিষ্ণু, শ্রদ্ধাশীল, উদার এবং বিশ্বজনীন। নিজেকে ভাঙতে হবে, গড়তে হবে। তাহলে হয়তো পৌঁছে যেত পারবো আমার অটুট লক্ষ্যে।


যাক বড় হওয়ার ট্যাবলেট (সূত্র) আবিষ্কার করে ফেললাম। এখন পানি দিয়ে গিলে দেখি বড় হতে পারি কী না? .....যদি বড় হতে পারি! তাহলে, বড় হওয়ার গল্প শোনাব আর.... একদিন.......।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×