somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্মান্ধ ঘাটে পিরীতির মাখামাখি ( বিবেক চক্রবর্ত্তী )

৩০ শে মে, ২০১৪ সকাল ১১:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি গোলাপ ফুলের কাছে যেতে চাই। সু-গন্ধের কাছে মাথা নত করি। রসগোল্লা দর্শনে জিভে আমার জল আসে। ব্যক্তি কিংবা বস্তুর সোন্দর্য আমায় উৎফুল্ল করে।এ সব আমার চরিত্রের স্বচ্ছতা নষ্ট করে কিনা ভেবে,মনোবিজ্ঞানির শরণাপন্ন হই। তিনি আমায় প্রশ্ন করেন-আপনি কি গোলাপের গন্ধ আকর্ষনে গোলাপ বন্দনায় নিশি জেগে থাকেন ? সু-গন্ধ পছন্দ বলে সেন্টের বালতি গলায় নিয়ে ঘোরেন ? সোন্দর্য বিরহে গলায় কলসি বেঁধে জলাশয়ে গমন করেন ? উওরে একবাক্যে বলি-না, এতটা বাড়াবাড়ি আমার নেই। মনোবিজ্ঞানি বলেন-তবে আর ভয় কিসের ? আমি আবারো বল্লাম-তাহলে এ সব যে হচ্ছে ! তিনি বল্লেন -এগুলো মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি।এ সব কম-বেশি সবার মাঝেই থাকে।পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারিনি বলে-আবারো বল্লাম, ক্ষমতাবান হতে ইচ্ছে করে।দেশের নেতৃত্ব দিতে মন চায়। অর্থ-সম্পদের মালিক হতে চাই। আর প্রয়োজনে এ সব কিছুর জন্যে শক্তিধর মোড়ল শ্রেণির ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্রের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা কী অপরাধ ? স্বার্থ বাগিয়ে আনতে আদাব-সালাম দেওয়া কি অপরাধ ? তিনি বল্লেন- না,তা ঠিক গুরুতর কোন অপরাধ নয়। তবে তা হতে হবে-সৎ উদ্দেশ্য রেখে,ব্যক্তিত্ব অক্ষুন্ন রেখে পরিবার,সমাজ,রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের জনগণের মর্যাদাকে ধূলিস্মাৎ না করে । আমি আশ্বস্ত হলাম। দুদিন বাদে চা পান করতে-করতে পত্রিকা পড়ছি। লক্ষ্য করলাম,পত্রিকার সারা গাত্র মোদি বন্দনায় আবৃত। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও । মোদিকে সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অভিনন্দন .....ইত্যাদি । পররাষ্ট্রনীতি বা কুটনৈতিক সভ্যতার বিচারে অভিন্দন জানানোর মাহাত্মটি বোধগম্য হতে আমার খুব বেশি কষ্ট হলো না। কিন্ত , দেশের প্রতিষ্ঠিত কিছু রাজনৈতিক দলের মোদি উন্মাদনার বিষয়টি আমার কাছে পরিস্কার ভাবে প্রতিভাত হলো না। দেখা গেল নির্বাচিত হবার পূর্বেই মোদিকে দূতাবাসের মাধ্যমে টেলিফোনিক অভিনন্দন ও দেশ-বিদেশ থেকে কয়েক বস্তা দয়া প্রার্থনার পাহাড় পরিমান কান্নাকাটি ! বলা হলো-আমন্ত্রনের অপেক্ষায় আছি, আপনাদের সাথে ধর্মান্ধ (ধর্ম পুঁজি করে রাজনীতি) ঘাটের তীরে বহু পূর্ব থেকেই আমাদের পিরীতির মাখামাখি । আরু কত কি.....! অর্থাৎ উন্মাদনা একবারে চরম পর্যায়ে । মুখে কসটেপ না চাপলে-উন্মাদনার জ্বরের প্রলাপে হয়তো বলে বসবেন,আমন্ত্রন নিস্প্রয়োজন-আমি নিজেই আসছি-প্লিজ একটু দেখা দিন ! .....প্রকৃতার্থে এসব মিনতি, দল ও দেশের স্বার্থে নয় বরং ব্যক্তি স্বার্থ,অস্তিত্ব,অহংকার ও প্রতিশোধ নেবার অপকৌশল মাত্র। আর তাই যদি সত্য হয়,তবে প্রশ্ন থেকে যায়-এতে স্বার্থ রক্ষা হবে তো ? মনে রাখা দরকার,২১ মে শপথ নেবার কথা থাকলেও মোদি সেদিন শপথ নেননি । কারণ, ঐ দিন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজিব গান্ধীর মৃত্য দিবস বলে সম্মান জানালেন । সুতরাং, কংগ্রেস বন্ধুদের মোদি কবর রচনা করবেন এমন ভাবনাটি. ঐ উন্মাদনারই বাস্তবতা । এছাড়াও আমাদের লীগ কিংবা দলের অতীত কর্মকান্ড মোদির অজানা নয়।কারন, তিনি অন্য কোন গ্রহ থেকে অবতরণ করেননি বরং গুজরাট থেকে দিল্লি এসেছেন মাত্র । যা হউক,মনে রাখা দরকার -আমরা শেরেবাংলা,ভাসানি,বঙ্গবন্ধু ,ওসমানি,জিয়া কিংবা কবি নজরুলের আশির্বাদপুষ্ট সোনার বাংলার বীর বাঙ্গালি । বিদ্রোহী কবি নজরুলের ভাষায়, বাঙ্গালির উন্নত শীর । রাজনৈতিক দলের উন্মাদপূর্ণ দেউলিয়াপনায় বাঙ্গালি জাতি আজ ফেল করা ছাত্রের ন্যায় লজ্জিত। লজ্জায় জাতির লাল বর্ণের মুখমন্ডল যেন কালসে হয়ে আছে । লক্ষ-কোটি মুখে জনতার তিরস্কারেও রাজনৈতিক দলগুলোর যেন অপমান বোধ হয় না। তাই দল গুলোর চরিত্রের সাথে মিলিয়ে কবিতাকারে দুটো লাইন বলছি... ‍শশ্মাণে চিতা-কাষ্ঠে,মায়ের দেহে জ্বলছে আগুন, তাই বলে কি আনন্দ ত্যাজিব ? মদের নেশায়,হেলে-দোলে বলছে ছেলে,মাগো আমি যে ডোম । শেষ করতে হচ্ছে বলে -শুধু বলি যে, ভূল-ত্রুটির উর্দ্ধে আমরা কেউ নই। আসুন,সকলে মিলে সম্মান.মর্যাদা রক্ষার আমল করি । এমন বাক্য না বলি-যাতে জাতি লজ্জায় কালসে লাল বর্ণ ধারণ করে ।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০১৪ রাত ১১:৩৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিনাকী ভট্টাচার্য কেন দেশে আসে না, জানেন?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯


Pinaki Bhattacharya - পিনাকী ভট্টাচার্য তিনিঞ্চি কেন দেশে আসে না জানেন? তার পাসপোর্টই তাকে সে অনুমতি দেয় না। Meghna Alam থেকে প্রাপ্ত এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার পাসপোর্টে স্পষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের সেই এন্টিনিয়ার।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৮

কিছু স্বপ্ন, কিছু স্মৃতি এবং নানীর বাড়ি



আমি বেশ কিছুদিন ধরে একটি বিশেষ ধরনের স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্নের কথায় যাওয়ার আগে কিছু পেছনের গল্প বলা প্রয়োজন।

ক্লাস নাইনে পড়ার সময় থেকে অনার্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×