somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাকিব-আল-নাহিয়ান
"তোমার জীবনের একটা বিরাট অংশ জুড়ে থাকবে তোমার কাজ, তাই জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে চমৎকার কোনো কাজ করা। আর কোনো কাজ তখনি চমৎকার হবে যখন তুমি তোমার কাজকে ভালোবাসবে। যদি এখনো তোমার ভালোবাসার কাজ খুঁজে না পাও তাহলে খুঁজতে থাকো। অন্য কোথ

আত্মকথন...

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৩ বিকাল ৪:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

...ঝুমবৃষ্টির এক ভরদুপুরে আমাকে একজন বলেছিল,আমি নাকি নিজেকে চিনি না।নিজের স্বেচ্ছাচারী দিকগুলো শুধরানোর বিন্দুসমান আগ্রহ নাকি আমার মাঝে নাই।আমি যদি এমনই থাকি তাহলে আজকের পর থেকে সে অন্তত আর আমার সাথে নাই।

তুমুল বৃষ্টির মাঝে সাধারণত রোদ থাকেনা।সেদিনও ছিলনা।কিন্তু আমি সেই মধ্যদুপুরের বৃষ্টির ঠাণ্ডা রোদে চোখ বন্ধ করে আকাশের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে ছিলাম।ফোঁটায় ফোঁটায় নীলাভ রোদগুলা আমার মুখে সুঁইয়ের মতো বিঁধছিল,আমি জিহবা বাড়িয়ে সুঁইয়ের খোঁচা প্রশমিত করছিলাম।আধবোজা চোখেই বেশ বুঝতে পারছিলাম কি এক অবাক করা দৃষ্টি নিয়ে সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে আর ভাবছে,

"মানুষ এতটাও উদাসীন হয়?হে আল্লাহ ওকে হেদায়েত কর।"

আল্লাহ সেদিন হেদায়েত করেন নাই।তাই হয়তো তার সব কথাই সেদিন দুর্দান্ত বিরক্তিকর এবং অপ্রাসঙ্গিক লাগছিল!

বহুদিন পর কোন এক ঘাসসবুজে ছিটকে ওঠা বৃষ্টিফোঁটার রাতে কাগজ-কলমের খসখসে শব্দে তার অনুযোগগুলোর উত্তর দিলাম,নীল জেল পয়েন্টের তীক্ষ্ণ আওয়াজ বৃষ্টির শব্দে চাপা পরে গেল।তবু আমি আজ আমার মত করে আমার স্বেচ্ছাচারিতার বিশ্লেষণ করে ফেললাম...

(১)প্রথম সমস্যা EGO.কাউকে হয়ত ভালবাসতে বাসতে মরে যাচ্ছি,কিন্তু কোন কারনে হয়তো মাঝে EGO ঘটিত মহাপুরুষের জন্ম হয়েছে।আমি তখন মহাপুরুষকে আঁকড়ে ধরে করুণ চোখে ভালবাসার চলে যাওয়া দেখব।পিছন থেকে হয়তো খুব ডাকতে ইচ্ছা করবে,কিন্তু মহাপুরুষদের পিছন থেকে ডাকবার নিয়ম নাই।তাই আমি নিয়ম মেনে নিয়মিত চুপ থেকে যাব।জীবনের সব নিয়ম অনিয়ম হয়ে যাবে,তবুও আমি চুপই থেকে যাব...

(2)নিজের দোষ দেখতে না চাওয়ার প্রবণতা।তার মানে এই না যে আমি দোষ স্বীকার করছিনা।আমি মনেপ্রানে মেনে নিচ্ছি আমি দোষী,তাতে আমি অনুতপ্তও এবং দোষমুক্তির দায়ভার কাঁধে নিতেও আমি রাজি।কিন্তু...কিন্তু কি এক অদ্ভুত কারনে মুখের উপর কেউ তা নিয়ে আমার সাথে কঠোর হলে সাথে সাথে আমার মহাপুরুষের গায়ে আগুন লেগে যায়।আমিও তখন নিজের দোষটাকে প্রাণপণে যৌক্তিক করার অযৌক্তিক কাজে লেগে যাই...

(৩)সবকিছু চেপে যাওয়া।ভিতরে ভিতরে কোন কারনে হয়ত শেষ হয়ে যাচ্ছি,কিন্তু বাইরে সবাই দেখবে সাকিব সিগারেট টানতে টানতে ধুমসে তাস পিটাচ্ছে...

(৪)নিজেকে,নিজের চাওয়াকে বেশিরভাগ সময় বুঝতে পারিনা যতক্ষণ না কেউ বুঝিয়ে দেয়।তবে কেউ নিজের ইচ্ছামত বুঝ দিতে পারেনা।সেটাই বুঝাতে পারে যেটা আমি বুঝতে চাই...

(৫)আমি অলস না,তবে আরাম প্রিয়।চাইলে দুইদিন দুইরাত জেগে কাটাতে পারি,আবার চাইলে দুই দিন দুইরাত ঘুমিয়েও কাটাতে পারি...

(৬)Perfectionist.কোন কিছু ১০০% নিজের মন মত না হওয়া পর্যন্ত শান্তি লাগেনা।এজন্য সবকিছুতেই একটু দেরি হয়ে যায়...

(৭)যাকে দেখতে পারিনা সে যাই করুক তাকে দেখতে পারিনা,আর যাকে পছন্দ করি সে যাই করুক শেষপর্যন্ত মাফ করেই দেই।এই যেমন শাহাদাত যদি কোনদিন ৫ উইকেট পায় সেইদিনও আমি বলব ওর মত বেকুব এটা করল কিভাবে?নির্ঘাত পিচের দোষ!একই কারনে আশরাফুলকে অসম্ভব পছন্দ করি এবং আজীবনই করব...

(৮)কেউ কিছু মানা করলে সেটা বেশি বেশি করি।এজন্যই হয়তো কোন ক্লাসে অ্যাবসেন্ট থাকার জন্য স্যার ঝাড়ি দিলে পরবর্তী তিন থেকে চারটা ক্লাসে অ্যাবসেন্ট থাকতাম...

(৯)সুন্দর তা সে যাই হোক না কেন খুব ভালো লাগে,কেমন যেন নেশা লাগে।মনে হয় ছুঁয়ে দেখি।খুব খারাপ অভ্যাস,খুবই খারাপ অভ্যাস...

(১০)Aimless.জীবনে কি হব সে চিন্তা না হয় বাদ দিলাম,১ ঘণ্টা পর কি করব সেটাই ঠিক করতে পারিনা,মাঝে মাঝে Indecision এ ভুগি।খুবই ভুলোমন।মাঝেমধ্যেই গোসলের আগে কোমরে তোয়ালে পেঁচায়ে রেখে সাড়া বাড়ি তোয়ালে খুঁজতে খুঁজতে মাথায় উঠাই...

...অনেকাংশে এগুলাই আমার দুর্বল দিক।আমার স্বেচ্ছাচারিতার রহস্যভেদ করেই ফেললাম।কিন্তু দুঃখজনক তার কাছে আজও এই রহস্য রহস্যই থেকে গেল।সেই রহস্যময়ী গাঢ় দুইচোখে সাদাকালো আমি প্রগাঢ় রহস্য নিয়ে বেঁচে আছি ভাবতে একদম খারাপ লাগছেনা।তার রহস্যজটের শব্দধাঁধাঁগুলো তার মাঝেই মলিন থাকুক।আমার এই নষ্ট কষ্টের অপরাধী ভাবনাগুলোও আমার মাঝেই বিলীন হয়ে যাক.......
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৩ বিকাল ৪:১০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×