somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাকিব-আল-নাহিয়ান
"তোমার জীবনের একটা বিরাট অংশ জুড়ে থাকবে তোমার কাজ, তাই জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে চমৎকার কোনো কাজ করা। আর কোনো কাজ তখনি চমৎকার হবে যখন তুমি তোমার কাজকে ভালোবাসবে। যদি এখনো তোমার ভালোবাসার কাজ খুঁজে না পাও তাহলে খুঁজতে থাকো। অন্য কোথ

শব্দহীন ভালোবাসা...

১২ ই জুন, ২০১৩ দুপুর ১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত সাতদিন ধরে আমার নানা ভয়ানক অসুস্থ।Lab Aid এর ICU তে ছিলেন।ওখান থেকে তিনদিন পরে আনলাম BSMMU এর VIP Cabin এ।Diagnosis,Acute Exacerbation of COPD with Parkinsonisom. প্রথম দিকে অবস্থা খুব বেশি ভালো ছিলনা।আজ যথেষ্টই ভাল।শ্বাসকষ্ট অনেকটা কম।মুখে খাচ্ছে,কমবেশি কথাও বলছে।

তিনদিন আগের কথা।নানার অবস্থা বেশ খারাপ।বাইরে থেকে বুকের শোঁ শোঁ আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।এই বয়সে এমন আওয়াজ ঝড়ের পূর্বাভাস।সবাই বেশ গম্ভীর।কারো সাথে কারো কোন কথা নাই।আমি শুধু ৪ ঘন্টা পর পর নেবুলাইজ করে যাচ্ছি।ঘন্টার পর ঘন্টা ফলো আপ দিয়ে যাচ্ছি।নানা কারও সাথে কথা বলার মত অবস্থায় নাই।পারকিনসনিসমের কারণে উনার ডান হাত ক্রমাগত কেঁপে যাচ্ছে।একের পর এক মানুষ দেখতে আসছে।বিভিন্নজন কাঁপা হাতের বিভিন্ন মতবাদ ব্যাখ্যা করতে চাচ্ছে।আমি খুব কৌতুহল নিয়েই সবার কথা শোনার ভান করছি,যে যা বলছে সব কিছুতেই হু হা করে যাচ্ছি।অন্যান্য রোগীর লোকের উপর যতটা কতৃত্ব খাটানো যায়,নিজের বাসার লোকের উপর তা খাটানো যাচ্ছেনা।কোথায় এত লোক ঢোকা বন্ধ করব,তার বদলে নিজেই মাঝে মাঝে রুমের বাইরে অস্থিরভাবে পায়চারী করে যাচ্ছি।

রাত ১০টা বাজে।ভিজিটর কমে গেছে।ভিতরে ঢুকে দেখি মামা,মামী আর নানু বসা।নানুকে বাসায় নিয়ে যেতে হবে।উনারও যথেষ্ঠ বয়স হয়েছে।ঠিকমত চোখেও দেখেন না।আমি দরজায় দাঁড়িয়ে আছি।নানু নানার কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছেন।এতদিন যে নানার মুখে কোন কথা ছিলনা,সে হঠাৎ নানুর দিকে ফিরে আধবোজা চোখে গুমড়ে উঠল,

" তোমাকে যেতে দেয়া যাবেনা। "

গুটি কয়েক শব্দ।অস্পষ্ট,শ্লেষ্মা জড়ানো।খুব করে কান না পাতলে যার শুধু কয়েকটা ভগ্নাংশই শোনা যায়।অথচ তার প্রতিটি অংশে কি গভীর মমতা।আচ্ছন্ন,ঘুমকাতুরে কয়েকটা শব্দে কি অদ্ভুত শূণ্যতা।শ্লেষ্মার মায়াজালে যেন কয়েক টুকরো প্রতারিত যন্ত্রণা।

দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি।কথা ছিল নানুকে বাসায় রেখে মামা হাসপাতালে ফিরে আসবে।নানুকে কোনভাবেই সাথে নেয়া গেলনা।তার পরিবর্তে মামীর যাওয়া ঠিক হল।মামী তার ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে এল।আমি নিচ পর্যন্ত এগিয়ে দিতে আসলাম।লিফটের কাছে যেয়ে দেখি ভুলে ফোন রেখে এসেছি।আবার রুমে ফিরলাম।আস্তে করে দরজাটা একটু ফাঁক করে দেখি নানু নানার পাশে সোফায় মাথা নিচু করে বসে আছে।ঘোমটার ছাউনিতে নানুর মুখ দেখা যাচ্ছেনা।শুধু দেখতে পাচ্ছি নানু তার দুই হাত দিয়ে নানার ভূমিকম্পের মত হাতটাকে বিছানার সাথে শক্ত করে চেপে ধরে আছে।নানার কাঁপুনি থেমে গেলেও নানু কিন্তু থেকে থেকে কেঁপে কেঁপে উঠছে।নানার রুক্ষ,জমাট বাঁধা হাতটি তার সহচরীর টুপটাপ কষ্টে ভিজে ভিজে উঠছে।

লিফটের দিকে ফিরে যাচ্ছি।হাসপাতালের ভাসমান আলো,ফ্যানের ধাতব বাতাস,অক্সিজেন সিলিন্ডার বয়ে বেড়ানোর যান্ত্রিক শব্দ হঠাৎ করেই কেন জানি খুব অসহ্য লাগছে।চারপাশ শুনশান।কিন্তু আমার মাঝে নিঝুম গ্রামের শত সহস্র ঝিঁঝিঁপোকা ঝনঝন করে বেজে যাচ্ছে।আমার সহ্যশক্তি ভালো ভাবতাম।ভুল ভাবতাম।আমার সহ্যশক্তি নিম্ন পর্যায়ের।ভালোবাসার নির্মম মুহূর্তগুলো সহ্য করার ক্ষমতা আমার নাই।লৌকিক পৃথিবীর অলৌকিক মমত্ববোধগুলো আমার জন্য নিষিদ্ধ।সৌরজগতের সর্বশ্রেষ্ঠ ভালোবাসাগুলো সহ্য করার ক্ষমতা আমাকে কখনই দেয়া হয়নাই।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১৩ দুপুর ১:২৯
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×