somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাকিব-আল-নাহিয়ান
"তোমার জীবনের একটা বিরাট অংশ জুড়ে থাকবে তোমার কাজ, তাই জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে চমৎকার কোনো কাজ করা। আর কোনো কাজ তখনি চমৎকার হবে যখন তুমি তোমার কাজকে ভালোবাসবে। যদি এখনো তোমার ভালোবাসার কাজ খুঁজে না পাও তাহলে খুঁজতে থাকো। অন্য কোথ

কনফেশন

১৬ ই এপ্রিল, ২০১৩ ভোর ৪:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকাল রাত্রে ফেইসবুকে আমার মেডিক্যালের কনফেশন পেইজে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম।সেই পোস্ট নিয়ে তো অনেক কাহিনী।সেই কাহিনী এখানে বলার প্রয়োজন দেখিনা।শুধু কনফেশনটা হুবুহু তুলে দিলাম।

একটা কাহিনী বলব।শুধু আমার কাহিনী বললে ভুল হবে,আমাদের কয়েকজনের কাহিনী।কিন্তু যেহুতু কনফেজটা আমি করছি তাই সঙ্গত কারনেই বন্ধুদের নাম গোপন রাখলাম।যারা বোঝার তারা ঠিকই বুঝবে,বাকিরা না বুঝেই মজা নিবে। :p

ফার্স্ট ইয়ারের কথা।মেডিক্যালের স্টুডেন্ট মাত্রই জানে এর পড়ালেখা কতটা বিষাক্ত!তো বিষে বিষে আমরা সর্বদাই নীল হয়ে থাকতাম।কিন্তু তাতে কি হবে,আমাদের শয়তানিতে তা কখনই ব্যাঘাত ঘটাতে পারতোনা।যতই নীল হতাম,ততই নতুন নতুন শয়তানির নীলছবি* মাথায় ঘুরপাক খেত।

আমাদের চার বন্ধুর একটা নিয়ম ছিল।যত যাই করিনা কেন,পরীক্ষার আগের রাত্রে খাওয়া দাওয়ার পর চারজন ৪টা সিগারেট ধরাতাম,তারপর পড়া শুরু করতাম।সারারাত পড়ে পরীক্ষা দিয়ে এসে তারপর ঘুম দিতাম।প্রথম কয়েকটা পরীক্ষা ভালোই গেল।সমস্যার শুরু হল কিছুদিন পর থেকে,যখন রুমে আর একজনের আসা শুরু হল!

গল্পের সুবিধার জন্য আমার বন্ধুদের নাম দেয়া দরকার।আমি তো আমিই।ধরে নেই আমার বাকি তিন বন্ধুর নাম যথাক্রমে "ন","ম",আর "দ"।আর ঐযে নতুন আর একজনের কথা বললাম,ধরে নেই তার নাম "ঘ"।

ফিজিওলজির কোন একটা কার্ড ফাইনালের আগের রাত।সবে পড়তে বসছি।"ঘ" এসে হাজির,

-এই তোরা কি পড়ছিস?এই বলনা তোরা কি পড়ছিস?

-"ঘ" মামা দ্যাখ ডিস্টার্ব করিস না।কিচ্ছু কিন্তু পড়িনাই।

-কি যে বলিস তোরা!তোদের কি আর পড়া লাগে?তোরা তো বসলেই পাশ।

-দ্যাখ,পড়তে দে।মাত্র শুরু করসি।তোর মত কয়েকবার করে পড়ে যেতে পারিনা,প্রতিবার লেকচার ক্লাসে ঢুকতে ঢুকতে একবার সিলেবাস কমপ্লিট হয়।

-তোরা যে কি না।খালি খালি বাজে কথা।

এইরকম কথা কয়েকঘন্টা চলতে থাকে।প্রথমে চরম মেজাজ খারাপ হয়,একপর্যায়ে হতাশ হয়ে একটু পরপর একজন আর একজনের মুখের দিকে তাকাতে থাকি।যাই হোক,ফলাফল যা হওয়ার তাই,ফেইল না করলেও গ্রেজ নিয়ে অসম্মানের সহিত পাশ।

পরের দিন চারজন চিন্তা করতে বসলাম,কি করা যায়?অনেক চিন্তাভাবনা করে লাইব্রেরি থেকে কিছু মোটা মোটা বই নিয়ে আসলাম।তো যথারীতি পরীক্ষার আগের রাতে "ঘ" এসে হাজির।ওকে দেখা মাত্রই আমরা ওই বইগুলো খুলে পড়া শুরু করলাম।

-এই তোরা কি পড়ছিস?দেখি দেখি তোরা কি পড়ছিস?ধুর ছাই,বলনা এসব কি পড়ছিস? :O

-ক্যান তুই জানোসনা?আব্দুর রহমান স্যার তো কোশ্চেন দিয়া দিসে।এইসব বই থেকে কোশ্চেন করসে।

-হ্যাঁ!!!কি বলছিসরে তোরা?আমার কি হবে রে,এই দে না,কি পড়ছিস দে না।আমি এখনই খাতা কলম নিয়ে আসছি।

যথারীতি পরীক্ষা হল।"ঘ" দেখি মুখ কালো করে দাঁড়িয়ে আছে।ওদিকে তো আমরা হাসতে হাসতে এখন যাই তখন যাই অবস্থা।কিন্তু কথায় আছে আজ হাসি তো কাল কান্না,কিন্তু কাল যে পরের পরীক্ষাতেই আসবে কে ভেবেছিল!!!

আবার পরীক্ষার আগের রাত।আমরা নিশ্চিন্ত মনে পড়তে বসেছি।দেখি "ঘ" ছোট ছোট পায়ে হাজির।প্রতিদিনের মতোই আজও দুইদিন আগেই তার সব পড়া শেষ এবং আজও তার পরনে সেই ছাপা লুঙ্গি আর স্যান্ডো গেঞ্জি।আমাদের মোটা বই ধুমধাম খুলে গেল।বই সোজা না উল্টা দেখার সময় নাই,মাথা ঢুকায়ে পড়া শুরু করলাম।

-যাহ তোরা যে কি দুষ্ট না।আমাকে কেন ভয় দেখালি?

-শুন "ঘ",মেজাজ কিন্তু খারাপ আসে।স্যার আবার কোশ্চেন দিসে।গতদিন ভুল কোশ্চেন পাইসিলাম।

-হ্যাঁ,আমি কি এত বোকা?হা হা হা।তোরা আর আমাকে বোকা বানাতে পারবিনা।হা হা হা।

মানুষ রাগলে নাকি মাথায় রক্ত উঠে যায়।আমার মাথাটা হঠাৎ খুব হালকা হয়ে গেল।হালকা সুরে গান গাইতে গাইতে উঠে রুমের দরজাটা লাগালাম।আমাদের মধ্যে "ম" এর তখন স্যামসং মোবাইল সেট।ওই সেটের ভাইব্রেসন ছিল চরম।টেবিলের উপরে রেখে কল দিলে সেট কাঁপতে কাঁপতে নিচে পরে যেত।সবার সাথে মুহূর্তের মধ্যেই চোখাচোখি হয়ে গেল।আমি আর "দ" মিলে "ঘ " কে বিছানায় চেপে ধরলাম।"ন" ওর লুঙ্গির মধ্যে স্যামসংসহ দুইটা মোবাইল ঢুকাল।তারপর বাকি দুইটা দিয়ে শুরু হল একটার পর একটা কল দেয়া।

-এই।হাহাহা, থাম থাম, হাহাহা,সুরসুরি লাগেতো।এই হাহাহাহা,মরে যাব যে, হাহাহা তোরা থাম।হাহাহা প্লিজ হাহাহা।ওমা হাহাহাহা।ইস হাহাহা,উফ হাহাহা।

-বল আর জীবনেও ডিস্টার্ব করবিনা।কসম কাট।বল আমি শপথ করিতেছি যে...

কিসের পরীক্ষা,আর কিসের চিৎকার।আমরা তখন শপথ গ্রহনে ব্যস্ত।এক শপথ আমরা যে কয়বার করিয়েছিলাম হিসাব নাই।যাকে বলে পৈশাচিকতার মাঝে নির্মল এক আনন্দ। :D

এরপর থেকে অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়।যদিও এর মাঝে আরও কয়েকবার আমরা শপথ করিয়েছিলাম।সেসব ক্ষেত্রে অবশ্য কোন উপলক্ষ্য ছিলনা।রুমে আসলেই শপথ গ্রহন :p

এখন আসি কনফেশনের কাজে।আমি আজ কনফেশন করতে ইচ্ছুক না,হাসতে হাসতে শপথ করতে চাই,

"আমি শপথ করিতেছি যে,আমি যা করেছিলাম তা কোনক্রমেই ঠিক করিনাই।তবে দোস্ত "ঘ"।রাগ করিসনা।আমি জানি সেদিন তুইও বিশেষ কষ্ট পাসনাই।পাইলে জেনে শুনে প্রায়ই শপথ নিতে লাফাতে লাফাতে আমার রুমে আসতিনা।তোর শপথ নিয়ে আমি মোটেই মনঃকষ্টে ভুগছিনা।এখনও যদি সময় সুযোগ পাই,আবারও তোর শপথ নিতে চাই।আমার নতুন মোবাইলটা কাঁপতে কাঁপতে ঘর থেকে কিভাবে কিভাবে যেন বাথরুমে চলে যায়।ওটা এটলিস্ট একদিন হলেও ট্রাই করতে চাই... :D


"নীলছবি* কথাটি কথার কথা হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে।আশা রাখি কেউ কিছু মনে করবে না।"

ভাই সাকিব
J-13
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৩ ভোর ৪:৫০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×