ফেসবুকে ঢুকামাত্রই বুঝতে পারলাম আজ বিশেষ কোন দিন। বিশ্বজুড়ে আজ 'Propose Day' পালিত হচ্ছে। খাঁটি বাংলায় যাকে বলে, 'প্রেম নিবেদনের দিন। 'আমাদের কলেজ জীবনে এতসব দিন ছিল কিনা জানা নাই। দিন বলতে ওই এক Valentine's day ই জানতাম। তখন মোবাইল ফোন ছিল অতিদুর্লভ বস্তু। ল্যান্ডফোনে প্রেম ছিল যথেষ্ট রিস্কি। তাই প্রেমগুলা হত ঠিক সিনেমার মত। প্রেম নিবেদনগুলোও ছিল দেখার মত!
আমার এক ভাই ছিল। ছিল মানে এখনও আছে। বহাল তবিয়তেই আছে। তাকে একবার পাশের বাসার এক বালিকা পত্র মারফত আবেদন করে বসল। খামের উপরে মোটা কালিতে লেখা ছিলঃ
"বিশেষ গোপনীয়। 'সেই' তুমি ছাড়া খোলা নিষেধ!!!"
'সেই' তুমি যে কোন তুমি তা অবশ্য পত্রপাঠের আগে বোঝা যায়নাই। চিঠির বক্তব্যও ছিল অতি সংক্ষেপঃ
"যদি তুমি আমার ভালোবাসা চাও,
অদ্য বৈকাল পাঁচ ঘটিকায়,
বাড়ির ছাদে দক্ষিণমুখী হয়ে,
তৃপ্তিসমেত একগ্লাস পানি খাও!"
-ইতিঃ তোমার 'সেই' আমি
ভাই কিন্তু আমার অতিরসিক। সে আমাকে জিজ্ঞেস করল যে, শুধু ভালোবাসা চাইলে পানি খাইতে বলছে। সাথে আরও কিছু চাইলে, কি খাইতে হবে?
বিকাল পাঁচটায় দেখা গেল, ভাই আমার দক্ষিণমুখী হয়ে তৃপ্তিসমেত ধোঁয়া উঠা গরম দুধ খাচ্ছে! তার সদ্যমুক্তিপ্রাপ্ত গোঁফরাজিতে কয়েক ফোটা তৃপ্তিকণা ছটফট করে যাচ্ছে!
আজ শুভদিন। পরের ঘটনা উহ্য রাখা হল।
আমার আরেক বন্ধু এলাকায় কোন সুন্দরী মেয়ে আসলেই একগাল হাসি দিয়ে বলত,
"সাকিব!!! ধরছি!!!
এরপর সপ্তাহখানেক তাকে মেয়ের বাসার সাথের রাস্তায় গলা উঁচু করে দিনরাত দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যেত। বেশ কিছুদিন পর দেখা যেত বন্ধু আমার বিরস বদনে উপস্থিত,
"সাকিব... ছাইড়া দিছি...
বলাই বাহুল্য সে যে কবে কাকে ধরল, আর কবে কাকে ছাড়ল, সেই সম্বন্ধে আজ অবধি কোন মেয়েই কিন্তু জানতে পারেনাই।
আগেই বলেছিলাম মোবাইল ফোন তখন দুর্লভ বস্তু। চিঠির আদান প্রদানই ছিল প্রধাণ মাধ্যম। একদিন দেখি আমার আরেক বন্ধু হুট করেই দোতলা থেকে পাশের তিনতলার বারান্দায় লম্বা কঞ্চি বাড়ায়ে ধরছে। পরে বুঝলাম কঞ্চিটা বাঁশের, তবে বাঁশের ডগায় একটা চিঠিও বাঁধা আছে। পরপর তিনবার মেয়ের মায়ের হাতে বাঁশমামার গুষ্ঠি উদ্ধার হওয়ার পর অবশেষে এক ভরদুপুরে পত্র তাহার মালিকের হাতে ধরা পরল। মালিক তো দেখি মহাখুশি। পরের কয়েকসপ্তাহ এইরকমই চলল। একদিন দেখি বন্ধু খুব খুশি। হাসতে হাসতে বলল, চল মধুমিতায় 'টাইটানিক' দেখে আসি। আমি বললাম তুই তোর বান্ধবীরে নিয়া যা। সে যা বলল তাতে আমি মিনিট পাঁচেক শুধু তাকায়েই থাকতে পারলাম, কিছু আর বলতে পারলাম না!!!
বন্ধুর নাকি টাইটানিক দেখার ব্যাপক শখ। বালিকাকে বলছিল, কিন্তু সে বাসায় ম্যানেজ করতে পারেনাই। এদিকে বন্ধুর কাছে নাকি টাকাও নাই। তাই সে বালিকাকে বলছে দুইটা পাচঁশত টাকার চকচকা নোট পাঠাও তো। তোমার এই স্মৃতি আমি তাবিজ বানায়ে গলায় ঝুলায় রাখব।
বুঝো অবস্থা!!!
যাই হোক। বিকাল নাগাদ বন্ধুকে ঠিকই গলায় তাবিজ ঝুলায়ে, চুল উড়ায়ে রিকশায় রওয়ানা দিতে দেখা গেল।
এখন বাকি থাকল আমার কথা। নিজেই নিজের কথা কিভাবে যে বলি! চাপায়ে বললেও আবার অতি প্রশংসা না হয়ে যায়! আমি বরাবরই ছিলাম অতীব ভদ্রগোছের। ঝামেলামুক্ত জীবনযাপন করতাম। বড়জোর আমি আমার বন্ধুত্রয়ের যাবতীয় গুণাবলীর যোগফল হইতে পারি, এর চাইতে বেশি??? উহু, মরে গেলেও না!!! :/

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

