somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাকিব-আল-নাহিয়ান
"তোমার জীবনের একটা বিরাট অংশ জুড়ে থাকবে তোমার কাজ, তাই জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে চমৎকার কোনো কাজ করা। আর কোনো কাজ তখনি চমৎকার হবে যখন তুমি তোমার কাজকে ভালোবাসবে। যদি এখনো তোমার ভালোবাসার কাজ খুঁজে না পাও তাহলে খুঁজতে থাকো। অন্য কোথ

ফাটল

২৫ শে এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাভার থেকে আসলাম।আমি আর আমার দুই সিনিয়র ডাক্তার জনি ভাই আর শান্তু ভাই গেছিলাম।ভয়াবহ অবস্থা।দূর থেকেই গোটা সাভারটাকে একটা হসপিটাল মনে হচ্ছিল।সেই চিরচেনা রোগীর লোকজনের বুক ফাটানো আহাজারি,আহতদের ভোঁতা আর্তনাদ,অ্যাম্বুলেন্সের চিৎকার চেঁচামেচিতে কতক্ষণ শুধু চুপ করে দেখলাম।ধাতস্থ হতে সময় লাগল।হেঁটে হেঁটে ধ্বংসস্তুপের কাছে গেলাম।শয়ে শয়ে পুলিশ,আর্মি আর সেচ্ছাসেবীরা উদ্ধারকাজে ব্যস্ত।পাথর খুদে,মাটি খুঁড়ে মৃত,অর্ধমৃত মানুষগুলোকে টেনে হিঁচড়ে বের করা হচ্ছে।কোলেকাঁধে নিয়ে গাড়িভর্তি করে এনাম মেডিক্যালের হসপিটাল চত্বরে তাদের রেখে আবার গাড়িগুলা ফিরে ফিরে আসছে।হাজার হাজার মানুষ আবার শুধু রাস্তার পাড়ে দাঁড়িয়ে গভীর মনোযোগে এসব দেখছে,অনেকে আবার ছবিও তুলে রাখছে।আমিও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আঞ্জুমান মুফিদুল,এনাম মেডিক্যাল,গণস্বাস্থ্য মেডিক্যাল এবং আরও অনেক হাইওয়ে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের কার্যক্রম দেখলাম।তারপর হাঁটতে হাঁটতে এনাম মেডিক্যাল হসপিটালের সামনে আসলাম।

সেখানেও দাঁড়ানোর মত জায়গা নেই।ধাক্কাধাক্কি করে,পরিচয় দিয়ে কোনমতে ভিতরে ঢুকলাম।ঢুকেই প্রথমে আমি আর জনি ভাই রক্ত দিতে গেলাম।এমনিতেই দুপুরে খাইনাই,প্রেশার হয়তো একটু কম ছিল,রক্ত দিয়ে উঠার সময়ই মাথাটা ঘুরে উঠল।চোখ বন্ধ করে পরে আছি,কেমন জানি একটা ঝিমঝিমানি ভাব,কি এক ঘোরের মধ্যে চলে গেলাম।ঘোরের মধ্যেই অদ্ভুত কিছু জিনিস মনে হতে লাগল।

আমার কাছে মনে হতে লাগল,আগামীকাল ঈদ।আমি গেছি গাবতলির হাটে গরু কিনতে।মানুষজনের মাঝে গরু কেনার চাপা উল্লাস।হাটে গিয়ে দেখলাম পার্শ্ববর্তী ভবন ভেঙ্গে পরে গরুছাগল সব চাপা পরে আছে।ভবনটায় নাকি গতকালকেই ফাটল দেখা গিয়েছিল,কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিশেষ পাত্তা দেয়নাই।এরা তো আর মানুষ না,এত চিন্তা করার তো কিছু নাই।মানুষ হলে একটা কথা ছিল।লোকমুখেই শুনলাম ছাগলগুলা নাকি আজ একবার ভবনের নিচে দাঁড়ানোর সময় কান্নাকাটি করছিল,গরুগুলা নাকি প্রথমে ভিতরে ঢুকতেই চায়নাই।কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক ওগুলাকে ভিতরে ঢুকানোর ব্যবস্থা করেছে।তারা তো তাদের ব্যবসার কথাই আগে চিন্তা করবে তাইনা?আর নিতান্ত গরুছাগল নিয়ে তো এত মাথা ঘামানোর কিছু নাই।মানুষ হলে অবশ্য একটা কথা ছিল।

ভাঙ্গা বিল্ডিং পাড় হয়ে হেঁটে হেঁটে পার্শ্ববর্তী হাসপাতালের সামনে আসলাম।এসে তো আমি অবাক!পুলিশ,আর্মি,সাংবাদিক,আমজনতা এরা তো থাকবেই।কিন্তু কসাইগুলা অ্যাপ্রন পরে এখানে কি করতেছে?রক্তচোষাগুলা আবার কোলে করে অ্যাম্বুলেন্স থেকে গরুছাগলগুলাকে স্ট্রেচারে নামাচ্ছে,তারপর হাঁপাতে হাঁপাতে ইমারজেন্সির ভিতর চলে যাচ্ছে।আমার ভীষণ অস্থির লাগতে লাগল।আজ বাদে কাল ঈদ।এমনিতেই বাজারে কসাই শর্ট,এইগুলা যদি এই কাজ করে তো কাল কসাই কই পাব?তোদের কাজ হল গরু কাটা,তোদের গরুসেবা করতে কে বলছে?আর যেখানে ভবনের মালিকের মাথাব্যথা নাই,আহত এবং নিহত পশুদের বাজারদরও এর মাঝেই ঠিক হয়ে গেছে তো তোদের নাপতানি করার দরকারটা কি?


এই যখন অবস্থা কে জানি মুখে পানি মেরে দৌড় দিল।তাকিয়ে দেখি বিরাট একমুখ!!!চোখ মুছে দেখি জনি ভাই হা করে তাকায়ে আছে।উঠে বসলাম।চারপাশে মানুষ গিজগিজ করছে।ইমারজেন্সিতে ঢুকলাম।তিনজন মিলে যতখানি যা পারি সাহায্য করলাম।কোন অনুভূতিই কেন জানি কাজ করছিলনা।অবশ্য করার কথাও না।এরা তো গরুছাগল না,এরা জলজ্যান্ত মানুষ।হয়তো অনেকেরই শরীরের সবটা নাই,তবুও তো এরা মানুষ।কসাই হলেও কিছুটা অনুভূতি হয়তো থেকেই যায়,তাই নয় কি?
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৩ রাত ৩:৫৪
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×