somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“ ফিরিয়ে দাও আমাদের সংস্কৃতি ”

০৮ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সংস্কৃতির কথা বললেই আমাদের বাংলা ভাষা চোখ মেলে তাকায়। এই বুঝি আবার ফিরে পেলো তার হারানো অস্তিত্ব,স্বাধীকার ! তাহলে সে কি হারিয়ে ফেলেছে তার স্বকীয়তা ? নাকি হারাতে বসেছে তার শেষ অস্তিত্বটুকু ? প্রিয় কবি কাজীনজরুল বলেছেন “গেছে দেশ দুঃখ নাই আবার তোরা মানুষ হ “ প্রিয় কবির কাছে আজ আমাদেরকে সরি বলতে হচ্ছে। তোমার কথায় আজও মানুষ হতে পারলরামনা আমরা। দোষ যে কেবল আমাদের একার তা নয়, আমাদের মানুষ হবার যে যন্ত্র-মন্ত্র সবই রয়েছে আজ অন্য কারো করায়ত্বে। তারা আর কেও নয় আমাদের প্রতিবেশী বন্ধু দেশ ভারতের কথাটাই বার বার সমীক্ষায় এসে যায়। আজ যারা আমাদের সংস্কৃতির উপর কর্তৃত্বের ভাগ বসাতে বসেছে, তাদেরকে বন্ধু বলাটা কতটুকু যৌক্তিক সে প্রশ্নই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সবার মনে। প্রশ্ন ওঠেছে রিমোর্ট কন্ট্রোলের এ যুগে এসেও কি ভাবে আমরা ভিনদেশী সংস্কৃতিকে বাদ দিয়ে নিজস্ব সংস্কৃতিকে অঁকড়ে ধরতে হয়, আমার এ আলোচনা থেকেই সে শিক্ষা আমরা নিতে পারি অথচ যা আমরা করছিনা।
কাঙ্খিত আলোচনার বিষয় ভারতীয় সংস্কৃতি ও চলচ্ছিত্র। যে বিষ আমাদের উপর স্লো মোশানে প্রয়োগ করে আমাদেরকে তিলে তিলে নিঃশেষ করে দিচ্ছে তারা। সমগ্র কলকাতা জুড়ে চলছে আজ মেগা সিরিয়ালের মহা সমারোহ। কখনো ত্রিভূজ কখনো চতুর্ভূজ প্রেম আর পারিবারিক দ্বন্দ্বের কাহিনী নিয়ে তৈরী হচ্ছে এসব সিরিয়াল, যা কেবল আমাদেরকেই বড়ি বানিয়ে খাওয়ানো তাদের উদ্দেশ্য। আসলে তারা দুই বাংলাকে এক করে দেখার কথা বললেও বাস্তব চিত্রটা কিন্তু ভিন্ন। কারন কলকাতার মাটিতে বাংলাদেশের কোন সাংস্কৃতিক অাস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া অবান্তর। অথচ এক সময় কলকাতার চ্যানেলে বাংলা নাটক মানেই ছিলো বাংলাদেশী নাটক। নব্বই এর দশকের জনপ্রিয় সেই সিরিয়াল গুলোর মধ্যে “কোথাও কেউ নেই” অন্যতম। এর কেন্দ্রীয় এবং আলোচিত চরিত্র ছিলো বাকের ভাই। এই চরিত্রটি সারা দেশের মানুষের মনে এমন দাগ কেঠেছিলো যা আজও ভুলতে পারেনি কেউ। এ ছাড়া শংসপ্তক,বারো রকমের মানুষ,অয়োময়, এবং রূপনগর। রূপনগর সিরিয়ালের খালেদ খানের সেই সংলাপ “ছিঃ ছিঃ তোরা এত খারাপ” জনপ্রিয়তার তুঙ্গে আজ সেই সব কাহিনী। এই সব সিরিয়াল বাংলাদেশের চেয়ে তখন ভারতেও কম জনপ্রিয় ছিলোনা। এসব জনপ্রিয় সিরিয়াল দেখার জন্য উদগ্রীব থাকতো কলকাতার মানুষ। রিমোর্ট নিয়ে তাদের পরিবারেও চলতো তখন এক মহাযুদ্ধ। যা চলছে এখন তাদের সিরিয়াল নিয়ে আমাদের পরিবারে। “বোঝেনা সে বোঝেনা” “চোখের তারায় তুই”কিরণ মালা”বধূবরন” “কে আপন কে পর” এই সিরিয়ালটির বড় বউ তন্দ্রার চরিত্রের কুটনামী, দ্বন্দ্ আর বিষ ঢেলে দিয়েছে আমাদের সমাজ- পরিবারে। বাচ্ছারাও এখন সন্ধা হলেই তাদের মায়েদের সাথে পড়ার টেবিল ছেড়ে গিয়ে বসে ভারতীয় সিরিয়াল দেখতে।
২০১৩ সালের আন্তর্জাতিক গবেষনা সংস্থার তথ্য মতে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের কাছেই অতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভারতীয় চ্যানেল স্টার জলসা,এবং জি বাংলা। আসলে ইন্ডিয়াকে দোষ দিয়ে কি লাভ বেসিকিলি ? তারাতো জোর করে চাপিয়ে দেয়নি আমাদের উপর ! যেখানে আমাদের একটি চ্যানেলও চলেনা ইন্ডিয়াতে সেখানে তাদের চল্লিশটা চ্যানেল চলছে আমাদের দেশে, বাট হোয়াই ? হাউ ইট পসিভবল ? তাহলে এটা কি আমাদের রাষ্ট্রীয় পলিসির ত্রুটি ? নাকি আমাদের নির্মাতের অদক্ষতা ? নাকি অন্য কোথাও, সে প্রশ্নটা রয়ে গেলো। আসলে আমাদের নির্মাতারাও তাদের কাছে একটি আদর্শ মডেল হতে পারতো,কিন্তু পারছেনা কারন তরবারীটা তাদের হাতে। তাই ঘটনাটা ঘটছে এখন উল্টো । কারন ভারতীয় সিরিয়ালের অদ্ভুত সব কাল্পনিক চরিত্র গুলো কেবল এ দেশের মানুষের মনই কাড়েনি কেড়েছে প্রানও। ঘরে ঘরে অহরহ চলছে এখন পারিবারিক অশান্তি আর দ্বন্দ্ব। এসব অশান্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে প্রতিনিয়ত। এটাকে রোধ করতে হবে এখুনি আর ফিরিয়ে আনতে হবে আমাদের সংস্কৃতিকে।

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১০:৫৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঘুমিয়ে আছে কারা

লিখেছেন আরমান আরজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৫




এখানে ঘুমিয়ে আছে কে?
আমি তো দেখছি সবাই জেগে
চাঁদ সূর্য হতে শুরু করে এ্যমাজন বনের অদ্ভুত প্রজাপতিটিও
ভিনগ্রহের শত বছর আয়ুর বাসিন্দারা
প্রতিটি ধূলিকণা এমনকি অদৃশ্য পবনও
গভীর সায়রের মৎস্যকন্যা হতে শুরু করে বিস্তৃত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত! বহুবার বলেছি, যারা আমার সাথে আছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন। সরকার যে কোন সিধান্ত দেবার আগে তার হাতে গবেষণা পত্র (কোন শিক্ষক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জলরেখার নীচে

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫১

পৃথিবী প্রতিদিন একটি নতুন উচ্চতা আবিষ্কার করে।
কোনো জানালায় আলো জ্বলে,
কোথাও কাচের গায়ে সাঁটা হয় আরেকটি সাফল্যের বিকেল।
সিঁড়িগুলো মানুষের পদচিহ্নে মসৃণ হতে থাকে।

আমি দূর থেকে দেখি—
যেন আমার চোখই কেবল যাত্রা করে,
শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মান্তরের ক্ষুধা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:০৮




ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, সেই সাথে গুমোট আকাশ। মেঘাচ্ছন্ন  আবহ । একটানা টুপটাপ আওয়াজ ছাড়া চারদিক সুনসান।বৃষ্টি তার ক্লান্তি কাটাতে  যেই একটু থমকে দাঁড়িয়েছে অমনি বুনো শালিকেরা নেমে এলো খাবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×